০৪:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬

এসএমই মার্কেটের শেয়ার যেন সোনার হরিণ!

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ০৬:৪৩:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ মার্চ ২০২২
  • / ১০৬৬১ বার দেখা হয়েছে

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: এসএমই মার্কেটে লেনদেন সুবিধা বৃ্দ্ধির পরের দিন থেকেই ওই প্ল্যাটফর্মে লেনদেন করা কোম্পানিগুলোর শেয়ার দরে নতুন গতি দেখা দিয়েছে। আগের দিন (বুধবার) মার্কেটটিতে একটি বাদে সব কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে। তবে সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে একটি কোম্পানি ছাড়া বাকি সব কোম্পানির শেয়ার স্বাভাবিক অবস্থায় লেনদেন হয়েছে। এমনকি একটি কোম্পানির শেয়ার দরে নেতিবাচক প্রবণতাও লক্ষ্য করা গেছে। কিন্তু আজ মার্কেটটির সব কোম্পানির শেয়ার সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ সীমায়ও ক্রেতাদের হাহাকার দেখা গেছে। তারা সর্বোচ্চ দরেও শেয়া্র কিনতে পারেনি। কারণ আজ কোন শেয়ারেরই বিক্রেতা ছিল না।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

গত সোমবার (২৮ মার্চ) বিকালে ডিএসইর ঘোষণা দেওয়ার আগ পর্যন্ত শেয়ারবাজারে এসএমইতে লেনদেন করার যোগ্য হওয়ার জন্য কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর হতে ডিএসইর ইএসএস ওয়েবসাইটে প্রদত্ত অনলাইন ফর্ম পূরণ করে, তা ডিএসইতে মেইল করতে হতো। এরপরে ডিএসই তা যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দিত। এরপরে একজন বিনিয়োগকারী ওই বাজারে লেনদেন করতে পারতেন।

তবে এখন থেকে বিনিয়োগকারীদেরকে রেজিস্ট্রশন করা লাগবে না। পোর্টফোলিওতে ২০ লাখ টাকার বিনিয়োগ (ক্রয় মূল্য বা বাজার দরের সর্বোচ্চটা বিবেচ্য) থাকলেই ডিএসই স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেজিস্ট্রেশন করে দেবে।

ডিএসইর এই ঘোষণার পরের দিন মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) এসএমই মার্কেটের মূল্যসূচক বাড়ে ৮২ পয়েন্ট বা ১০ শতাংশ। এতে করে আগের দিনের ৮০৬ পয়েন্টের সূচকটি ৮৮৮ পয়েন্টে উঠে আসে। যে সূচকটি বুধবার ৬২ পয়েন্ট বা ৭ শতাংশ ও বৃহস্পতিবার ১৮৬ পয়েন্ট বা ১৯.৫৮ শতাংশ বেড়ে ১১৩৫.৫৯ পয়েন্টে উঠে এসেছে। এছাড়া মঙ্গলবারের ৫ কোটি ২১ লাখ টাকার লেনদেন বেড়ে বুধবার ৬ কোটি ৯ লাখ টাকার ও বৃহস্পতিবার ১২ কোটি ৫৮ লাখ টাকার হয়েছে।

এই বড় উত্থানের পেছনে একমাত্র কারণ হিসাবে রয়েছে এসএমই মার্কেটে লেনদেন হওয়া ১টি ছাড়া সবগুলো শেয়ারের দর বৃদ্ধি। এদিন এসএমই মার্কেটের জন্য নির্ধারিত সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ ২০% এর মধ্যে এপেক্স ওয়েভিংয়ের ও কৃষিবিদ ফিডের দর বেড়েছে ২০% করে। এছাড়া ওয়ান্ডারল্যান্ড টয়েজের ১৯.৮১%, নিয়ালকো অ্যালয়েজের ১৯.৭৭%, মাস্টার ফিড অ্যাগ্রোর ১৯.৭০%, মামুন অ্যাগ্রোর ১৯.৬৯%, মোস্তফা মেটালের ১৯.৬০%, ওরিজা অ্যাগ্রোর ১৯.৫৭% ও বেঙ্গল বিস্কুটের ১৮.৪৪% দর বেড়েছে। বাকি হিমাদ্রির শেয়ারে সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ সীমায় কেনার জন্য ক্রেতা থাকলেও বিক্রেতা না থাকায় দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

