০৮:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

খেলার মাঠে আশ্রয়ণের ঘর চায় না গ্রামবাসী

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ০৭:২৫:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ অগাস্ট ২০২২
  • / ১০৩৯৫ বার দেখা হয়েছে

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বলদীপাড়া-হলদীঘর গ্রামের শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী খেলার মাঠে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণ কেন্দ্র করে প্রশাসনের লোকজনের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) লিয়াকত সালমান ও স্থানীয় নারী-শিশুসহ অন্তত ৬ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

উপজেলার বলদীপাড়া-হলদীঘর গ্রামের শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী খেলার মাঠে আশ্রয়ণ প্রকল্পের স্থান নির্ধারণ করায় গ্রামবাসী আগে থেকেই প্রতিবাদ করে বিক্ষোভ, মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

এ সময় শত শত গ্রামবাসীর বাধার সম্মুখে প্রশাসন পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। রোববার (২১ আগস্ট) দুপুর ১১টার দিকে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণের জন্য প্রস্তাবিত জায়গা ঐতিহ্যবাহী বলদিপাড়া-হলদিঘর খেলার মাঠে মাটি ভরাটের উদ্দেশ্যে প্রশাসন গেলে স্থানীয়দের বাধার সম্মুখীন হয়। মাঠ রক্ষায় গ্রামবাসী প্রবেশপথে গাছের গুঁড়ি ও বাঁশ দিয়ে বেরিকেড তৈরি করে।

পরে বেরিকেড উপেক্ষা করে প্রশাসন প্রবেশ করতে চাইলে গ্রামবাসীর সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে শাহজাদপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) লিয়াকত সালমান মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হন। এ সময় স্থানীয় পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী সুমাইয়া খাতুন (১০), মনিজা খাতুন (৩০), আলেয়া (৪০), ওজুফা খাতুন (৩৫), মরিয়ম বেগমসহ (৫০) অন্তত ৬ জন আহত হন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

সরেজমিনে গেলে নাসরিন খাতুন, বিকেএসপির নিয়মিত খেলোয়াড় নয়ন তারা, রত্না খাতুন, জয়গন বেগম, আকবর মন্ডল, আব্দুল হাইসহ মাঠ রক্ষায় আন্দোলনকারীরা জানায়, কয়েক গ্রামের একমাত্র খেলার মাঠটি রক্ষায় আশপাশের ছয়টি গ্রামের হাজারো নারী-পুরুষ ১৪ জুলাই মানববন্ধন করে।

‘মানববন্ধন থেকে প্রশাসনকে অনুরোধ করা হয়, খেলার মাঠ রক্ষা করে অন্যত্র যেন সরকারি ঘর নির্মাণ করা হয়। কিন্তু জনগণের যৌক্তিক দাবি অস্বীকার করে প্রশাসন জোর করে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণ করতে আজ মাটি ভরাটের উদ্দেশ্যে এসে নারী ও শিশুদের উপর আঘাত করে। পরে উপস্থিত জনতা রাস্তার বালু চোখে-মুখে নিক্ষেপ করে প্রতিরোধের চেষ্টা করে তাদের।’

অপরদিকে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম জানান, ‘আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণের জন্য সকালে আমি ও সহকারী কমিশনার লিয়াকত সালমান কায়েমপুর ইউনিয়নের বলদিপাড়া-হলদিঘরে সরেজমিন পরিদর্শনে যাই। এ সময় সেখানে এলাকার কিছু যুবক-নারীরা পথরোধ করেন।’

‘একপর্যায়ে পেছন থেকে অতর্কিত হামলা চালিয়ে আমার গাড়ি ভাঙচুর করে এবং ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে সহকারী কমিশনারের মাথা ফেটে যায়। দ্রুত সহকারী কমিশনারকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।’ যোগ করেন তিনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. মাসুদ রানা জানান, শাহজাদপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) লিয়াকত সালমানের আঘাত বেশ গুরুতর। তার মাথায় ৮টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহজাদপুরের বাইরে থাকায় এখনও কোনো মামলা হয়নি। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

