০৬:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬

অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে: ‘এমসিসিআই’

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ০৫:৩৮:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২২
  • / ১০৩৪৫ বার দেখা হয়েছে

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নের পাশাপাশি সরকারের সময়োপযোগী নানা পদক্ষেপের ফলে দেশের অর্থনীতি কোভিড-১৯–এর অভিঘাত কাটিয়ে পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় ফিরেছে। সরকার নীতিসহায়তা দেওয়ায় এবং বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ায় অর্থনৈতিক অবস্থা ধীরে ধীরে উন্নত হচ্ছে।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সদ্য প্রকাশিত ত্রৈমাসিক পর্যালোচনায় এসব কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক অক্টোবর-ডিসেম্বরে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলো সন্তোষজনক অবস্থায় ছিল। করোনার মধ্যেও আমদানি ও রপ্তানি দুই খাতই অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। শক্তিশালী রপ্তানি আয় অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে সহজতর করেছে। রপ্তানিমুখী পোশাক, চামড়া এবং দেশীয় শিল্প ইস্পাত, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও পরিবহন খাতে পুরোদমে কার্যক্রম চলছে।

তবে অভ্যন্তরীণ রেমিট্যান্স তথা প্রবাসী আয় কমেছে, যা বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের মতো অর্থনৈতিক খাতগুলোতে বহুগুণ প্রভাব ফেলেছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বা মজুত সন্তোষজনক ধারায় রয়েছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারও দীর্ঘদিন ধরে স্থিতিশীল আছে।

এমসিসিআই বলছে, আলোচ্য তিন মাসে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে, তবে বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়েছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) তথ্য অনুসারে, গত ৩১‌ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৭ হাজার ৯২২ মেগাওয়াট। এ সময়ে কোনো লোডশেডিং ছিল না। দিনে সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৭৬৮ ও সন্ধ্যায় ৮ হাজার ১৯৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাকে উদ্ধৃত করে ব্যবসায়ী সংগঠনটি জানায়, গত জুলাই-ডিসেম্বরে ৫৮টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় ৫৬ হাজার ৯৬২ কোটি টাকার প্রকল্প বা মোট বরাদ্দের ২৪ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ বাস্তবায়ন করতে পেরেছে।

বিদেশি সহায়তা ও সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) নিয়েও পর্যালোচনা করেছে এমসিসিআই। সংগঠনটি বলছে, আলোচ্য ৪১৭ কোটি মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১৭ কোটি ডলার বেশি। তবে এ সময়ে উন্নয়ন অংশীদারদের সাহায্য প্রদানের প্রতিশ্রুতি ৩১ দশমিক ১৪ শতাংশ কমে ৪৪০ কোটি ডলারে নেমেছে। সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ বেড়ে ৮৭ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। এ ছাড়া জুলাই-ডিসেম্বরে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে ঘাটতির পরিমাণ ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

পুঁজিবাজার সম্পর্কে এমসিসিআই জানায়, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দৈনিক লেনদেন ও বাজার মূলধনের পরিমাণ বেড়েছে। ২০২১ সালে দৈনিক গড়ে ১ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১২৭ শতাংশ বেশি।

 

ঢাকা/এমআর

শেয়ার করুন

অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে: ‘এমসিসিআই’

আপডেট: ০৫:৩৮:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২২

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নের পাশাপাশি সরকারের সময়োপযোগী নানা পদক্ষেপের ফলে দেশের অর্থনীতি কোভিড-১৯–এর অভিঘাত কাটিয়ে পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় ফিরেছে। সরকার নীতিসহায়তা দেওয়ায় এবং বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ায় অর্থনৈতিক অবস্থা ধীরে ধীরে উন্নত হচ্ছে।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সদ্য প্রকাশিত ত্রৈমাসিক পর্যালোচনায় এসব কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক অক্টোবর-ডিসেম্বরে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলো সন্তোষজনক অবস্থায় ছিল। করোনার মধ্যেও আমদানি ও রপ্তানি দুই খাতই অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। শক্তিশালী রপ্তানি আয় অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে সহজতর করেছে। রপ্তানিমুখী পোশাক, চামড়া এবং দেশীয় শিল্প ইস্পাত, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও পরিবহন খাতে পুরোদমে কার্যক্রম চলছে।

তবে অভ্যন্তরীণ রেমিট্যান্স তথা প্রবাসী আয় কমেছে, যা বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের মতো অর্থনৈতিক খাতগুলোতে বহুগুণ প্রভাব ফেলেছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বা মজুত সন্তোষজনক ধারায় রয়েছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারও দীর্ঘদিন ধরে স্থিতিশীল আছে।

এমসিসিআই বলছে, আলোচ্য তিন মাসে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে, তবে বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়েছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) তথ্য অনুসারে, গত ৩১‌ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৭ হাজার ৯২২ মেগাওয়াট। এ সময়ে কোনো লোডশেডিং ছিল না। দিনে সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৭৬৮ ও সন্ধ্যায় ৮ হাজার ১৯৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাকে উদ্ধৃত করে ব্যবসায়ী সংগঠনটি জানায়, গত জুলাই-ডিসেম্বরে ৫৮টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় ৫৬ হাজার ৯৬২ কোটি টাকার প্রকল্প বা মোট বরাদ্দের ২৪ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ বাস্তবায়ন করতে পেরেছে।

বিদেশি সহায়তা ও সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) নিয়েও পর্যালোচনা করেছে এমসিসিআই। সংগঠনটি বলছে, আলোচ্য ৪১৭ কোটি মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১৭ কোটি ডলার বেশি। তবে এ সময়ে উন্নয়ন অংশীদারদের সাহায্য প্রদানের প্রতিশ্রুতি ৩১ দশমিক ১৪ শতাংশ কমে ৪৪০ কোটি ডলারে নেমেছে। সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ বেড়ে ৮৭ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। এ ছাড়া জুলাই-ডিসেম্বরে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে ঘাটতির পরিমাণ ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

পুঁজিবাজার সম্পর্কে এমসিসিআই জানায়, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দৈনিক লেনদেন ও বাজার মূলধনের পরিমাণ বেড়েছে। ২০২১ সালে দৈনিক গড়ে ১ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১২৭ শতাংশ বেশি।

 

ঢাকা/এমআর