০১:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

৫ ব্যাংক থেকে চার কোটি ডলার কিনল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ০৭:৪২:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
  • / ১০২৫৮ বার দেখা হয়েছে

ফাইল ফটো

প্রবাসী আয়ের সঙ্গে রপ্তানি প্রবাহ বাড়ায় বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে। এতে মুদ্রাটির দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বাজার স্থিতিশীল রাখতে ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনছে আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ৫টি ব্যাংক থেকে ৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত এ ক্রয়ে ডলারের এক্সচেঞ্জ রেট ছিল প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা।

সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২৬) এখন পর্যন্ত বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৫৮৮ কোটি মার্কিন ডলার (৫ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন ডলার) কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এসব তথ্য নিশ্চিত ক‌রে‌ছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, ডলারের দাম কমে গেলে রপ্তানিকারক ও রেমিট্যান্স পাঠানো প্রবাসীরা অনুৎসাহী হয়ে পড়তে পারেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপ মূলত বাজারে ডলারে দাম একটি নির্দিষ্ট সীমার নিচে নামতে না দেওয়ার ইঙ্গিত।

গত কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কেনা-বেচা করে আসছে। এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বড় অঙ্কের ডলার বিক্রি করলেও চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে ধীরে ধীরে ক্রয়ের মাধ্যমে রিজার্ভে চাপ কমানোর চেষ্টা করছে। আজকের কেনাকাটার ফলে রিজার্ভ কিছুটা শক্তিশালী হবে বলে আশা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এমপিএ পদ্ধতিতে ডলার কেনা-বেচার ফলে একটি স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক দাম নির্ধারণ সম্ভব হয়, যা ব্যাংকগুলোর জন্যও ইতিবাচক। তবে তারা মনে করছেন, ডলার বাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা আনতে আমদানি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রপ্তানি ও রেমিট্যান্স প্রবাহ আরো বাড়ানো দরকার।

রিজার্ভের চাপ ও বৈদেশিক লেনদেন ঘাটতির কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিটি পদক্ষেপ এখন বাজারে বড় প্রভাব ফেলছে। তাই এই ধরনের হস্তক্ষেপ বাজারে আস্থা ফেরাতে সহায়ক হতে পারে বলছেন বিশ্লেষকেরা।

ঢাকা/এসএইচ

শেয়ার করুন

error: Content is protected ! Please Don't Try!

৫ ব্যাংক থেকে চার কোটি ডলার কিনল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

আপডেট: ০৭:৪২:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

প্রবাসী আয়ের সঙ্গে রপ্তানি প্রবাহ বাড়ায় বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে। এতে মুদ্রাটির দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বাজার স্থিতিশীল রাখতে ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনছে আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ৫টি ব্যাংক থেকে ৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত এ ক্রয়ে ডলারের এক্সচেঞ্জ রেট ছিল প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা।

সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২৬) এখন পর্যন্ত বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৫৮৮ কোটি মার্কিন ডলার (৫ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন ডলার) কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এসব তথ্য নিশ্চিত ক‌রে‌ছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, ডলারের দাম কমে গেলে রপ্তানিকারক ও রেমিট্যান্স পাঠানো প্রবাসীরা অনুৎসাহী হয়ে পড়তে পারেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপ মূলত বাজারে ডলারে দাম একটি নির্দিষ্ট সীমার নিচে নামতে না দেওয়ার ইঙ্গিত।

গত কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কেনা-বেচা করে আসছে। এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বড় অঙ্কের ডলার বিক্রি করলেও চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে ধীরে ধীরে ক্রয়ের মাধ্যমে রিজার্ভে চাপ কমানোর চেষ্টা করছে। আজকের কেনাকাটার ফলে রিজার্ভ কিছুটা শক্তিশালী হবে বলে আশা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এমপিএ পদ্ধতিতে ডলার কেনা-বেচার ফলে একটি স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক দাম নির্ধারণ সম্ভব হয়, যা ব্যাংকগুলোর জন্যও ইতিবাচক। তবে তারা মনে করছেন, ডলার বাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা আনতে আমদানি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রপ্তানি ও রেমিট্যান্স প্রবাহ আরো বাড়ানো দরকার।

রিজার্ভের চাপ ও বৈদেশিক লেনদেন ঘাটতির কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিটি পদক্ষেপ এখন বাজারে বড় প্রভাব ফেলছে। তাই এই ধরনের হস্তক্ষেপ বাজারে আস্থা ফেরাতে সহায়ক হতে পারে বলছেন বিশ্লেষকেরা।

ঢাকা/এসএইচ