এর আগে কয়েক দফায় এসএমইতে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো উদ্যোগ নিলেও তা খুব একটা ফলোদায়ক হয়নি। এক্ষেত্রে অন্যতম একটি বাধা ছিল রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া। কারণ শুধু বিনিয়োগকারী না, অধিকাংশ ব্রোকারেজ হাউজ কর্তৃপক্ষই এই রেজিস্ট্রেশনের বিষয়ে অবহিত না।

এছাড়া এসএমই মার্কেটে মূল মার্কেটের মতো লেনদেন করা গেলেও অনেকে তা জানেন না। একটি বিও হিসাব দিয়েই যে মূল মার্কেট এবং এসএমইতে লেনদেন করা যায়, সেটাও অনেকেই জানতেন না। এটা জানানোর জন্যও কেউ এগিয়ে আসেনি। এছাড়া এই খাতটি নতুন হলেও শেয়ারবাজারে রেগুলেটর থেকে শুরু করে সবার মধ্যেই প্রচারণাও অভাব রয়েছে।

যে কারণে এসএমইতে আসা কোম্পানিগুলোর শেয়ার র এখনো ১০ টাকার কাছেই অবস্থান করছিল। যে কোম্পানিগুলোর আগামি ৩ বছর কমপক্ষে ১০ শতাংশ করে ক্যাশ ডিভিডেন্ড দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অথচ একই কোম্পানিগুলো যদি মূল মার্কেটে লেনদেন করতো, তাহলে অভিহিত মূল্যের কয়েকগুণ দরে লেনদেন হতো।

ঢাকা/টিএ

শেয়ার করুন

এসএমই মার্কেটের শেয়ার যেন সোনার হরিণ!

আপডেট: ০৬:৪৩:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ মার্চ ২০২২

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: এসএমই মার্কেটে লেনদেন সুবিধা বৃ্দ্ধির পরের দিন থেকেই ওই প্ল্যাটফর্মে লেনদেন করা কোম্পানিগুলোর শেয়ার দরে নতুন গতি দেখা দিয়েছে। আগের দিন (বুধবার) মার্কেটটিতে একটি বাদে সব কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে। তবে সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে একটি কোম্পানি ছাড়া বাকি সব কোম্পানির শেয়ার স্বাভাবিক অবস্থায় লেনদেন হয়েছে। এমনকি একটি কোম্পানির শেয়ার দরে নেতিবাচক প্রবণতাও লক্ষ্য করা গেছে। কিন্তু আজ মার্কেটটির সব কোম্পানির শেয়ার সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ সীমায়ও ক্রেতাদের হাহাকার দেখা গেছে। তারা সর্বোচ্চ দরেও শেয়া্র কিনতে পারেনি। কারণ আজ কোন শেয়ারেরই বিক্রেতা ছিল না।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

গত সোমবার (২৮ মার্চ) বিকালে ডিএসইর ঘোষণা দেওয়ার আগ পর্যন্ত শেয়ারবাজারে এসএমইতে লেনদেন করার যোগ্য হওয়ার জন্য কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর হতে ডিএসইর ইএসএস ওয়েবসাইটে প্রদত্ত অনলাইন ফর্ম পূরণ করে, তা ডিএসইতে মেইল করতে হতো। এরপরে ডিএসই তা যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দিত। এরপরে একজন বিনিয়োগকারী ওই বাজারে লেনদেন করতে পারতেন।