ঢাকা/এসএ

শেয়ার করুন

খেলার মাঠে আশ্রয়ণের ঘর চায় না গ্রামবাসী

আপডেট: ০৭:২৫:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ অগাস্ট ২০২২

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বলদীপাড়া-হলদীঘর গ্রামের শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী খেলার মাঠে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণ কেন্দ্র করে প্রশাসনের লোকজনের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) লিয়াকত সালমান ও স্থানীয় নারী-শিশুসহ অন্তত ৬ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

উপজেলার বলদীপাড়া-হলদীঘর গ্রামের শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী খেলার মাঠে আশ্রয়ণ প্রকল্পের স্থান নির্ধারণ করায় গ্রামবাসী আগে থেকেই প্রতিবাদ করে বিক্ষোভ, মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

এ সময় শত শত গ্রামবাসীর বাধার সম্মুখে প্রশাসন পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। রোববার (২১ আগস্ট) দুপুর ১১টার দিকে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণের জন্য প্রস্তাবিত জায়গা ঐতিহ্যবাহী বলদিপাড়া-হলদিঘর খেলার মাঠে মাটি ভরাটের উদ্দেশ্যে প্রশাসন গেলে স্থানীয়দের বাধার সম্মুখীন হয়। মাঠ রক্ষায় গ্রামবাসী প্রবেশপথে গাছের গুঁড়ি ও বাঁশ দিয়ে বেরিকেড তৈরি করে।

পরে বেরিকেড উপেক্ষা করে প্রশাসন প্রবেশ করতে চাইলে গ্রামবাসীর সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে শাহজাদপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) লিয়াকত সালমান মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হন। এ সময় স্থানীয় পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী সুমাইয়া খাতুন (১০), মনিজা খাতুন (৩০), আলেয়া (৪০), ওজুফা খাতুন (৩৫), মরিয়ম বেগমসহ (৫০) অন্তত ৬ জন আহত হন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

সরেজমিনে গেলে নাসরিন খাতুন, বিকেএসপির নিয়মিত খেলোয়াড় নয়ন তারা, রত্না খাতুন, জয়গন বেগম, আকবর মন্ডল, আব্দুল হাইসহ মাঠ রক্ষায় আন্দোলনকারীরা জানায়, কয়েক গ্রামের একমাত্র খেলার মাঠটি রক্ষায় আশপাশের ছয়টি গ্রামের হাজারো নারী-পুরুষ ১৪ জুলাই মানববন্ধন করে।

‘মানববন্ধন থেকে প্রশাসনকে অনুরোধ করা হয়, খেলার মাঠ রক্ষা করে অন্যত্র যেন সরকারি ঘর নির্মাণ করা হয়। কিন্তু জনগণের যৌক্তিক দাবি অস্বীকার করে প্রশাসন জোর করে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণ করতে আজ মাটি ভরাটের উদ্দেশ্যে এসে নারী ও শিশুদের উপর আঘাত করে। পরে উপস্থিত জনতা রাস্তার বালু চোখে-মুখে নিক্ষেপ করে প্রতিরোধের চেষ্টা করে তাদের।’

অপরদিকে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম জানান, ‘আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণের জন্য সকালে আমি ও সহকারী কমিশনার লিয়াকত সালমান কায়েমপুর ইউনিয়নের বলদিপাড়া-হলদিঘরে সরেজমিন পরিদর্শনে যাই। এ সময় সেখানে এলাকার কিছু যুবক-নারীরা পথরোধ করেন।’

‘একপর্যায়ে পেছন থেকে অতর্কিত হামলা চালিয়ে আমার গাড়ি ভাঙচুর করে এবং ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে সহকারী কমিশনারের মাথা ফেটে যায়। দ্রুত সহকারী কমিশনারকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।’ যোগ করেন তিনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. মাসুদ রানা জানান, শাহজাদপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) লিয়াকত সালমানের আঘাত বেশ গুরুতর। তার মাথায় ৮টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহজাদপুরের বাইরে থাকায় এখনও কোনো মামলা হয়নি। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

ঢাকা/এসএ