০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬

পরিবর্তন আসতে পারে খেলাপি ঋণ পুনঃতফশিল নীতিমালায়

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ১২:০৫:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ জুলাই ২০২২
  • / ১০৩৮০ বার দেখা হয়েছে

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: ঋণ পুনঃতফশিল ও পুনর্গঠনে ব্যাপক ছাড় দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নীতিমালা নিয়ে সমালোচনার মধ্যে ব্যাংকের এমডিদের মতামত নিতে আজ সোমবার (২৫ জুলাই) ব্যাংকার্স সভা ডেকেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই নীতিমালায় ব্যাংকের ওপর কী প্রভাব পড়বে, আজকের সভা থেকে তা জানতে চাওয়া হবে। সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে দেওয়া মতামতের ভিত্তিতে খেলাপি ঋণ পুনঃতফশিল নীতিমালায় পরিবর্তন আসতে পারে বলে জানা গেছে।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

ঋণ পুনঃতফশিল ও পুনর্গঠন বিষয়ে ব্যাপক ছাড় দিয়ে গত ১৮ জুলাই নতুন নীতিমালা জারির পর থেকে বিভিন্ন পক্ষের সমালোচনার মুখে পড়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

আব্দুর রউফ তালুকদার গভর্নর হিসেবে গত ১২ জুলাই যোগদানের পর এমডিদের সঙ্গে এটা প্রথম সভা। আজকের সভার তিনটি আলোচ্যসূচি ঠিক করে তা সব ব্যাংকের এমডিকে পাঠানো হয়েছে। ঋণ পুনঃতফশিল ও পুনর্গঠন বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি সিএমএসএমই খাতে ঋণ বাড়ানো এবং বৈদেশিক মুদ্রার খরচ কমাতে সাম্প্রতিক বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হবে।

কয়েকজন এমডি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরপেক্ষ মনোভাব বুঝে আজকের সভায় তাঁরা কথা বলবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্বোধনী বক্তব্য শুনে যদি তাঁরা মনে করেন, এই সার্কুলারে ব্যাংকের প্রকৃত লাভ-ক্ষতি বুঝতে চাচ্ছে, তখন নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে বক্তব্য দেবে। এই সার্কুলার বিষয়ে কঠোর মনোভাব থাকলে চুপ থাকবেন কিংবা নির্দেশনা বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরামর্শ চাইবেন। এর কারণ হিসেবে তাঁরা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু নিরপেক্ষ বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এমডিদের চাপে পড়তে হয়েছে। এর আগে ন্যূনতম বেতন কাঠামো ঘোষণার পর তা বাস্তবায়ন এবং করোনার সময়ে চাকরিচ্যুতদের চাকরি ফেরত বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে বক্তব্যের কারণে তাঁদের ওপর ব্যক্তিগতভাবে চাপ তৈরি করা হয়।

আগে কোনো ঋণ পুনর্গঠনের সুযোগ ছিল না। তবে গত ১৮ জুলাইয়ের নির্দেশনায় একটি নিয়মিত ঋণ অবশিষ্ট মেয়াদের ৫০ শতাংশ সময়ের জন্য পুনর্গঠনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। মেয়াদি, নিয়মিত, তলবিসহ সব ধরনের ঋণ চার দফা পুনঃতফশিলের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ৫০০ কোটি টাকার বেশি অঙ্কের একটি মেয়াদি ঋণ চার দফায় ২৯ বছর পর্যন্ত পুনঃতফশিলের সুযোগ রাখা হয়েছে। সব পর্যায়ে ডাউনপেমেন্ট তথা নগদ জমার হার কয়েক গুণ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আবার এ ধরনের ঋণগ্রহীতারা মাত্র ৩ শতাংশ কম্প্রোমাইস অ্যামাউন্ট জমার বিপরীতে নতুন ঋণ নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। আগে যেখানে নূ্যনতম ১৫ শতাংশ জমা দিতে হতো। এ ছাড়া পুরো প্রক্রিয়াটি ব্যাংকের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ব্যাপক এই ছাড়ের ফলে সাময়িকভাবে খেলাপি ঋণ অনেক কমবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকের তহবিল আদায় আটকে গিয়ে চাপ তৈরি হবে।

কর্মসংস্থান বাড়াতে ২০২৪ সালের মধ্যে মোট ঋণের ২৫ শতাংশ সিএমএসএমই খাতে বিতরণের নির্দেশনা রয়েছে। এ খাতে ঋণ বাড়াতে গ্রাহক পর্যায়ে মাত্র ৭ শতাংশ সুদে বিতরণের জন্য ২৫ হাজার কোটি টাকার একটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করা হয়েছে।

জানা গেছে, আজকের সভায় বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমাতে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে নেওয়া পদক্ষেপ মেনে চলতে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।

