০৫:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬

না ফেরার দেশে ডিএসইর সাবেক প্রেসিডেন্ট রকিবুর রহমান

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ০১:২৪:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ মার্চ ২০২২
  • / ১০৪৩১ বার দেখা হয়েছে

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক প্রেসিডেন্ট রকিবুর রহমান। শুক্রবার (১৮ মার্চ) রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না-ইলাইহি রাজিউন।

মরহুমের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আজ বাদ এশা গুলশান আজাদ মসজিদে জানাজা শেষে তাকে বনানী কবরস্থানে সমাহিত করা হবে বলে জানা গেছে।

গত সোমবার রাত আটটায় সংকটাপন্ন অবস্থায় এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে করে থাইল্যান্ড থেকে দেশে আনা হয়। এরপর রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) তাকে ভর্তি করা হয়।

এর আগে তিনি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) ভর্তি হয়েছিলেন।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

২০২১ সালের ডিসেম্বরে চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে গিয়েছিলেন রকিবুর রহমান। সম্প্রতি তার স্বাস্থ্যের অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

তথ্যানুযায়ী, বেশ কয়েক বছর ধরেই প্রোস্টেট ক্যান্সারে ভুগছিলেন ডিএসইর এ প্রবীণ সদস্য। সিঙ্গাপুরে কয়েক দফা চিকিৎসায় তিনি অনেকটা সুস্থ হন। মাঝে তিনি দুবার করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন। গত বছরের ডিসেম্বরে থাইল্যান্ডে যাওয়ার আগে তিনি রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।

মো. রকিবুর রহমানের জন্ম ১৯৫১ সালের ১৮ আগস্ট ফেনী জেলার পরশুরাম থানার ১ নম্বর মির্জানগর ইউনিয়নের আশরাফপুর গ্রামের সাহেব বাড়ির এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে। ১৯৬৯ সালে সিলেট সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন তিনি। পরবর্তীকালে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৭৫ সালের ২৮ জুন তিনি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সদস্য পদ লাভ করেন। টানা তিন মেয়াদে দীর্ঘ ছয় বছর সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে ডিএসই’র চেয়ারম্যান বা প্রেসিডেন্ট এবং বিভিন্ন মেয়াদে ১২ বছর ডিএসই’র কাউন্সিলর বা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ডিএসই’র চেয়ারম্যান থাকাকালীন বিশ্বের অন্যান্য পুঁজিবাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ক্রমাগত উন্নয়ন পরিকল্পনার অধীনে ডিএসইকে এ অঞ্চলের অন্যতম সেরা স্টক এক্সচেঞ্জ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার প্রয়াসে তিনি বিভিন্ন সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছেন।

পুঁজিবাজার সম্পর্কে বিনিয়োগকারী ও বাজার চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পুঁজিবাজার সংক্রান্ত সামগ্রিক শিক্ষা কার্যক্রমের পরিকল্পনা হাতে নেয়া ডিএসই ভবনের জন্য নিকুঞ্জে সরকারের কাছ থেকে চার বিঘা জমি বরাদ্দ পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই সন্তানসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।

ঢাকা/এসআর

শেয়ার করুন

না ফেরার দেশে ডিএসইর সাবেক প্রেসিডেন্ট রকিবুর রহমান

আপডেট: ০১:২৪:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ মার্চ ২০২২

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক প্রেসিডেন্ট রকিবুর রহমান। শুক্রবার (১৮ মার্চ) রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না-ইলাইহি রাজিউন।

মরহুমের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আজ বাদ এশা গুলশান আজাদ মসজিদে জানাজা শেষে তাকে বনানী কবরস্থানে সমাহিত করা হবে বলে জানা গেছে।

গত সোমবার রাত আটটায় সংকটাপন্ন অবস্থায় এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে করে থাইল্যান্ড থেকে দেশে আনা হয়। এরপর রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) তাকে ভর্তি করা হয়।

এর আগে তিনি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) ভর্তি হয়েছিলেন।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

২০২১ সালের ডিসেম্বরে চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে গিয়েছিলেন রকিবুর রহমান। সম্প্রতি তার স্বাস্থ্যের অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

তথ্যানুযায়ী, বেশ কয়েক বছর ধরেই প্রোস্টেট ক্যান্সারে ভুগছিলেন ডিএসইর এ প্রবীণ সদস্য। সিঙ্গাপুরে কয়েক দফা চিকিৎসায় তিনি অনেকটা সুস্থ হন। মাঝে তিনি দুবার করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন। গত বছরের ডিসেম্বরে থাইল্যান্ডে যাওয়ার আগে তিনি রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।

মো. রকিবুর রহমানের জন্ম ১৯৫১ সালের ১৮ আগস্ট ফেনী জেলার পরশুরাম থানার ১ নম্বর মির্জানগর ইউনিয়নের আশরাফপুর গ্রামের সাহেব বাড়ির এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে। ১৯৬৯ সালে সিলেট সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন তিনি। পরবর্তীকালে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৭৫ সালের ২৮ জুন তিনি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সদস্য পদ লাভ করেন। টানা তিন মেয়াদে দীর্ঘ ছয় বছর সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে ডিএসই’র চেয়ারম্যান বা প্রেসিডেন্ট এবং বিভিন্ন মেয়াদে ১২ বছর ডিএসই’র কাউন্সিলর বা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ডিএসই’র চেয়ারম্যান থাকাকালীন বিশ্বের অন্যান্য পুঁজিবাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ক্রমাগত উন্নয়ন পরিকল্পনার অধীনে ডিএসইকে এ অঞ্চলের অন্যতম সেরা স্টক এক্সচেঞ্জ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার প্রয়াসে তিনি বিভিন্ন সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছেন।

পুঁজিবাজার সম্পর্কে বিনিয়োগকারী ও বাজার চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পুঁজিবাজার সংক্রান্ত সামগ্রিক শিক্ষা কার্যক্রমের পরিকল্পনা হাতে নেয়া ডিএসই ভবনের জন্য নিকুঞ্জে সরকারের কাছ থেকে চার বিঘা জমি বরাদ্দ পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই সন্তানসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।

ঢাকা/এসআর