০৪:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬

ঢাকা রিজেন্সির বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকির মামলা

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ০৭:৩১:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ মার্চ ২০২২
  • / ১০৩০৭ বার দেখা হয়েছে

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তর ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের বিরুদ্ধে তদন্ত করে দুই মাসে ২ কোটি ৪০ লাখ টাকার গোপন বিক্রয় তথ্য উদঘাটন করেছে। তদন্ত শেষে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ৫৭ কোটি ৯২ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকির মামলা দায়ের করেছে ভ্যাট গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

সোমবার নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (মূল্য সংযোজন কর) মহাপরিচালক ড. মইনুল খান এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, ভ্যাট ফাঁকির সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভ্যাট গোয়েন্দার উপ-পরিচালক অথেলো চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি দল গত ২৮ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান পরিচালনা করে। এতে ভ্যাট গোয়েন্দারা ব্যাপক ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ পান।

অভিযানের শুরুতে কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানের মূসক সংক্রান্ত ও বাণিজ্যিক দলিলাদি প্রদর্শনের অনুরোধ করা হলে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক (অর্থ) মো. মিজানুর রহমান সিদ্দিকী মূসক সংক্রান্ত নথি প্রদর্শন করেন। এছাড়া প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত কম্পিউটারসহ অন্যান্য বাণিজ্যিক দলিলাদি তল্লাশিপূর্বক বাণিজ্যিক বিক্রয় চালান এবং বিক্রয় রেজিস্টার জব্দ করা হয়।

এতে দেখা যায়, ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে ৫ কোটি ৬ লাখ ৭০ হাজার ৭৯২ টাকার বিক্রয় তথ্য পাওয়া যায়। কিন্তু এ সময় প্রতিষ্ঠান দাখিলপত্রে ৪ কোটি ৫৯ লাখ ২৬ হাজার ১৭৮ টাকা বিক্রয়মূল্য প্রদর্শন করেছে। দাখিলপত্রে ৪৭ লাখ ৪৪ হাজার ৬১৪ টাকা বিক্রয় তথ্য গোপন করা হয়েছে। এর উপর পরিহার করা মূসক ৭ লাখ ১১ হাজার ৬৯২ টাকা।

এই ভ্যাট যথাসময়ে পরিশোধ না করায় ভ্যাট আইন অনুযায়ী মাসিক ২ শতাংশ হারে সুদ ৫ লাখ ১২ হাজার ৪১৮ টাকা প্রযোজ্য।

তদন্তে ২০১৯ সালের জুলাই মাসে মোট ৫ কোটি ৭৩ লাখ ২০ হাজার ৯৭৪ টাকার বিক্রয় তথ্য পাওয়া যায়। কিন্তু এ সময় প্রতিষ্ঠান দাখিলপত্রে ৩ কোটি ৮০ লাখ ৪৭ হাজার ৭৮৭ টাকা বিক্রয়মূল্য প্রদর্শন করেছে। এতে দাখিলপত্রে ১ কোটি ৯২ লাখ ৭৩ হাজার ১৮৭ টাকা বিক্রয়তথ্য গোপন করেছে, যার উপর পরিহার করা মূসক ২৮ লাখ ৯০ হাজার ৯৭৮ টাকা।

এই ভ্যাট যথাসময়ে পরিশোধ না করায় ভ্যাট আইন অনুযায়ী মাসিক ২ শতাংশ হারে সুদ ১৬ লাখ ৭৬ হাজার ৭৬৭ টাকা প্রযোজ্য।

হোটেলটিতে মাত্র ২ মাসে মূসক বাবদ ৩৬ লাখ ২ হাজার ৬৭০ টাকা এবং সুদ বাবদ ২১ লাখ ৮৯ হাজার ১৮৬ টাকাসহ সর্বমোট ৫৭ লাখ ৯১ হাজার ৮৫৬ টাকার ভ্যাট ফাঁকি হয়েছে।

তদন্তে উদঘাটিত পরিহার করা ভ্যাট আদায়ের আইনানুগ পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের লক্ষ্যে মামলাটি সংশ্লিষ্ট ভ্যাট কমিশনারেট ঢাকা উত্তরে প্রেরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম অধিকতর মনিটরিং করার জন্যও সংশ্লিষ্ট ভ্যাট কমিশনারেটকে অনুরোধ করা হয়েছে।

