০৮:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

অনেক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে শুল্ক সুবিধার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে: এনবিআর চেয়ারম্যান

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ০৬:০৪:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১০২২০ বার দেখা হয়েছে

শুল্ক সুবিধার অপব্যবহার নিয়ে অনেক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। তিনি বলেন, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে কর সুবিধা নিয়ে পণ্য আমদানি করা হলেও তা অনেক ক্ষেত্রে বাসাবাড়িতে ব্যবহার হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা এখন এমন ধারণা নিয়ে চলছেন যে হক হালালি ব্যবসা করা সম্ভব নয়, এই মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে আগারগাঁওয়ে এনবিআর সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রাক বাজেট আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় এনবিআরের শীর্ষ কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ ইলেকট্রিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিইএ) পক্ষ থেকে এ এইচ ইলেকট্রিক কোম্পানির মালিক হারেস মোহাম্মদ বলেন, হাউজহোল্ড সুইচ ও সকেট আমদানি হলেও লিমিট সুইচ ও সিলেক্টরের মতো শিল্পে ব্যবহৃত পণ্যও একইভাবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। তিনি বলেন, বাসাবাড়ির সুইচের ওপর ২০ শতাংশ এসডি রয়েছে, কিন্তু শিল্পে ব্যবহৃত পণ্যের ক্ষেত্রে একই শুল্ক কাঠামো যৌক্তিক নয়।

জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, এইচএস কোড যত বেশি ভাগ করা হয় এবং শুল্ক হার ভিন্ন হয়, তত বেশি অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়। একাধিক হার থাকলে অনিয়ম বাড়ে। তিনি বলেন, অনেক সময় বাণিজ্যিক পণ্য কম শুল্কে এনে পরে বাসাবাড়িতে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীরা যেন মনে করেন হক হালালি ব্যবসা করা যাবে না, এই ধারণা পরিবর্তন করতে হবে। শুল্কহার যৌক্তিক করা হবে, তবে ব্যবসায়ীদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে।

হারেস মোহাম্মদ বলেন, মিস ডিক্লারেশনের কারণে সৎ ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। পাঁচ বছর আগে ২০০ থেকে ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা ছিল, এখন তার বাস্তব প্রয়োগ কমে গেছে। তিনি বলেন, শুধু আমদানিকারক নয়, আরও বড় একটি অংশও এর সঙ্গে জড়িত, যা ওপেন সিক্রেট।

তিনি আরও দাবি করেন, মিস ডিক্লারেশন নিয়ন্ত্রণ করা গেলে আমদানি পর্যায়ে রাজস্ব প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

প্রাক বাজেট আলোচনায় বাংলাদেশ ইলেকট্রিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিইএ), বাংলাদেশ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রান্সফরমার্স অ্যান্ড সুইচগিয়ারস (বিএমএটিএস), বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআরইএ), বাংলাদেশ অ্যালুমিনিয়াম ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বামা), অ্যাক্যুমুলেটর ব্যাটারি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এবিএমইএবি) এবং বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ) বিভিন্ন শুল্ক ও ভ্যাট হ্রাসের প্রস্তাব দেয়।

এছাড়া বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি হাতে তৈরি বিস্কুট ও কেককে অব্যাহতির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানায়।

ঢাকা/এসএইচ

শেয়ার করুন

অনেক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে শুল্ক সুবিধার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে: এনবিআর চেয়ারম্যান

আপডেট: ০৬:০৪:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

শুল্ক সুবিধার অপব্যবহার নিয়ে অনেক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। তিনি বলেন, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে কর সুবিধা নিয়ে পণ্য আমদানি করা হলেও তা অনেক ক্ষেত্রে বাসাবাড়িতে ব্যবহার হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা এখন এমন ধারণা নিয়ে চলছেন যে হক হালালি ব্যবসা করা সম্ভব নয়, এই মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে আগারগাঁওয়ে এনবিআর সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রাক বাজেট আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় এনবিআরের শীর্ষ কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ ইলেকট্রিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিইএ) পক্ষ থেকে এ এইচ ইলেকট্রিক কোম্পানির মালিক হারেস মোহাম্মদ বলেন, হাউজহোল্ড সুইচ ও সকেট আমদানি হলেও লিমিট সুইচ ও সিলেক্টরের মতো শিল্পে ব্যবহৃত পণ্যও একইভাবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। তিনি বলেন, বাসাবাড়ির সুইচের ওপর ২০ শতাংশ এসডি রয়েছে, কিন্তু শিল্পে ব্যবহৃত পণ্যের ক্ষেত্রে একই শুল্ক কাঠামো যৌক্তিক নয়।

জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, এইচএস কোড যত বেশি ভাগ করা হয় এবং শুল্ক হার ভিন্ন হয়, তত বেশি অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়। একাধিক হার থাকলে অনিয়ম বাড়ে। তিনি বলেন, অনেক সময় বাণিজ্যিক পণ্য কম শুল্কে এনে পরে বাসাবাড়িতে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীরা যেন মনে করেন হক হালালি ব্যবসা করা যাবে না, এই ধারণা পরিবর্তন করতে হবে। শুল্কহার যৌক্তিক করা হবে, তবে ব্যবসায়ীদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে।

হারেস মোহাম্মদ বলেন, মিস ডিক্লারেশনের কারণে সৎ ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। পাঁচ বছর আগে ২০০ থেকে ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা ছিল, এখন তার বাস্তব প্রয়োগ কমে গেছে। তিনি বলেন, শুধু আমদানিকারক নয়, আরও বড় একটি অংশও এর সঙ্গে জড়িত, যা ওপেন সিক্রেট।

তিনি আরও দাবি করেন, মিস ডিক্লারেশন নিয়ন্ত্রণ করা গেলে আমদানি পর্যায়ে রাজস্ব প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

প্রাক বাজেট আলোচনায় বাংলাদেশ ইলেকট্রিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিইএ), বাংলাদেশ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রান্সফরমার্স অ্যান্ড সুইচগিয়ারস (বিএমএটিএস), বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআরইএ), বাংলাদেশ অ্যালুমিনিয়াম ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বামা), অ্যাক্যুমুলেটর ব্যাটারি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এবিএমইএবি) এবং বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ) বিভিন্ন শুল্ক ও ভ্যাট হ্রাসের প্রস্তাব দেয়।

এছাড়া বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি হাতে তৈরি বিস্কুট ও কেককে অব্যাহতির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানায়।

ঢাকা/এসএইচ