ডিএসইর বেশকিছু সাবেক নেতাও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত: বিএসইসি কমিশনার
- আপডেট: ১০:০৩:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ মার্চ ২০২২
- / ১০৩৪০ বার দেখা হয়েছে
বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান এমন অনিয়ম করে, যা মেনে নেয়া যায় না বলে মন্তব্য করেছেন বিএসইসির কমিশনার মো. আব্দুল হালিম। এছাড়া ডিএসইর বেশকিছু সাবেক নেতাও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) রাতে রাজধানীর নিকুঞ্জের ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ভবনে আয়োজিত ‘বিনিয়োগকারীদের ফান্ড ও সিকিউরিটিজের সুরক্ষা জোরদারকরণ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুক–টুইটার–লিংকডইন–ইন্সটাগ্রাম–ইউটিউব
এ সময় তিনি বলেন, ব্রোকারদের নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে। এতে করে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা তৈরি হবে। তাহলে শেয়ারবাজারে পুঁজির কোন সংকট হবে না।
ডিএসইর চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ডিএসইর এমডি তারিক আমিন ভূইয়া, ডিবিএ সভাপতি রিচার্ড ডি রোজারিও এবং সিডিবিএলের এমডি শুভ্র কান্তি চৌধুরী।
বিএসইসির কমিশনার বলেন, অনেক ব্রোকার হাউজের কমপ্লায়েন্ট অফিসারই নিয়মকানুন মানে চলেন না। অথচ তিনি কমপ্লায়েন্ট অফিসার। এছাড়া অ্যাসোসিয়েশনের নেতাসহ ডিএসইর সাবেক কিছু নেতাও আইন অমান্য করেন। তাহলে তারা কিসের নেতা। যারা নিজেরাই আইন মেনে চলেন না। তাই ওসব সম্মানি ব্যক্তিদের সম্মান রক্ষার জন্য আইন মেনে চলতে হবে। অন্যথায় কমিশন যদি ব্যবস্থা নেয়, তখন কোন সুপারিশে কাজ হবে না। কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানে এমন সব অনিয়ম পাওয়া যায়, যা মানার অযোগ্য। যার মধ্য থেকে এরই মধ্যে ২০-২৫টি ব্রোকার প্রতিষ্ঠানকে রেড জোনে রাখা হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম বলেন, বিনিয়োগকারীদের সম্পদ ব্রোকারদের কাছে আমানত। আর এই আমানত যারা রক্ষা করতে পারেন না তারা মানুষই না।
তিনি বলেন, নিজের সম্পদের চেয়ে বিনিয়োগকারীদের সম্পদকে বেশি ভালোভাবে রক্ষা করতে হবে। তাদের সম্পদ ব্রোকারদের কাছে আমানত। এই আমানত যারা রক্ষা করতে পারে না, তারা মানুষই না। আমানতের সুরক্ষার বিষয়ে প্রতিটি ধর্মে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, গত ২ মাসে ৫০০ ফাইল ক্লিয়ার করা হয়েছে। চাইলে সবাইকেই জরিমানা করা যেত। অর্থ আত্মসাৎকারী ৩ ব্রোকারেজ হাউজের বিষয়ে তিনি বলেন, তাদেরকে ডেকে ৬০-৭০ কোটি টাকা কোথায় রেখেছেন, তা জিজ্ঞেস করেছিলাম। কিন্তু কোনো জবাব দেয়নি, চুপ করে ছিল। এতো টাকা তো বস্তায় ভরে বাসায় নিয়ে রাখাও সম্ভব না। যেহেতু জবাব দেয়নি, নিশ্চয় অনিয়ম করেছে। এ কারণে পাসপোর্ট জব্দ, এয়ারপোর্ট ও বাসা থেকে গ্রেফতার পর্যন্ত করাতে হয়েছে। কিন্তু এসব করতে আমাদের ভালো লাগে না। আমরা চাই সবাই ভালোভাবে ব্যবসা করুক।
ব্রোকার হাউজগুলোকে অবশ্যই আইন পরিপালন করে চলতে হবে উল্লেখ করে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, কোন কাজে আপনাদের সহায়তা লাগবে, সেটা কমিশনকে বলবেন। আমাদের কাজই হলো আপনাদের সহায়তা করা। কোনো কাজে সমস্যা হলে, সিডিবিএল কোনো সমস্যা করলে তা বিএসইসিকে বলবেন। আমরা আপনাদের সহায়তা করতেই আছি। তবে আপনাদেরকে আইনের ভেতরে থেকেই কাজ করতে হবে।
ঢাকা/এইচকে
