ঢাকা/টিএ

শেয়ার করুন

ঢাকা রিজেন্সির বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকির মামলা

আপডেট: ০৭:৩১:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ মার্চ ২০২২

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তর ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের বিরুদ্ধে তদন্ত করে দুই মাসে ২ কোটি ৪০ লাখ টাকার গোপন বিক্রয় তথ্য উদঘাটন করেছে। তদন্ত শেষে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ৫৭ কোটি ৯২ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকির মামলা দায়ের করেছে ভ্যাট গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

সোমবার নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (মূল্য সংযোজন কর) মহাপরিচালক ড. মইনুল খান এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, ভ্যাট ফাঁকির সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভ্যাট গোয়েন্দার উপ-পরিচালক অথেলো চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি দল গত ২৮ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান পরিচালনা করে। এতে ভ্যাট গোয়েন্দারা ব্যাপক ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ পান।

অভিযানের শুরুতে কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানের মূসক সংক্রান্ত ও বাণিজ্যিক দলিলাদি প্রদর্শনের অনুরোধ করা হলে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক (অর্থ) মো. মিজানুর রহমান সিদ্দিকী মূসক সংক্রান্ত নথি প্রদর্শন করেন। এছাড়া প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত কম্পিউটারসহ অন্যান্য বাণিজ্যিক দলিলাদি তল্লাশিপূর্বক বাণিজ্যিক বিক্রয় চালান এবং বিক্রয় রেজিস্টার জব্দ করা হয়।

এতে দেখা যায়, ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে ৫ কোটি ৬ লাখ ৭০ হাজার ৭৯২ টাকার বিক্রয় তথ্য পাওয়া যায়। কিন্তু এ সময় প্রতিষ্ঠান দাখিলপত্রে ৪ কোটি ৫৯ লাখ ২৬ হাজার ১৭৮ টাকা বিক্রয়মূল্য প্রদর্শন করেছে। দাখিলপত্রে ৪৭ লাখ ৪৪ হাজার ৬১৪ টাকা বিক্রয় তথ্য গোপন করা হয়েছে। এর উপর পরিহার করা মূসক ৭ লাখ ১১ হাজার ৬৯২ টাকা।

এই ভ্যাট যথাসময়ে পরিশোধ না করায় ভ্যাট আইন অনুযায়ী মাসিক ২ শতাংশ হারে সুদ ৫ লাখ ১২ হাজার ৪১৮ টাকা প্রযোজ্য।

তদন্তে ২০১৯ সালের জুলাই মাসে মোট ৫ কোটি ৭৩ লাখ ২০ হাজার ৯৭৪ টাকার বিক্রয় তথ্য পাওয়া যায়। কিন্তু এ সময় প্রতিষ্ঠান দাখিলপত্রে ৩ কোটি ৮০ লাখ ৪৭ হাজার ৭৮৭ টাকা বিক্রয়মূল্য প্রদর্শন করেছে। এতে দাখিলপত্রে ১ কোটি ৯২ লাখ ৭৩ হাজার ১৮৭ টাকা বিক্রয়তথ্য গোপন করেছে, যার উপর পরিহার করা মূসক ২৮ লাখ ৯০ হাজার ৯৭৮ টাকা।

এই ভ্যাট যথাসময়ে পরিশোধ না করায় ভ্যাট আইন অনুযায়ী মাসিক ২ শতাংশ হারে সুদ ১৬ লাখ ৭৬ হাজার ৭৬৭ টাকা প্রযোজ্য।

হোটেলটিতে মাত্র ২ মাসে মূসক বাবদ ৩৬ লাখ ২ হাজার ৬৭০ টাকা এবং সুদ বাবদ ২১ লাখ ৮৯ হাজার ১৮৬ টাকাসহ সর্বমোট ৫৭ লাখ ৯১ হাজার ৮৫৬ টাকার ভ্যাট ফাঁকি হয়েছে।

তদন্তে উদঘাটিত পরিহার করা ভ্যাট আদায়ের আইনানুগ পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের লক্ষ্যে মামলাটি সংশ্লিষ্ট ভ্যাট কমিশনারেট ঢাকা উত্তরে প্রেরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম অধিকতর মনিটরিং করার জন্যও সংশ্লিষ্ট ভ্যাট কমিশনারেটকে অনুরোধ করা হয়েছে।

ঢাকা/টিএ