০৭:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর সমঝোতা দরকারঃ সিইসি

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ০৭:০০:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২২
  • / ১০৩১৪ বার দেখা হয়েছে

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো সমঝোতায় আসবে বলে আশা করছেন নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

তিনি বলেন, ‘আমরা অনুনয়-বিনয় করব, আপনারা নিজেদের মধ্যে সমঝোতা সৃষ্টি করেন। একটা চুক্তিবদ্ধ হন, যে নির্বাচনটা সুন্দরভাবে পরিচালনা করবেন। ওখানে সহিংসতা থাকবে না। কেউ কাউকে বাধা দেবে না।’

শপথ নেওয়ার পরদিন সোমবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে এসে দায়িত্ব বুঝে নেন নতুন নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন সিইসি হাবিবুল আউয়াল। চার নির্বাচন কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীর ও আনিছুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ রাশেদা সুলতানা এমিলি এবং অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহসান হাবীব খানও এ সময় তার পাশে ছিলেন।

হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘রাজনৈতিক নেতৃত্বের যে দায়িত্বটা রয়েছে, সেটা যদি শেয়ার না করেন, তাহলে নির্বাচন কমিশন এককভাবে যে কাজ করবে সেখানে সীমাবদ্ধতা দেখা দেবে। আমাদের দায়িত্ব আছে, রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছে আবদার করা, বিনয় করা, অনুনয় করা। রাজনৈতিক নেতৃত্বকে আমরা সহযোগিতা করব। রাজনৈতিক নেতৃত্ব যদি রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সহায়তা না করে, পলিটিক্যাল লিডারশিপের যদি ন্যূনতম সমঝোতা না থাকে, আমি তো তাদের মুরুব্বি হতে পারব না। উনারা আমাদের চেয়ে অনেক বেশি জ্ঞানী, অনেক বেশি অভিজ্ঞ।’

সার্চ কমিটির সুপারিশে রাষ্ট্রপতি নতুন সিইসি হিসেবে হাবিবুল আউয়ালকে চূড়ান্ত করার পর তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, সব দোষ নির্বাচন কমিশনকে দিলে তিনি তা মানবেন না।

দায়িত্ব নেওয়ার দিন তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো যদি নির্বাচনকে অর্থবহ করার জন্য স্ব স্ব অবস্থান থেকে করণীয় না করেন, উনারা নিজেদেরকে প্রশ্ন করবেন, নাকি আমাদের প্রশ্নবিদ্ধ করবেন? তাহলে আমি সবিনয়ে বলব, আমাদের ক্ষমা করবেন। আপনাদের কিছু যদি ব্যর্থতা থাকে. তবে সেটাও স্বীকার করুন। সবাই যেন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা রিস্টোর করুন। একটা ভালো সংসদ উপহার দিতে চেষ্টার ত্রুটি থাকবে না।’

কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন এই নতুন ইসির অধীনেই আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। তবে সে সময় আওয়ামী লীগ যদি ক্ষমতায় থাকে, সেই নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি।

সিইসি বলেন, ‘বিএনপি যদি এমন ঘোষণা দিয়েও থাকে, আমরা কী তাদের চা খাওয়ার আমন্ত্রণ জানাব না? কোনো কথাই শেষ কথাই নয়।’

হাবিবুল আউয়াল এই সংবাদ সম্মেলনে ভোট আর গণতন্ত্রের প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দূরত্ব কমানোর ওপর জোর দিয়েছেন বার বার।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর নিজেদের মধ্যে একটা সমঝোতা সৃষ্টির চেষ্টা করতে হবে। কেউ কারও সাথে কথা বলব না, মাঠে যুদ্ধ করব। আলোচনা মাধ্যমে দূরত্ব কমে আছে। আমরা যদি মুখ ফিরিয়ে থাকি তাহলে কিন্তু দূরত্ব বাড়তে থাকবে। আলোচনা করতে হবে। কাউকে না কাউকে অহংকার পরিত্যাগ করে আলোচনা করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের শক্তি অসীম নয়।’

নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের ভোট বর্জন প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে ইউক্রেইনে রাশিয়ার আগ্রাসন আর যুদ্ধের চলমান ঘটনাপ্রবাহ থেকে উদাহরণ টানেন সিইসি। 

তিনি বলেন, ‘মাঠ ছেড়ে চলে গেলে হবে না। মাঠে থাকবেন। কষ্ট হবে। জেলেনস্কি (ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট) পালিয়ে যেতে পারতেন। তিনি প্রতিরোধ যুদ্ধ করে যাচ্ছেন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। ধস্তাধস্তি হয়।’

নির্বাচন কমিশনের প্রধান হিসেবে সামর্থ্য, দক্ষতা ও শক্তির সবটুকু দিয়ে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করে যাবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নতুন সিইসি। সেই সঙ্গে অন্য সব পক্ষের সহযোগিতাও তিনি চেয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘মিডিয়া ভালো রোল প্লে করতে পারে। সকলকে সচেতন করার ক্ষেত্রে মিডিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, পরের প্রজন্মের জন্য সুশাসনের দিকে এগিয়ে,সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে একটা সংসদ উপহার দেওয়ার। সকলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে একটি দ্বান্দ্বিক সংসদ গড়ে উঠুক। আমরা সুন্দর নির্বাচনের মাধ্যমে গুড গভর্নেন্স ও ভালো সংসদ গড়ে তোলার চেষ্টা করব। এদিক থেকে আমাদের কোনো কার্পণ্য থাকবে না।’

সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি নতুন কমিশনকে ‘আমলানির্ভর’ আখ্যা দিয়েছে। এ ব্যাপারে হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘আমি কী রাতে গিয়ে ভোটবাক্স চুরি করে ওখানে গিয়ে ভোট দেব? নাকি দেখেও না দেখার মত থাকব। আমি সরকারি কর্মচারী ছিলাম। অতীতে যারা ছিলেন, কে ছিলেন না? কেউ কেউ বলেন, শামসুল হুদা সাহেবের নির্বাচন ভালো ছিল, কেউ বলে সাহাবুদ্দীন সাহেবেরটা ভালো ছিল। এগুলো আপেক্ষিক।’

বিএনপির নির্বাচনকালীন সরকারের দাবি নিয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘নির্বাচন সরকার করে না। নির্বচানের সময় একটা সরকার থাকে। কোনো না কোনো সরকার থাকবেই। ওয়ান-ইলেভেনের সময় ছিল, নির্দলীয় সরকার ছিল। এখন যে সাংবিধানিক ব্যবস্থা আছে, সেটা মেনেই আমরা চেষ্টা করব, ভোটাররা যাতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সেটা বড় চ্যালেঞ্জ।’

সংবাদ সম্মেলনে সিইসি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর কমিশনের প্রথম দিনের বৈঠক ছিল মূলত নিজেদের মধ্যে পরিচিতি পর্ব। কমিশনের কর্মপরিধি সম্পর্কে সচিব আমাদের অবহিত করেছেন। আমরা খুব অভিজ্ঞ নই। আমি একেবারেই নতুন, তবে গণমাধ্যমে নির্বাচনের খবর দেখেছি। নির্বাচন ঘরে বসে পর্যবেক্ষণ করেছি। কিছুটা অস্বচ্ছ হলেও ধারণা আছে।

নির্বাচনকে একটি ‘বিশাল কর্মযজ্ঞ’ হিসেবে বর্ণনা করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলের আগ্রহ থাকে, সবার আবেগ বুঝতে হয়। আমরা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নির্বাচন বিষয়ে দায়িত্ব পালন করব। আমরা কতটা সৎ ছিলাম, দায়িত্ব পালন করেছি, সেটি পরে মূল্যয়ন করতে পারবেন।

