বাসে ৪০ % ভাড়া বাড়লো, যাত্রী দুর্ভোগ চরমে
- আপডেট: ০৩:৩৪:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ নভেম্বর ২০২১
- / ১০৩২৮ বার দেখা হয়েছে
বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: জ্বালানি তেলের মূল্য এক লাফে ২৩ শতাংশ বৃদ্ধি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। দেশের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত জনগণের জীবন-জীবিকা সচল রাখতে ‘অযৌক্তিকভাবে’ বর্ধিত জ্বালানি তেলের মূল্য। এ বার জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিবহন মালিকদের দাবির মুখে বাড়ল বাস ভাড়া। ডিজেলের দাম ২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় গড়ে ৪০ শতাংশের বেশি বাস ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে সড়ক পরিবহন মালিকেরা।
অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুক–টুইটার–লিংকডইন–ইন্সটাগ্রাম–ইউট
বাংলাদেশ পরিবহন মালিক সমিতির নতুন প্রস্তাবে বলা হয়েছে, দূরপাল্লার বর্তমান বাসভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১ টাকা ৪২ পয়সা, তা বাড়িয়ে ২ টাকা করার প্রস্তাব হয়েছে। অর্থাৎ এতে কিলোমিটারপ্রতি যাত্রীকে বাড়তি ৫৮ পয়সা গুনতে হবে। ভাড়া বৃদ্ধির এ হার ৪০.৮৫ শতাংশ। এছাড়া মহানগরে বাসের বর্তমান ভাড়া কিলোমিটারে ১.৭০ পয়সা, প্রস্তাব হয়েছে ২.৪০ পয়সা করার। এতে ৭০ পয়সা ভাড়া বাড়বে। বাড়তি ভাড়ার এ শতকরা হার ৪১.১৮ শতাংশ। মহানগরে মিনিবাসের বর্তমান ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১.৬০ পয়সা। এটি বাড়িয়ে ২.৪০ পয়সা করার প্রস্তাব হয়েছে। এতে ভাড়া বাড়ে কিলোমিটারপ্রতি ৮০ পয়সা। ভাড়া বৃদ্ধির এ হার ৫০ শতাংশ।
তবে মালিপক্ষের এই প্রস্তাবের জবাবে বিআরটিএ জানিয়েছে, বাস ভাড়া বাড়িয়ে দুরপাল্লায় কিলোমিটারে ১ টাকা ৮২ পয়সা ও মহানগরে ২ টাকা ১০ পয়সা করতে চায় তারা। সে হিসেবে দুরপাল্লায় বাস ভাড়া বাড়ছে কিলোমিটারে ৪০ পয়সা ও মহানগরে বাস ভাড়া বাড়ছে কিলোমিটারে ৪০ পয়সা করে।
ইয়াছিন আরাফাত কাজ করেন পল্টনের একটি বেসরকারি কোম্পানিতে। থাকেন শনিরআখড়া এলাকায়। প্রতিদিন সকাল ৯টায় অফিসে যোগ দিতে হয় তার। যাত্রী কল্যাণ সমিতির এ সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি জানান, “করোনার দোহাই দিয়ে এক বছর ধরে গণপরিবহনে ৬০ শতাংশ বেশি ভাড়া আদায় করা হয়েছে। এখন আবার জ্বালানি তেলের মূল্যকে কেন্দ্র করে ডিজেলের দাম ২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় গড়ে ৪০ শতাংশ বাড়িয়েছে এতে করে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ আরো চরমে পোঁছাবে বলে তিনি মনে করেন”
এতে যাত্রীস্বার্থ চরমভাবে উপেক্ষিত হচ্ছে, ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি নৈরাজ্য ও যাত্রী হয়রানিকে আরেক দফা উসকে দেওয়া ছাড়া আর কিছুই না। এমনিতেই বাজারে দ্রব্যমূল্যের দাম আকাশচুম্বী। এখন তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে গণপরিবহনের ভাড়াও অমানবিকভাবে বৃদ্ধি করা হলো। একজন গরিব নিম্নবিত্ত দিনমজুর কিংবা মধ্যবিত্তের সারাদিনের আয়ের পুরোটাই নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য কিনতে এবং যাতায়াত খরচ বহন করতে যদি চলে যায় তাহলে তাদের মৃত্যু ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।
প্রসঙ্গত, রোববার (৭ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বনানীতে বিআরটিএ কার্যালয়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রেক্ষাপটে গণপরিবহনে ভাড়া পুনর্নির্ধারণে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সঙ্গে পরিবহন মালিক সমিতির নেতাদের বৈঠক থেকে উভয়পক্ষই এই প্রস্তাব দেয়। তবে বিআরটিএ নাকি মালিকপক্ষ কাদের প্রস্তাব অনুযায়ী বাস ভাড়া বাড়ছে সেই সিদ্ধান্ত হয়তো বৈঠক শেষেই আসবে।
এর আগে গত বুধবার রাতে ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বা ২৩ শতাংশ বাড়িয়ে ৮০ টাকা নির্ধারণ করে জ্বালানি বিভাগ। বৃহস্পতিবার সকালেই পণ্যবাহী গাড়ির মালিক-শ্রমিকদের সংগঠন ধর্মঘটে যাওয়ার ডাক দেয়। জেলায় জেলায় বাস না চালানোর ঘোষণাও দেয়া হয়।
ঢাকা/এমটি



































