ক্রিকেট বিকেন্দ্রীকরণের পথ উন্মুক্ত
- আপডেট: ১২:৩৭:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ জুলাই ২০২২
- / ১০৩৯২ বার দেখা হয়েছে
বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থার দাবি ছিল বহুদিনের। করি করি করেও হচ্ছিল না। নাজমুল হাসান পাপন বিসিবি সভাপতি হওয়ার পরই আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ১১ বছর পরে হলেও সে দাবি পূরণ হতে যাচ্ছে। আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থা।
অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুক–টুইটার–লিংকডইন–ইন্সটাগ্রাম–ইউটিউব
মঙ্গলবার বিসিবির বার্ষিক সভায় অনুমোদনের মাধ্যমে আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থা সাংবিধানিক স্বীকৃতি পেল। এখন বাস্তবায়ন করতে যেটুকু সময় লাগে। গঠনতান্ত্রিক এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ক্রিকেট বিকেন্দ্রীকরণের পথ খুলল। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন সংবাদ সম্মেলনে জানান, পরবর্তী পরিচালনা পরিষদের সভার আগেই আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থার রূপরেখা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থা ৮টি
জাতীয় লিগের দলগুলোকে ভিত্তি রেখে আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঢাকাকে ভাগ করা হয়েছে দুটি ভাগে। ঢাকা বিভাগের পাশাপাশি ঢাকা মেট্রোপলিশ হবে আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থা। ময়মনসিংহ বিভাগ হলেও ঢাকার মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যদিও এজিএমএ ময়মনসিংহকে আলাদা আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থার স্বীকৃতি চাওয়া হয়েছে। বাকি সংস্থাগুলো হলো চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, রংপুর, রাজশাহী ও বরিশাল। বিসিবি সভাপতি পাপন জানান, বিভাগের পরিধি অনুপাতে আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থার কমিটি হবে ১১ ও ১৭ সদস্যের। ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনার মতো বড় বিভাগের কমিটি হবে ১৭ জনের।
দ্বৈত নিয়ন্ত্রণ
আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থাকে সম্পূর্ণ স্বাধীন প্রতিষ্ঠান করা হচ্ছে না। বিসিবির নিয়ন্ত্রণ থাকবে সংস্থাগুলোতে। পরিচালক শফিউল আলম নাদেল জানান, বিসিবি থেকে একজন করে অর্থ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থায়। বিসিবি থেকে প্রাপ্ত অর্থ কীভাবে এবং কোন খাতে খরচ করা হচ্ছে, সেটা দেখবেন অর্থ কর্মকর্তা।
গঠনতন্ত্র প্রণয়ন
প্রতিটি আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থার গঠনতন্ত্র থাকবে। যেটা তৈরি করবে বিসিবি। পরে নির্বাচিত কমিটি হলে বিসিবির দিকনির্দেশনা মেনে গঠনতন্ত্র উন্নত করার সুযোগ থাকবে। জেলার কাউন্সিলরদের ভোটে নির্বাচিত হবেন সংশ্নিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা। গঠনতন্ত্রে সাবেক ক্রিকেটারদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানান বিসিবির একজন পরিচালক।
আর্থিক সক্ষমতা
জেলা এবং বিভাগীয় ক্রিকেট সংস্থাকে বর্তমানে লিগ আয়োজন সাপেক্ষে বছরে ২ লাখ টাকা করে অনুদান দেয় বিসিবি। আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থা বাস্তবায়ন করার পর নির্দিষ্ট বাজেট অনুমোদন করা হবে। যেখান থেকে জেলাগুলোকে অর্থ বরাদ্দ করতে পারবে আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থা গঠনতন্ত্রের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী। শফিউল আলম নাদেল এটাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেন।
তাঁর মতে, ‘এতদিন জেলাগুলোকে অনুদান পেতে হলে বিসিবিতে যোগাযোগ করতে হতো। এখন থেকে জেলার মাঠ রক্ষণাবেক্ষণ এবং উন্নয়নের কাজ দেখভাল করবে আঞ্চলিক সংস্থা। তবে আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থা গড়ে তোলা হলে স্থানীয় কর্মকর্তাদের দায়িত্বও বেড়ে যাবে। সাদা ও লাল বলের লিগ নিয়মিত আয়োজন করতে হবে। তহবিল গড়ে তুলতে নিজস্বভাবে স্পন্সর জোগাড় করতে হবে। যেটা স্থানীয় সংগঠকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে বলে জানান বিসিবির পরিচালক নাদেল।
অবকাঠামোগত উন্নয়ন
আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থা গড়ে তোলা হলেও জাতীয় পর্যায়ের খেলা চালানোর মতো সুযোগ-সুবিধা নেই বেশিরভাগ বিভাগের। সিলেট, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে জাতীয় লিগের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। তবে ঢাকার বাইরে কোনো বিভাগেই একাডেমি নেই। প্রতিটি বিভাগে ইনডোর সুবিধা নেই। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মাধ্যমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে একাডেমি এবং ইনডোর সুবিধা গড়ে তুলতে হবে বিসিবিকেই।
দল গঠনের স্বাধীনতা
বিভাগীয় দল জাতীয় লিগে খেললেও দল গঠনের স্বাধীনতা ভোগ করে না। জাতীয় দল নির্বাচকদের মাধ্যমে জাতীয় লিগের দল গঠন করে দেয় বিসিবি। এক বিভাগের ক্রিকেটার খেলে অন্য বিভাগে। এতে করে প্রবাসী ক্রিকেটারদের মধ্যে আঞ্চলিকতা তৈরি হয় না। আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থাকে দল গঠনের স্বাধীনতা দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন কাউন্সিলররা।
ঢাকা লিগের সমান কাউন্সিলর
ঢাকা লিগের প্রতিটি ডিভিশনের ক্লাবগুলোকে কাউন্সিলরশিপ অধিকার দেওয়া হয়েছে গতকালের এজিএমে। প্রতিটি ক্লাব থেকে একজন করে কাউন্সিলর বিসিবির নির্বাচনে ভোট প্রয়োগ করতে পারবেন। এতে করে ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেটের সুপার লিগের ছয় দলের দুটি করে কাউন্সিলর পাওয়ার অধিকার বাতিল হয়ে গেল। তৃতীয়, দ্বিতীয়, প্রথম এবং প্রিমিয়ার ডিভিশনে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি ক্লাবকে ভোটাধিকার দেওয়ায় খেলায় দুর্নীতি কমে আসবে বলে দাবি বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের।






































