ইমরান কি জেলে যাচ্ছেন
- আপডেট: ১১:১১:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ অগাস্ট ২০২২
- / ১০৪৫৪ বার দেখা হয়েছে
বিজনেস জার্নাল ডেস্ক: পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) চেয়ারম্যান ও দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ায় দেশটিতে রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ আরেক ধাপ বেড়েছে। জনসমাবেশে ‘অভিযোগমূলক’ মন্তব্য করায় পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা করেছে।
মামলা হওয়ায় ইমরানের সামনে কী ঘটছে তা নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। তবে কি ইমরানকে কারাভোগ করতে হচ্ছে- এখন সেটি দেখার বিষয়। এ নিয়ে বিশ্নেষণমূলক এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আলজাজিরা।
অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুক–টুইটার–লিংকডইন–ইন্সটাগ্রাম–ইউটিউব
সিন্ধু হাইকোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি শাইক উসমানি বলেন, ইমরান খানের ছয় মাসের কারাদণ্ড হতে পারে। সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সোমবার জিও নিউজের এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি আরও বলেন, এ মামলায় যদি ইমরান দোষী সাব্যস্ত হন, তাহলে আগামী পাঁচ বছর তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অযোগ্য ঘোষিত হবেন।
মামলার বিষয়ে ইমরান এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। তাঁর আইনজীবীরা সোমবার ইসলামাবাদ হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেন। আদালত তাঁকে আজ বৃহস্পতিবার নাগাদ অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন। এ দিন তিনি রাজধানীর এ আদালতে হাজির হতে পারেন।
পিটিআই চেয়ারম্যানের চিফ অব স্টাফ শাহবাজ গিলকে গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে নির্যাতনের অভিযোগে গত শনিবার সন্ধ্যায় ইসলামাবাদে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে দলটি। সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে ইমরান রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাদের ‘হুমকি’ ও তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
সমাবেশে ইমরান বলেন, ‘হেফাজতে নিয়ে গিলকে নির্যাতন করেছে পুলিশ। আমি যখন ইসলামাবাদ পুলিশকে জিজ্ঞাসা করলাম, গিলের সঙ্গে তোমরা কী করেছ আমাকে বলো। আমাকে বলা হলো, আমরা কিছু করিনি।’ আমাদের আদেশ মানতে বাধ্য করা হয়েছে; বলেন ইমরান। তাঁর মন্তব্যের নিন্দা জানিয়েছে ইসলামাবাদ পুলিশ। কেউ পুলিশকে হুমকি দিলে এবং মিথ্যা অভিযোগ করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তাঁরা।
গত রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রানা সানাউল্লাহ বলেন, ‘উস্কানিমূলক বক্তব্য’ দেওয়ায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করার বিকল্পগুলো খতিয়ে দেখছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় রাতে তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে এজাহার দেয় পুলিশ।
ম্যাজিস্ট্রেট আলি জাভেদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে ইমরানের বিরুদ্ধে এজাহার দেয় পুলিশ। তিনি শনিবারের ওই সমাবেশে ছিলেন বলে দাবি করেন। জাভেদ বলেন, তিনি ইমরান খানকে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও এক বিচারকের সমালোচনা করতে শুনেছেন।
নতুন এ অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে ইমরানের কয়েক বছর কারাদণ্ড হতে পারে। দেশটির রাষ্ট্রদ্রোহ আইনের অধীন পুলিশ কর্মকর্তাদের ও বিচারককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আইনের ধারাবাহিকতায় এ আইন করা হয়েছে।
পার্লামেন্টে আনা অনাস্থা প্রস্তাবে হেরে গত এপ্রিলে ক্ষমতাচ্যুত হন ইমরান খান। এরপর থেকে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে একের পর এক সমাবেশ করে যাচ্ছেন তিনি। এসব সমাবেশে নিজের রাজনৈতিক বিরোধী, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, পুলিশ, বিশেষ করে কথিত ‘নিরপেক্ষদের’ নিয়ে বিস্ম্ফোরক মন্তব্য করেন ইমরান।
ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ হায়দার রসুলের মতে, সন্ত্রাস দমন আইনে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে বৃহস্পতিবার অবশ্যই আদালতে হাজির হতে হবে। শুধু মেরিট (আইনি গ্রহণযোগ্যতা) বিবেচনায় মামলাটি খারিজ করা যাবে না। তাঁকে আদালতে হাজির হতে হবে, তাঁর জামিনসংক্রান্ত বন্ড জমা দিতে হবে। খুব সম্ভবত তাঁকে আরও কয়েক দিনের অতিরিক্ত জামিন দেওয়া হবে। আদালত জামিন আবেদন প্রত্যাখ্যান করলে আনুষ্ঠানিকভাবে ইমরানকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। ইমরানের আইনজীবী ফায়সাল ফরিদ চৌধুরী বলেন, এজাহারটি তাৎক্ষণিক খারিজ করে দেওয়া হবে। কারণ, এটি সুপ্রিম কোর্টের বিগত আদেশগুলোর
সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
ইমরান সরকারকে উৎখাতের ঘটনায় বিপুলসংখ্যক মানুষ অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। তাই তাঁকে গ্রেপ্তার করলে দেশটিতে অনিশ্চয়তা ও অস্থিতিশীলতা বেড়ে যাবে, যা পাকিস্তানকে অর্থনৈতিকভাবে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেবে।
ঢাকা/এসএম









