তবে এখন থেকে বিনিয়োগকারীদেরকে রেজিস্ট্রশন করা লাগবে না। পোর্টফোলিওতে ২০ লাখ টাকার বিনিয়োগ (ক্রয় মূল্য বা বাজার দরের সর্বোচ্চটা বিবেচ্য) থাকলেই ডিএসই স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেজিস্ট্রেশন করে দেবে।

ডিএসইর এই ঘোষণার পরের দিন মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) এসএমই মার্কেটের মূল্যসূচক বাড়ে ৮২ পয়েন্ট বা ১০ শতাংশ। এতে করে আগের দিনের ৮০৬ পয়েন্টের সূচকটি ৮৮৮ পয়েন্টে উঠে আসে। যে সূচকটি বুধবার ৬২ পয়েন্ট বা ৭ শতাংশ ও বৃহস্পতিবার ১৮৬ পয়েন্ট বা ১৯.৫৮ শতাংশ বেড়ে ১১৩৫.৫৯ পয়েন্টে উঠে এসেছে। এছাড়া মঙ্গলবারের ৫ কোটি ২১ লাখ টাকার লেনদেন বেড়ে বুধবার ৬ কোটি ৯ লাখ টাকার ও বৃহস্পতিবার ১২ কোটি ৫৮ লাখ টাকার হয়েছে।

এই বড় উত্থানের পেছনে একমাত্র কারণ হিসাবে রয়েছে এসএমই মার্কেটে লেনদেন হওয়া ১টি ছাড়া সবগুলো শেয়ারের দর বৃদ্ধি। এদিন এসএমই মার্কেটের জন্য নির্ধারিত সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ ২০% এর মধ্যে এপেক্স ওয়েভিংয়ের ও কৃষিবিদ ফিডের দর বেড়েছে ২০% করে। এছাড়া ওয়ান্ডারল্যান্ড টয়েজের ১৯.৮১%, নিয়ালকো অ্যালয়েজের ১৯.৭৭%, মাস্টার ফিড অ্যাগ্রোর ১৯.৭০%, মামুন অ্যাগ্রোর ১৯.৬৯%, মোস্তফা মেটালের ১৯.৬০%, ওরিজা অ্যাগ্রোর ১৯.৫৭% ও বেঙ্গল বিস্কুটের ১৮.৪৪% দর বেড়েছে। বাকি হিমাদ্রির শেয়ারে সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ সীমায় কেনার জন্য ক্রেতা থাকলেও বিক্রেতা না থাকায় দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

এর আগে কয়েক দফায় এসএমইতে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো উদ্যোগ নিলেও তা খুব একটা ফলোদায়ক হয়নি। এক্ষেত্রে অন্যতম একটি বাধা ছিল রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া। কারণ শুধু বিনিয়োগকারী না, অধিকাংশ ব্রোকারেজ হাউজ কর্তৃপক্ষই এই রেজিস্ট্রেশনের বিষয়ে অবহিত না।

এছাড়া এসএমই মার্কেটে মূল মার্কেটের মতো লেনদেন করা গেলেও অনেকে তা জানেন না। একটি বিও হিসাব দিয়েই যে মূল মার্কেট এবং এসএমইতে লেনদেন করা যায়, সেটাও অনেকেই জানতেন না। এটা জানানোর জন্যও কেউ এগিয়ে আসেনি। এছাড়া এই খাতটি নতুন হলেও শেয়ারবাজারে রেগুলেটর থেকে শুরু করে সবার মধ্যেই প্রচারণাও অভাব রয়েছে।

যে কারণে এসএমইতে আসা কোম্পানিগুলোর শেয়ার র এখনো ১০ টাকার কাছেই অবস্থান করছিল। যে কোম্পানিগুলোর আগামি ৩ বছর কমপক্ষে ১০ শতাংশ করে ক্যাশ ডিভিডেন্ড দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অথচ একই কোম্পানিগুলো যদি মূল মার্কেটে লেনদেন করতো, তাহলে অভিহিত মূল্যের কয়েকগুণ দরে লেনদেন হতো।

ঢাকা/টিএ