পুঁজিবাজারের বিকাশে ৬ ইস্যুতে গুরুত্বারোপের দাবি
- আপডেট: ০৬:২৭:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুন ২০২২
- / ১০৩৩৫ বার দেখা হয়েছে
শফিউল সুমন: করোনাভাইরাসের কারণে সারা বিশ্বের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাংলাদেশ যার ব্যতিক্রম নয়। নিকট অতীত ২০১০ সালের ধসের পর সরকারের নীতি সহায়তা ও বাজার বান্ধব আইন প্রণয়নের ফলে দেশের পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল, এমতাবস্থায় করোনাভাইরাসের কারণে দেশের অন্য সব খাতের মতোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পুঁজিবাজার। অস্থিতিশীল এ পুঁজিবাজারকে গতিশীল ও বিকশিত করতে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সরকারের কাছে ছয়টি প্রণোদনার দাবি জানায়।
অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুক–টুইটার–লিংকডইন–ইন্সটাগ্রাম–ইউটিউব
আজ সোমবার (১৩ জুন) বাজেট ঘোষণা পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএসইর পক্ষ থেকে ছয়টি দাবি জানানো হয়েছে।
গত ৯ জুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করে। ঘোষিত এই বাজেট নিয়ে স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। এক পক্ষ বাজেট নিয়ে তাদের হতাশা প্রকাশ করেছেন। ডিএসইও মনে করছে তাদের বেশিরভাগ দাবি বা প্রস্তাব বাজেটে প্রতিফলিত হয়নি।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সরকারের জানানো ছয়টি দাবি হলো:- বন্ডবাজার সম্প্রসারণ, কর্পোরেট করহার হ্রাসকরণ, তালিকাভুক্ত কোম্পানি থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশের করমুক্ত সীমাবৃদ্ধিকরণ, এসএমই বোর্ডে তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার হ্রাসকরণ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ আয়ের উপর কর হ্রাস ও স্টক এক্সচেঞ্জে ট্রেকহোল্ডারদের উৎসে কর হ্রাস। নিম্নে বিস্তারিত আলোচনা তুলে ধরা হলো।

বন্ডবাজার সম্প্রসারণ: একটি স্বতন্ত্র বন্ড মার্কেট তৈরীর জন্য রেগুলেটরি এবং টেকনোলজিক্যাল কাঠামো সম্পূর্ণরূপে তৈরী করা হয়েছে। বাংলাদেশে বর্তমানে কর্পোরেট বন্ড মার্কেটের আকার খুবই ছোট। আমরা মনে করি একটি সময়োপযোগী নীতি সহায়তার মাধ্যমে কার্যকর বন্ড মার্কেট তৈরী করা গেলে দেশের শেয়ারবাজার তথা সামগ্রিক অর্থনীতি উপকৃত হবে। সে জন্য জিরো কূপন বন্ডের মতো সকল প্রকার কর্পোরেট বন্ডের উদ্ভূত সুদ বিনিয়োগকারী নির্বিশেষে কর মুক্ত রাখার প্রস্তাব জানায়।
কর্পোরেট করহার হ্রাসকরণ: প্রস্তাবিত বাজেটে ১০ শতাংশের অধিক শেয়ার আইপিও’র মাধ্যমে হস্তান্তর হলে ঐ তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য করহার ২২.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। যা অত্যন্ত সময়োপযোগী পদক্ষেপ। শেয়ারবাজারের টেকসই সম্প্রসারণের জন্য তালিকাভুক্ত এবং অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহারের ব্যবধান নূন্যতম ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়।
তালিকাভুক্ত কোম্পানি থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশের করমুক্ত সীমাবৃদ্ধিকরণ: শেয়ারবাজারে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে করমুক্ত লভ্যাংশের সীমা ৫০ হাজার থেকে নূন্যতম এক লাখ টাকা করার প্রস্তাব জানানো হয়েছে। পাশাপাশি লভ্যাংশ থেকে উৎসে কর চূড়ান্ত করদায় হিসেবে বিবেচনা করার দাবি জানানো হয়।
এসএমই বোর্ডে তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার হ্রাসকরণ: ২০২১ সালে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এসএমই বোর্ড নামে একটি পৃথক বোর্ড চালু করে। যার উদ্দেশ্য হচ্ছে স্বল্প মূলধনী কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করে দীর্ঘমেয়াদী মূলধন যোগান ও কর্পোরেট গভর্ন্যান্স উন্নতরণ। এই বোর্ডে কোম্পানিগুলোকে আগ্রহী করার জন্য নূন্যতম ৫ বছরের জন্য হ্রাসকৃত ১০% হারে কর ধার্য্য করার
দাবি জানানো হয়।
প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ আয়ের উপর কর হ্রাসঃ কোম্পানিগুলো কর পরবর্তী মুনাফা থেকে লভ্যাংশ প্রদান করে। লভ্যাংশ আয়ের উপর কর প্রকৃতপক্ষে দ্বৈত কর। এজন্য কর্পোরেট শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ আয়ের উপর কর ২০% থেকে হ্রাস করে ১০% করার প্রস্তাব করা হয়েছে একই সাথে কর্পোরেট করদাতাদের ক্ষেত্রে লভ্যাংশ আয়ের উপর চুড়ান্ত করহার ১০% করার দাবি জানানো হয়েছে।
স্টক এক্সচেঞ্জে ট্রেকহোল্ডারদের উৎসে কর হ্রাসঃ শেয়ারবাজারের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে ব্রোকারেজ হাউজকে ন্যায়সঙ্গত অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করতে বিদ্যমান অযৌক্তিক করনীতি থেকে অবমুক্তি দিয়ে সিকিউরিটিজ লেনদেনের উপর প্রদত্ত অগ্রিম আয়কর ০.০৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.০১৫ শতাংশ (পূর্বে এটি ০.০১২৫ শতাংশ ছিল) করতে অথবা আয়কর অধ্যাদেশ মোতাবেক নিয়মিত হারে আয়কর প্রদানের আদেশ জারী ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ডিএসইর চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিক আমিন ভুঁইয়া, পরিচালক সিদ্দিকুর রহমান, পরিচালক শরীফ আনোয়ার হোসেন, প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা এম সাইফুর রহমান মজুমদার এফসিএমএ বক্তব্য রাখেন।
ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিক আমিন ভুঁইয়া বলেন, বিভিন্ন কারণে পুঁজিবাজারে পতন হতে পারে। প্রস্তাবিত বাজাটের পরই যে পুঁজিবাজারে পতন হচ্ছে তা বালা সঠিক নয়। যদি অর্থবছরের তিন বা ছয় মাস যায় তার পর বলা যাবে বাজার পতনের জন্য বাজেট দায়ী।
উল্লেখ্য ডিএসই পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে করের হার কামানোর প্রস্তাব করেছে। বর্তমানে বিদেশি বিনিয়োগকারীদেরকে মূলধনী মুনাফার উপর ৩০ শতাংশ হারে কর (Capital Gain Tax) দিতে হয়। আর ডিভিডেন্ডের উপর কর দিতে হয় ২০ শতাংশ হারে।
ঢাকা/এসএ
































