০৭:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬

আবার ব্যবসা শুরু করতে চায় কিউকম

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ০৩:২৩:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২২
  • / ১০৩২৩ বার দেখা হয়েছে

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিয়ে আবার ব্যবসা শুরু করতে চায় ই–কমার্স প্রতিষ্ঠান কিউকম। তবে কার্যক্রম সচল করার জন্য আগে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. রিপন মিয়ার জামিনের ব্যবস্থা করতে অনুরোধ জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী। এ আগ্রহ প্রকাশ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় ডিজিটাল কমার্স সেলের সহায়তা চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। কিউকমের আবেদনের বিষয়ে মতামত জানতে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় ডিজিটাল কমার্স সেল।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

কেন্দ্রীয় ডিজিটাল কমার্স সেলের চিঠিতে বলা হয়েছে, কিউকমের আইন উপদেষ্টা সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি আবেদন করেছেন। আবেদনে কিউকমের এমডি রিপন মিয়ার জামিনের জন্য আইন মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করতে অনুরোধ জানানো হয়।

পণ্য সরবরাহ না করে ৫৬ লাখ ৫৭ হাজার ৬৮৯ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে কিউকমের এমডি রিপন মিয়া, তাঁর স্ত্রী সৈয়দা তাসমিনা তারিন, আরজে নীরবসহ ছয়জনকে আসামি করে ৭ অক্টোবর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় মামলা করেন আবদুল্লাহ খান নামের এক গ্রাহক। রিপন মিয়া এখন হাজতে রয়েছেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে করা আবেদনে কিউকমের আইন উপদেষ্টা জানান, গ্রাহকদের ৩৯৭ কোটি টাকার বেশি অর্থ পরিশোধ সেবাদানকারী (পেমেন্ট গেটওয়ে) প্রতিষ্ঠানে আটকে আছে। আবার কিউকমের গুদামে শতকোটি টাকার পণ্য মজুত রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব পণ্য গুদামে পড়ে থাকায় গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন গ্রাহকের ক্রয় আদেশের বিপরীতে পণ্য সরবরাহ করা যাচ্ছে না, অন্যদিকে পণ্যের গুণগত মান কমতে থাকায় তা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। ফলে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে।

কিউকম দাবি করেছে, সব গ্রাহকের অর্থ ফেরত বা পণ্য সরবরাহ করার মতো অর্থ পেমেন্ট গেটওয়েতে আটকে রয়েছে। গ্রাহকের অর্থ ও পণ্য সরবরাহ করতে হলে প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় খোলা ও সার্ভার চালু করা দরকার। কিন্তু ব্যাংক হিসাবের স্বাক্ষরকারী ও সার্ভারের অ্যাডমিন ক্ষমতা প্রতিষ্ঠানটির এমডি রিপন মিয়ার হাতে। তাই ব্যবসা চালু করতে রিপন মিয়াকে জামিনে মুক্তি দিতে অনুরোধ জানিয়ে কিউকমের পক্ষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন তাঁর আইনজীবী।

ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে রিপন মিয়ার জামিনের জন্য সুপারিশ করে আইন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ই–কমার্স প্রতিষ্ঠান কিউকম ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বাজারমূল্যের চেয়ে কমে পণ্য দেওয়ার কথা বলে গ্রাহকদের ধোঁকা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।

পেমেন্ট গেটওয়েতে আটকে থাকা কিউকমের অর্থের মধ্যে ৫৯ কোটি টাকা ৬ হাজার ৭২১ জন গ্রাহককে ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহকদের ২৩ কোটি টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। বাকিরা অপেক্ষায় রয়েছেন।

 

ঢাকা/এমআর

শেয়ার করুন

আবার ব্যবসা শুরু করতে চায় কিউকম

আপডেট: ০৩:২৩:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২২

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিয়ে আবার ব্যবসা শুরু করতে চায় ই–কমার্স প্রতিষ্ঠান কিউকম। তবে কার্যক্রম সচল করার জন্য আগে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. রিপন মিয়ার জামিনের ব্যবস্থা করতে অনুরোধ জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী। এ আগ্রহ প্রকাশ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় ডিজিটাল কমার্স সেলের সহায়তা চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। কিউকমের আবেদনের বিষয়ে মতামত জানতে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় ডিজিটাল কমার্স সেল।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

কেন্দ্রীয় ডিজিটাল কমার্স সেলের চিঠিতে বলা হয়েছে, কিউকমের আইন উপদেষ্টা সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি আবেদন করেছেন। আবেদনে কিউকমের এমডি রিপন মিয়ার জামিনের জন্য আইন মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করতে অনুরোধ জানানো হয়।

পণ্য সরবরাহ না করে ৫৬ লাখ ৫৭ হাজার ৬৮৯ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে কিউকমের এমডি রিপন মিয়া, তাঁর স্ত্রী সৈয়দা তাসমিনা তারিন, আরজে নীরবসহ ছয়জনকে আসামি করে ৭ অক্টোবর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় মামলা করেন আবদুল্লাহ খান নামের এক গ্রাহক। রিপন মিয়া এখন হাজতে রয়েছেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে করা আবেদনে কিউকমের আইন উপদেষ্টা জানান, গ্রাহকদের ৩৯৭ কোটি টাকার বেশি অর্থ পরিশোধ সেবাদানকারী (পেমেন্ট গেটওয়ে) প্রতিষ্ঠানে আটকে আছে। আবার কিউকমের গুদামে শতকোটি টাকার পণ্য মজুত রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব পণ্য গুদামে পড়ে থাকায় গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন গ্রাহকের ক্রয় আদেশের বিপরীতে পণ্য সরবরাহ করা যাচ্ছে না, অন্যদিকে পণ্যের গুণগত মান কমতে থাকায় তা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। ফলে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে।

কিউকম দাবি করেছে, সব গ্রাহকের অর্থ ফেরত বা পণ্য সরবরাহ করার মতো অর্থ পেমেন্ট গেটওয়েতে আটকে রয়েছে। গ্রাহকের অর্থ ও পণ্য সরবরাহ করতে হলে প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় খোলা ও সার্ভার চালু করা দরকার। কিন্তু ব্যাংক হিসাবের স্বাক্ষরকারী ও সার্ভারের অ্যাডমিন ক্ষমতা প্রতিষ্ঠানটির এমডি রিপন মিয়ার হাতে। তাই ব্যবসা চালু করতে রিপন মিয়াকে জামিনে মুক্তি দিতে অনুরোধ জানিয়ে কিউকমের পক্ষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন তাঁর আইনজীবী।

ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে রিপন মিয়ার জামিনের জন্য সুপারিশ করে আইন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ই–কমার্স প্রতিষ্ঠান কিউকম ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বাজারমূল্যের চেয়ে কমে পণ্য দেওয়ার কথা বলে গ্রাহকদের ধোঁকা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।

পেমেন্ট গেটওয়েতে আটকে থাকা কিউকমের অর্থের মধ্যে ৫৯ কোটি টাকা ৬ হাজার ৭২১ জন গ্রাহককে ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহকদের ২৩ কোটি টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। বাকিরা অপেক্ষায় রয়েছেন।

 

ঢাকা/এমআর