ঢাকা/টিএ

শেয়ার করুন

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর সমঝোতা দরকারঃ সিইসি

আপডেট: ০৭:০০:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২২

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো সমঝোতায় আসবে বলে আশা করছেন নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

তিনি বলেন, ‘আমরা অনুনয়-বিনয় করব, আপনারা নিজেদের মধ্যে সমঝোতা সৃষ্টি করেন। একটা চুক্তিবদ্ধ হন, যে নির্বাচনটা সুন্দরভাবে পরিচালনা করবেন। ওখানে সহিংসতা থাকবে না। কেউ কাউকে বাধা দেবে না।’

শপথ নেওয়ার পরদিন সোমবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে এসে দায়িত্ব বুঝে নেন নতুন নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন সিইসি হাবিবুল আউয়াল। চার নির্বাচন কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীর ও আনিছুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ রাশেদা সুলতানা এমিলি এবং অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহসান হাবীব খানও এ সময় তার পাশে ছিলেন।

হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘রাজনৈতিক নেতৃত্বের যে দায়িত্বটা রয়েছে, সেটা যদি শেয়ার না করেন, তাহলে নির্বাচন কমিশন এককভাবে যে কাজ করবে সেখানে সীমাবদ্ধতা দেখা দেবে। আমাদের দায়িত্ব আছে, রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছে আবদার করা, বিনয় করা, অনুনয় করা। রাজনৈতিক নেতৃত্বকে আমরা সহযোগিতা করব। রাজনৈতিক নেতৃত্ব যদি রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সহায়তা না করে, পলিটিক্যাল লিডারশিপের যদি ন্যূনতম সমঝোতা না থাকে, আমি তো তাদের মুরুব্বি হতে পারব না। উনারা আমাদের চেয়ে অনেক বেশি জ্ঞানী, অনেক বেশি অভিজ্ঞ।’

সার্চ কমিটির সুপারিশে রাষ্ট্রপতি নতুন সিইসি হিসেবে হাবিবুল আউয়ালকে চূড়ান্ত করার পর তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, সব দোষ নির্বাচন কমিশনকে দিলে তিনি তা মানবেন না।

দায়িত্ব নেওয়ার দিন তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো যদি নির্বাচনকে অর্থবহ করার জন্য স্ব স্ব অবস্থান থেকে করণীয় না করেন, উনারা নিজেদেরকে প্রশ্ন করবেন, নাকি আমাদের প্রশ্নবিদ্ধ করবেন? তাহলে আমি সবিনয়ে বলব, আমাদের ক্ষমা করবেন। আপনাদের কিছু যদি ব্যর্থতা থাকে. তবে সেটাও স্বীকার করুন। সবাই যেন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা রিস্টোর করুন। একটা ভালো সংসদ উপহার দিতে চেষ্টার ত্রুটি থাকবে না।’

কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন এই নতুন ইসির অধীনেই আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। তবে সে সময় আওয়ামী লীগ যদি ক্ষমতায় থাকে, সেই নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি।

সিইসি বলেন, ‘বিএনপি যদি এমন ঘোষণা দিয়েও থাকে, আমরা কী তাদের চা খাওয়ার আমন্ত্রণ জানাব না? কোনো কথাই শেষ কথাই নয়।’

হাবিবুল আউয়াল এই সংবাদ সম্মেলনে ভোট আর গণতন্ত্রের প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দূরত্ব কমানোর ওপর জোর দিয়েছেন বার বার।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর নিজেদের মধ্যে একটা সমঝোতা সৃষ্টির চেষ্টা করতে হবে। কেউ কারও সাথে কথা বলব না, মাঠে যুদ্ধ করব। আলোচনা মাধ্যমে দূরত্ব কমে আছে। আমরা যদি মুখ ফিরিয়ে থাকি তাহলে কিন্তু দূরত্ব বাড়তে থাকবে। আলোচনা করতে হবে। কাউকে না কাউকে অহংকার পরিত্যাগ করে আলোচনা করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের শক্তি অসীম নয়।’

নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের ভোট বর্জন প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে ইউক্রেইনে রাশিয়ার আগ্রাসন আর যুদ্ধের চলমান ঘটনাপ্রবাহ থেকে উদাহরণ টানেন সিইসি। 

তিনি বলেন, ‘মাঠ ছেড়ে চলে গেলে হবে না। মাঠে থাকবেন। কষ্ট হবে। জেলেনস্কি (ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট) পালিয়ে যেতে পারতেন। তিনি প্রতিরোধ যুদ্ধ করে যাচ্ছেন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। ধস্তাধস্তি হয়।’

নির্বাচন কমিশনের প্রধান হিসেবে সামর্থ্য, দক্ষতা ও শক্তির সবটুকু দিয়ে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করে যাবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নতুন সিইসি। সেই সঙ্গে অন্য সব পক্ষের সহযোগিতাও তিনি চেয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘মিডিয়া ভালো রোল প্লে করতে পারে। সকলকে সচেতন করার ক্ষেত্রে মিডিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, পরের প্রজন্মের জন্য সুশাসনের দিকে এগিয়ে,সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে একটা সংসদ উপহার দেওয়ার। সকলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে একটি দ্বান্দ্বিক সংসদ গড়ে উঠুক। আমরা সুন্দর নির্বাচনের মাধ্যমে গুড গভর্নেন্স ও ভালো সংসদ গড়ে তোলার চেষ্টা করব। এদিক থেকে আমাদের কোনো কার্পণ্য থাকবে না।’

সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি নতুন কমিশনকে ‘আমলানির্ভর’ আখ্যা দিয়েছে। এ ব্যাপারে হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘আমি কী রাতে গিয়ে ভোটবাক্স চুরি করে ওখানে গিয়ে ভোট দেব? নাকি দেখেও না দেখার মত থাকব। আমি সরকারি কর্মচারী ছিলাম। অতীতে যারা ছিলেন, কে ছিলেন না? কেউ কেউ বলেন, শামসুল হুদা সাহেবের নির্বাচন ভালো ছিল, কেউ বলে সাহাবুদ্দীন সাহেবেরটা ভালো ছিল। এগুলো আপেক্ষিক।’

বিএনপির নির্বাচনকালীন সরকারের দাবি নিয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘নির্বাচন সরকার করে না। নির্বচানের সময় একটা সরকার থাকে। কোনো না কোনো সরকার থাকবেই। ওয়ান-ইলেভেনের সময় ছিল, নির্দলীয় সরকার ছিল। এখন যে সাংবিধানিক ব্যবস্থা আছে, সেটা মেনেই আমরা চেষ্টা করব, ভোটাররা যাতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সেটা বড় চ্যালেঞ্জ।’

সংবাদ সম্মেলনে সিইসি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর কমিশনের প্রথম দিনের বৈঠক ছিল মূলত নিজেদের মধ্যে পরিচিতি পর্ব। কমিশনের কর্মপরিধি সম্পর্কে সচিব আমাদের অবহিত করেছেন। আমরা খুব অভিজ্ঞ নই। আমি একেবারেই নতুন, তবে গণমাধ্যমে নির্বাচনের খবর দেখেছি। নির্বাচন ঘরে বসে পর্যবেক্ষণ করেছি। কিছুটা অস্বচ্ছ হলেও ধারণা আছে।

নির্বাচনকে একটি ‘বিশাল কর্মযজ্ঞ’ হিসেবে বর্ণনা করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলের আগ্রহ থাকে, সবার আবেগ বুঝতে হয়। আমরা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নির্বাচন বিষয়ে দায়িত্ব পালন করব। আমরা কতটা সৎ ছিলাম, দায়িত্ব পালন করেছি, সেটি পরে মূল্যয়ন করতে পারবেন।

ঢাকা/টিএ