ঢাকা/টিএ

শেয়ার করুন

পরিবর্তন আসতে পারে খেলাপি ঋণ পুনঃতফশিল নীতিমালায়

আপডেট: ১২:০৫:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ জুলাই ২০২২

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: ঋণ পুনঃতফশিল ও পুনর্গঠনে ব্যাপক ছাড় দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নীতিমালা নিয়ে সমালোচনার মধ্যে ব্যাংকের এমডিদের মতামত নিতে আজ সোমবার (২৫ জুলাই) ব্যাংকার্স সভা ডেকেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই নীতিমালায় ব্যাংকের ওপর কী প্রভাব পড়বে, আজকের সভা থেকে তা জানতে চাওয়া হবে। সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে দেওয়া মতামতের ভিত্তিতে খেলাপি ঋণ পুনঃতফশিল নীতিমালায় পরিবর্তন আসতে পারে বলে জানা গেছে।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

ঋণ পুনঃতফশিল ও পুনর্গঠন বিষয়ে ব্যাপক ছাড় দিয়ে গত ১৮ জুলাই নতুন নীতিমালা জারির পর থেকে বিভিন্ন পক্ষের সমালোচনার মুখে পড়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

আব্দুর রউফ তালুকদার গভর্নর হিসেবে গত ১২ জুলাই যোগদানের পর এমডিদের সঙ্গে এটা প্রথম সভা। আজকের সভার তিনটি আলোচ্যসূচি ঠিক করে তা সব ব্যাংকের এমডিকে পাঠানো হয়েছে। ঋণ পুনঃতফশিল ও পুনর্গঠন বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি সিএমএসএমই খাতে ঋণ বাড়ানো এবং বৈদেশিক মুদ্রার খরচ কমাতে সাম্প্রতিক বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হবে।

কয়েকজন এমডি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরপেক্ষ মনোভাব বুঝে আজকের সভায় তাঁরা কথা বলবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্বোধনী বক্তব্য শুনে যদি তাঁরা মনে করেন, এই সার্কুলারে ব্যাংকের প্রকৃত লাভ-ক্ষতি বুঝতে চাচ্ছে, তখন নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে বক্তব্য দেবে। এই সার্কুলার বিষয়ে কঠোর মনোভাব থাকলে চুপ থাকবেন কিংবা নির্দেশনা বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরামর্শ চাইবেন। এর কারণ হিসেবে তাঁরা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু নিরপেক্ষ বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এমডিদের চাপে পড়তে হয়েছে। এর আগে ন্যূনতম বেতন কাঠামো ঘোষণার পর তা বাস্তবায়ন এবং করোনার সময়ে চাকরিচ্যুতদের চাকরি ফেরত বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে বক্তব্যের কারণে তাঁদের ওপর ব্যক্তিগতভাবে চাপ তৈরি করা হয়।

আগে কোনো ঋণ পুনর্গঠনের সুযোগ ছিল না। তবে গত ১৮ জুলাইয়ের নির্দেশনায় একটি নিয়মিত ঋণ অবশিষ্ট মেয়াদের ৫০ শতাংশ সময়ের জন্য পুনর্গঠনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। মেয়াদি, নিয়মিত, তলবিসহ সব ধরনের ঋণ চার দফা পুনঃতফশিলের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ৫০০ কোটি টাকার বেশি অঙ্কের একটি মেয়াদি ঋণ চার দফায় ২৯ বছর পর্যন্ত পুনঃতফশিলের সুযোগ রাখা হয়েছে। সব পর্যায়ে ডাউনপেমেন্ট তথা নগদ জমার হার কয়েক গুণ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আবার এ ধরনের ঋণগ্রহীতারা মাত্র ৩ শতাংশ কম্প্রোমাইস অ্যামাউন্ট জমার বিপরীতে নতুন ঋণ নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। আগে যেখানে নূ্যনতম ১৫ শতাংশ জমা দিতে হতো। এ ছাড়া পুরো প্রক্রিয়াটি ব্যাংকের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ব্যাপক এই ছাড়ের ফলে সাময়িকভাবে খেলাপি ঋণ অনেক কমবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকের তহবিল আদায় আটকে গিয়ে চাপ তৈরি হবে।

কর্মসংস্থান বাড়াতে ২০২৪ সালের মধ্যে মোট ঋণের ২৫ শতাংশ সিএমএসএমই খাতে বিতরণের নির্দেশনা রয়েছে। এ খাতে ঋণ বাড়াতে গ্রাহক পর্যায়ে মাত্র ৭ শতাংশ সুদে বিতরণের জন্য ২৫ হাজার কোটি টাকার একটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করা হয়েছে।

জানা গেছে, আজকের সভায় বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমাতে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে নেওয়া পদক্ষেপ মেনে চলতে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।

ঢাকা/টিএ