০৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

পতনের বাজারেও লোকসানি কোম্পানির দৌরাত্ম্য বাড়ছে

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ০৮:১১:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ জুলাই ২০২২
  • / ১০৪০৪ বার দেখা হয়েছে

ফাইল ছবি

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) যখন ৯৪ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারের দর কমেছে, তখন দর হার বৃদ্ধির তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে মন্দ কোম্পানিগুলোর শেয়ার। এমতাবস্থায় বলা যায় পতনের বাজারেও লোকসানি কোম্পানির দৌরাত্ম্য বাড়ছে।

আজ সোমবার (১৮ জুলাই) ডিএসইর দরের হার বৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষ দশ অবস্থানে থাকা কোম্পানিগুলির বেশিরভাগই মন্দ বা লোকসানি।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

ডিএসইতে দরের হার বৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে রয়েছে আইসিবি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড। আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারের দর বেড়েছে ৯ দশমিক ০৯১ শতাংশ। অথচ গত কয়েক বছর ধরে বিনিয়োগকারীদের হাতে ডিভিডেন্ড হিসেবে লোকসান তুলে দিয়ে আসছে ব্যাংকটি।

তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানির শেয়ারের দর বেড়েছে ৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ। কিন্তু ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সূত্রমতে জানা যায় ২০১৩ সালের পর কোম্পানিটি আর কোন ডিভিডেন্ড দিতে পারেনি কোম্পানিটির বিনিয়োগকারীদের। উল্টো চলতি বছরের জুন মাসের ১৪ তারিখে অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভায় ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি (ইপিএস) ১২ টাকা ২০ পয়সা লোকসান দেখিয়েছে।

২০১৬ সালে শেষবারের মতো ডিভিডেন্ড ঘোষণা দেয়া মিথুন নিটিং অ্যান্ড ডাইং রয়েছে এ তাল্লিকার তৃতীয় অবস্থানে। ডিএসই সূত্রে জানা যায় গত কয়েক বছরে কোন এজিএম করেনি কোম্পানিটি। সোমবার কোম্পানিটির শেয়ারের দর বেড়েছে ৩ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

২.৭১ শতাংশ শেয়ারের দর বৃদ্ধির পর এ তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে সাভার রিফ্র্যাক্টরিজ লিমিটেড। বছরের পর বছর বিনিয়োগকারীদের লোকসান দেখিয়ে আসা সাভার রিফ্র্যাক্টরিজের শেয়ারের দাম সোমবার ২৩৯ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ৬ টাকা ৫০ পয়সা বেড়ে ২৪৬ টাকা ২০ পয়সায় পৌছায়।

তালিকায় লিব্রা ইনফিউশন লিমিটেড রয়েছে ষষ্ঠ অবস্থানে। ডিএসইর তথ্যমতে সোমবার কোম্পানিটির শেয়ারের দর বেড়েছে ১ দশমিক ৬৯ শতাংশ বা ১৬ টাকা ৭ পয়সা। গত বছর এপ্রিল মাসের ১২ তারিখে ৩০ জুন, ২০১৯ তারিখে সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য মাত্র ৫ শতাংশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করে কোম্পানিটি। এর পর থেকে প্রতি প্রান্তিকেই শেয়ার প্রতি লোকসান দেখিয়ে আসছে কোম্পানিটি।

তালিকায় অষ্টম অবস্থানে থাকা স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের শেয়ারের দর বেড়েছে ০ দশমিক ৭৫ শতাংশ বা ১ টাকা ২ পয়সা। ২০২০ এবং ২০২১ সালে ১ শতাংশ করে ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা দেইয়া এই কোম্পানিটিও বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘ সময় ধরে লোকসান দেখিয়ে আসছে।

অন্যদিকে তালিকায় পঞ্চম, সপ্তম, নবম এবং দশম অবস্থানে যথাক্রমে ওরিয়ন ইনফিউশন, ব্যাংক এশিয়া, এইচ আর টেক্সটাইল এবং ট্রাষ্ট ব্যাংকের মতো কিছু ভালো প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

মূলত নিয়মিত আর্থিক প্রতিবেদন জমা না দেয়া, অনিয়মিত বার্ষিক সাধারণ সভা, দীর্ঘ সময় লোকসানে থাকা সহ এরকম কিছু নেতিবাচক কারণে এসব কোম্পানির শেয়ারগুলোকে “জাঙ্ক শেয়ার” হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ঢাকা/টিএ

