০৪:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে নেওয়া পদক্ষেপের যে বিবরণ দিলেন রাশেদ মাকসুদ

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ০৩:৪০:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
  • / ১০১৭৮ বার দেখা হয়েছে

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ দায়িত্ব পালন শেষে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। পদত্যাগ উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, গত ২১ মাস ধরে বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর তিনি এখন ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও কর্মকাণ্ডে মনোযোগ দেওয়ার জন্য সরকারি এই পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান কমিশন দেশের শেয়ারবাজারের অত্যন্ত অস্থির ও চ্যালেঞ্জপূর্ণ সময়ে নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বাজারের আইনি কাঠামো সংস্কার এবং শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার কার্যক্রম শুরু করা হয়।

তিনি জানান, স্বল্প সময়ের মধ্যেই কমিশন পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করতে সক্ষম হয়েছে। এগুলো হলো— মার্জিন, আইপিও, মিউচুয়াল ফান্ড, ডেট সিকিউরিটিজ এবং হুইসেলব্লোয়ার সংক্রান্ত বিধিমালা। পাশাপাশি সম্প্রতি করপোরেট গভর্ন্যান্স, অডিট এবং করপোরেট পুনর্গঠন বিষয়ে তিনটি খসড়া বিধিমালা ও নির্দেশিকা জনমত গ্রহণের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে।

খন্দকার রাশেদ মাকসুদ আরও বলেন, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন এবং ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড আইন—এই দুটি নতুন আইনের খসড়াও প্রস্তুত করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের (এফআইডি) কাছে প্রণয়নের জন্য পাঠানো হয়েছে।

বাজারে শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কমপ্লায়েন্স ও এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রমে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও তিনি তুলে ধরেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কমিশন আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক সব ধরনের হস্তক্ষেপমূলক ব্যবস্থা অপসারণ করেছে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাজার, মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান ও ইস্যুয়ারদের স্বাধীনভাবে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নিশ্চিত করেছে। একই সঙ্গে নিয়মিত অংশীজন সম্পৃক্ততা কার্যক্রমও পরিচালিত হয়েছে।

 

বিনিয়োগকারী সচেতনতা ও শিক্ষা কার্যক্রমেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা উল্লেখ করেন তিনি। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিও প্রতিযোগিতার আয়োজন এবং প্রশাসনের তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে এ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে বলে জানান তিনি।

 

বাজার গবেষণা

চেয়ারম্যান বলেন, এসব অর্জন সম্ভব হয়েছে বিএসইসির নবউদ্যমী ও পুনর্গঠিত একটি কর্মদলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়। তাঁর মতে, কমিশনের এই দল ভবিষ্যতে আরও বড় অবদান রাখতে প্রস্তুত এবং আগ্রহী।

বার্তার শেষাংশে তিনি বলেন, বর্তমান কমিশন দেশের পুঁজিবাজারে একটি দীর্ঘস্থায়ী ইতিবাচক প্রভাব রেখে যেতে পেরে গর্বিত। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনকালে সহযোগিতা ও সমর্থন দেওয়ার জন্য সহকর্মী, অংশীজন এবং সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

শেয়ার করুন

বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে নেওয়া পদক্ষেপের যে বিবরণ দিলেন রাশেদ মাকসুদ

আপডেট: ০৩:৪০:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ দায়িত্ব পালন শেষে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। পদত্যাগ উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, গত ২১ মাস ধরে বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর তিনি এখন ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও কর্মকাণ্ডে মনোযোগ দেওয়ার জন্য সরকারি এই পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান কমিশন দেশের শেয়ারবাজারের অত্যন্ত অস্থির ও চ্যালেঞ্জপূর্ণ সময়ে নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বাজারের আইনি কাঠামো সংস্কার এবং শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার কার্যক্রম শুরু করা হয়।

তিনি জানান, স্বল্প সময়ের মধ্যেই কমিশন পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করতে সক্ষম হয়েছে। এগুলো হলো— মার্জিন, আইপিও, মিউচুয়াল ফান্ড, ডেট সিকিউরিটিজ এবং হুইসেলব্লোয়ার সংক্রান্ত বিধিমালা। পাশাপাশি সম্প্রতি করপোরেট গভর্ন্যান্স, অডিট এবং করপোরেট পুনর্গঠন বিষয়ে তিনটি খসড়া বিধিমালা ও নির্দেশিকা জনমত গ্রহণের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে।

খন্দকার রাশেদ মাকসুদ আরও বলেন, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন এবং ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড আইন—এই দুটি নতুন আইনের খসড়াও প্রস্তুত করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের (এফআইডি) কাছে প্রণয়নের জন্য পাঠানো হয়েছে।

বাজারে শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কমপ্লায়েন্স ও এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রমে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও তিনি তুলে ধরেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কমিশন আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক সব ধরনের হস্তক্ষেপমূলক ব্যবস্থা অপসারণ করেছে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাজার, মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান ও ইস্যুয়ারদের স্বাধীনভাবে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নিশ্চিত করেছে। একই সঙ্গে নিয়মিত অংশীজন সম্পৃক্ততা কার্যক্রমও পরিচালিত হয়েছে।

 

বিনিয়োগকারী সচেতনতা ও শিক্ষা কার্যক্রমেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা উল্লেখ করেন তিনি। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিও প্রতিযোগিতার আয়োজন এবং প্রশাসনের তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে এ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে বলে জানান তিনি।

 

বাজার গবেষণা

চেয়ারম্যান বলেন, এসব অর্জন সম্ভব হয়েছে বিএসইসির নবউদ্যমী ও পুনর্গঠিত একটি কর্মদলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়। তাঁর মতে, কমিশনের এই দল ভবিষ্যতে আরও বড় অবদান রাখতে প্রস্তুত এবং আগ্রহী।

বার্তার শেষাংশে তিনি বলেন, বর্তমান কমিশন দেশের পুঁজিবাজারে একটি দীর্ঘস্থায়ী ইতিবাচক প্রভাব রেখে যেতে পেরে গর্বিত। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনকালে সহযোগিতা ও সমর্থন দেওয়ার জন্য সহকর্মী, অংশীজন এবং সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।