০৩:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

বন্ধ হয়ে গেল দেশের একমাত্র ডিএপি সার কারখানা

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ০১:৩৪:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১০২৩০ বার দেখা হয়েছে

গ্যাস সংকটের কারণে আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের বড় তিনটি সার কারখানাই এখন বন্ধ হয়ে গেছে। আগে থেকেই বন্ধ ছিল চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড ও কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড। এবার একই এলাকায় থাকা ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের উৎপাদনও বন্ধ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ থাকায় কারখানাটির কার্যক্রম থেমে গেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মজুত অ্যামোনিয়া শেষ হয়ে গেলে উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় কারখানা কর্তৃপক্ষ।

দেশের কৃষিখাতে সুষম সারের ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাস সমৃদ্ধ যৌগিক সারের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যেই শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) তত্ত্বাবধানে এই কারখানা স্থাপন করা হয়।

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় অবস্থিত এ কারখানায় দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতার দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদনে থাকা কারখানাটিতে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ মেট্রিক টন সার উৎপাদন হচ্ছিল।

প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই পাশের সিইউএফএল ও কাফকো থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহের ওপর নির্ভর করে উৎপাদন চলছিল। কিন্তু গ্যাস সংকটের কারণে ওই দুই কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মজুত অ্যামোনিয়া দিয়ে কিছুদিন উৎপাদন চালু রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত তা ফুরিয়ে যাওয়ায় উৎপাদন বন্ধ করতে হয়েছে।

কারখানার ব্যবস্থাপক প্রশাসন ও বিভাগীয় প্রধান (প্রশাসন) আলমগীর জলিল বলেন, মজুত অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে এতদিন উৎপাদন চালু রাখা হয়েছিল। কিন্তু নতুন করে সরবরাহ না আসায় তা শেষ হয়ে গেছে, ফলে উৎপাদন বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে সিইউএফএল ও কাফকোতে ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। শুরু থেকেই এই দুই কারখানার ওপর নির্ভরশীল ছিল ডিএপি কারখানাটি। ফলে সেগুলো বন্ধ হওয়ার পর থেকেই কাঁচামাল সরবরাহে সংকট তৈরি হয় এবং শেষ পর্যন্ত উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

ঢাকা/এসএইচ

শেয়ার করুন

বন্ধ হয়ে গেল দেশের একমাত্র ডিএপি সার কারখানা

আপডেট: ০১:৩৪:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

গ্যাস সংকটের কারণে আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের বড় তিনটি সার কারখানাই এখন বন্ধ হয়ে গেছে। আগে থেকেই বন্ধ ছিল চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড ও কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড। এবার একই এলাকায় থাকা ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের উৎপাদনও বন্ধ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ থাকায় কারখানাটির কার্যক্রম থেমে গেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মজুত অ্যামোনিয়া শেষ হয়ে গেলে উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় কারখানা কর্তৃপক্ষ।

দেশের কৃষিখাতে সুষম সারের ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাস সমৃদ্ধ যৌগিক সারের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যেই শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) তত্ত্বাবধানে এই কারখানা স্থাপন করা হয়।

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় অবস্থিত এ কারখানায় দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতার দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদনে থাকা কারখানাটিতে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ মেট্রিক টন সার উৎপাদন হচ্ছিল।

প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই পাশের সিইউএফএল ও কাফকো থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহের ওপর নির্ভর করে উৎপাদন চলছিল। কিন্তু গ্যাস সংকটের কারণে ওই দুই কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মজুত অ্যামোনিয়া দিয়ে কিছুদিন উৎপাদন চালু রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত তা ফুরিয়ে যাওয়ায় উৎপাদন বন্ধ করতে হয়েছে।

কারখানার ব্যবস্থাপক প্রশাসন ও বিভাগীয় প্রধান (প্রশাসন) আলমগীর জলিল বলেন, মজুত অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে এতদিন উৎপাদন চালু রাখা হয়েছিল। কিন্তু নতুন করে সরবরাহ না আসায় তা শেষ হয়ে গেছে, ফলে উৎপাদন বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে সিইউএফএল ও কাফকোতে ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। শুরু থেকেই এই দুই কারখানার ওপর নির্ভরশীল ছিল ডিএপি কারখানাটি। ফলে সেগুলো বন্ধ হওয়ার পর থেকেই কাঁচামাল সরবরাহে সংকট তৈরি হয় এবং শেষ পর্যন্ত উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

ঢাকা/এসএইচ