শেয়ার করুন

পতনের বাজারেও লোকসানি কোম্পানির দৌরাত্ম্য বাড়ছে

আপডেট: ০৮:১১:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ জুলাই ২০২২

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) যখন ৯৪ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারের দর কমেছে, তখন দর হার বৃদ্ধির তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে মন্দ কোম্পানিগুলোর শেয়ার। এমতাবস্থায় বলা যায় পতনের বাজারেও লোকসানি কোম্পানির দৌরাত্ম্য বাড়ছে।

আজ সোমবার (১৮ জুলাই) ডিএসইর দরের হার বৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষ দশ অবস্থানে থাকা কোম্পানিগুলির বেশিরভাগই মন্দ বা লোকসানি।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

ডিএসইতে দরের হার বৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে রয়েছে আইসিবি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড। আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারের দর বেড়েছে ৯ দশমিক ০৯১ শতাংশ। অথচ গত কয়েক বছর ধরে বিনিয়োগকারীদের হাতে ডিভিডেন্ড হিসেবে লোকসান তুলে দিয়ে আসছে ব্যাংকটি।

তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানির শেয়ারের দর বেড়েছে ৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ। কিন্তু ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সূত্রমতে জানা যায় ২০১৩ সালের পর কোম্পানিটি আর কোন ডিভিডেন্ড দিতে পারেনি কোম্পানিটির বিনিয়োগকারীদের। উল্টো চলতি বছরের জুন মাসের ১৪ তারিখে অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভায় ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি (ইপিএস) ১২ টাকা ২০ পয়সা লোকসান দেখিয়েছে।

২০১৬ সালে শেষবারের মতো ডিভিডেন্ড ঘোষণা দেয়া মিথুন নিটিং অ্যান্ড ডাইং রয়েছে এ তাল্লিকার তৃতীয় অবস্থানে। ডিএসই সূত্রে জানা যায় গত কয়েক বছরে কোন এজিএম করেনি কোম্পানিটি। সোমবার কোম্পানিটির শেয়ারের দর বেড়েছে ৩ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

২.৭১ শতাংশ শেয়ারের দর বৃদ্ধির পর এ তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে সাভার রিফ্র্যাক্টরিজ লিমিটেড। বছরের পর বছর বিনিয়োগকারীদের লোকসান দেখিয়ে আসা সাভার রিফ্র্যাক্টরিজের শেয়ারের দাম সোমবার ২৩৯ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ৬ টাকা ৫০ পয়সা বেড়ে ২৪৬ টাকা ২০ পয়সায় পৌছায়।

তালিকায় লিব্রা ইনফিউশন লিমিটেড রয়েছে ষষ্ঠ অবস্থানে। ডিএসইর তথ্যমতে সোমবার কোম্পানিটির শেয়ারের দর বেড়েছে ১ দশমিক ৬৯ শতাংশ বা ১৬ টাকা ৭ পয়সা। গত বছর এপ্রিল মাসের ১২ তারিখে ৩০ জুন, ২০১৯ তারিখে সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য মাত্র ৫ শতাংশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করে কোম্পানিটি। এর পর থেকে প্রতি প্রান্তিকেই শেয়ার প্রতি লোকসান দেখিয়ে আসছে কোম্পানিটি।

তালিকায় অষ্টম অবস্থানে থাকা স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের শেয়ারের দর বেড়েছে ০ দশমিক ৭৫ শতাংশ বা ১ টাকা ২ পয়সা। ২০২০ এবং ২০২১ সালে ১ শতাংশ করে ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা দেইয়া এই কোম্পানিটিও বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘ সময় ধরে লোকসান দেখিয়ে আসছে।

অন্যদিকে তালিকায় পঞ্চম, সপ্তম, নবম এবং দশম অবস্থানে যথাক্রমে ওরিয়ন ইনফিউশন, ব্যাংক এশিয়া, এইচ আর টেক্সটাইল এবং ট্রাষ্ট ব্যাংকের মতো কিছু ভালো প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

মূলত নিয়মিত আর্থিক প্রতিবেদন জমা না দেয়া, অনিয়মিত বার্ষিক সাধারণ সভা, দীর্ঘ সময় লোকসানে থাকা সহ এরকম কিছু নেতিবাচক কারণে এসব কোম্পানির শেয়ারগুলোকে “জাঙ্ক শেয়ার” হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ঢাকা/টিএ