০২:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬

ব্যাংকগুলোতে নগদ টাকার ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ১২:৩৯:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মে ২০২২
  • / ১০২৮১ বার দেখা হয়েছে

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: ঈদের পর ব্যাংকগুলোতে গ্রাহকের ভিড় নেই। টাকা তোলার চাপও নেই। এরপরও ব্যাংকগুলোতে নগদ টাকার সংকট কাটেনি। এক ব্যাংক অন্য ব্যাংক থেকে ধার করছে। এ জন্য কলমানির বেশ চাহিদা। ফলে বৃহস্পতিবার (০৫ মে) এর গড় সুদের হার ৪ দশমিক ৭৭ শতাংশে ঠেকেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ব্যাংকগুলোর নগদ টাকার ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতার কারণেই তারল্য সংকটে পড়তে হচ্ছে।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

ঈদের পর বৃহস্পতিবার (০৫ মে) ব্যাংক খোলা ছিল। ওইদিন ব্যাংকে গ্রাহকের উপস্থিতি ছিল একেবারেই কম। নগদ টাকার তেমন কোনো চাহিদাই ছিল না। এরপরও মুদ্রাবাজারে কলমানির (এক দিনের জন্য এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকের ধার) সুদের হার কমেনি। এর কারণ হিসাবে জানা গেছে, ঈদের আগে যেসব ব্যাংক কলমানিতে ধার করেছে তারা এর মেয়াদ আরও বাড়িয়ে নিয়েছে। ফলে সুদের হার একেবারে কমেনি। ধারের টাকা দিয়ে ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নগদ জমা সংরক্ষণ বা ক্যাশ রিজার্ভ রেশিওর (সিআরআর) ঘাটতি পূরণ করেছে। সব ব্যাংককে আমানতের বিপরীতে ৪ শতাংশ অর্থ নগদ আকারে রাখতে হয়। জরুরি প্রয়োজনে এসব অর্থ ব্যাংক ব্যবহার করতে পারে। এ জমায় ঘাটতি হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে জরিমানা করে। যে কারণে ধার করে হলেও সিআরআর ঘাটতি পূরণ করে।

ঈদের আগে শেষ ব্যাংকিং লেনদেনের দিন ৩০ এপ্রিল কলমানির সুদের হার গড়ে ছিল ৪ দশমিক ৮৬ শতাংশ। এ হার সর্বনিম্ন ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ২৫ শতাংশে ওঠানামা করেছে। ঈদের পর প্রথম ব্যাংকিং লেনদেনের দিন বৃহস্পতিবার এ হার কিছুটা কমে সাড়ে ৪ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে উঠানামা করেছে। দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটির পর আজ রোববার থেকে ব্যাংকে স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড শুরু হবে। তবে মুদ্রা বাজার স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে। গ্রাহকরা যেসব টাকা তুলে নিয়েছেন সেগুলো কয়েক হাত ঘুরে ব্যাংকে ফেরত আসতে দুই সপ্তাহের মতো লাগতে পারে। এর মধ্যে মুদ্রা বাজার স্বাভাবিক হতে পারে। তবে আমদানি ব্যয় বাড়ায় ব্যাংকগুলোতে ডলারের চাহিদা বেড়ে যাচ্ছে।

ব্যাংকে পর্যাপ্ত ডলার না থাকায় তারা নগদ টাকা দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে কিনছে। এতেও ব্যাংকগুলোতে নগদ টাকার চাহিদা বাড়বে। কেননা গত নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতি মাসে গড়ে ৭০০ কোটি ডলারের বেশি দেনা শোধ করতে হয়েছে। ওই সময়ে প্রতি মাসে গড়ে ৮০০ কোটি ডলারের বেশি এলসি খোলা হয়েছে। ফলে আগামী মাসগুলোতে এসব দেনা শোধ করতে হবে। আমদানির দেনা শোধ করতে চলতি অর্থবছরের মধ্য এপ্রিল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে প্রায় ৪০০ কোটি ডলার বিক্রি করেছে। এর বিপরীতে ব্যাংকগুলো থেকে প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকা তুলে নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ঢাকা/এসএ

শেয়ার করুন

ব্যাংকগুলোতে নগদ টাকার ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা

আপডেট: ১২:৩৯:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মে ২০২২

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: ঈদের পর ব্যাংকগুলোতে গ্রাহকের ভিড় নেই। টাকা তোলার চাপও নেই। এরপরও ব্যাংকগুলোতে নগদ টাকার সংকট কাটেনি। এক ব্যাংক অন্য ব্যাংক থেকে ধার করছে। এ জন্য কলমানির বেশ চাহিদা। ফলে বৃহস্পতিবার (০৫ মে) এর গড় সুদের হার ৪ দশমিক ৭৭ শতাংশে ঠেকেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ব্যাংকগুলোর নগদ টাকার ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতার কারণেই তারল্য সংকটে পড়তে হচ্ছে।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

ঈদের পর বৃহস্পতিবার (০৫ মে) ব্যাংক খোলা ছিল। ওইদিন ব্যাংকে গ্রাহকের উপস্থিতি ছিল একেবারেই কম। নগদ টাকার তেমন কোনো চাহিদাই ছিল না। এরপরও মুদ্রাবাজারে কলমানির (এক দিনের জন্য এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকের ধার) সুদের হার কমেনি। এর কারণ হিসাবে জানা গেছে, ঈদের আগে যেসব ব্যাংক কলমানিতে ধার করেছে তারা এর মেয়াদ আরও বাড়িয়ে নিয়েছে। ফলে সুদের হার একেবারে কমেনি। ধারের টাকা দিয়ে ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নগদ জমা সংরক্ষণ বা ক্যাশ রিজার্ভ রেশিওর (সিআরআর) ঘাটতি পূরণ করেছে। সব ব্যাংককে আমানতের বিপরীতে ৪ শতাংশ অর্থ নগদ আকারে রাখতে হয়। জরুরি প্রয়োজনে এসব অর্থ ব্যাংক ব্যবহার করতে পারে। এ জমায় ঘাটতি হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে জরিমানা করে। যে কারণে ধার করে হলেও সিআরআর ঘাটতি পূরণ করে।

ঈদের আগে শেষ ব্যাংকিং লেনদেনের দিন ৩০ এপ্রিল কলমানির সুদের হার গড়ে ছিল ৪ দশমিক ৮৬ শতাংশ। এ হার সর্বনিম্ন ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ২৫ শতাংশে ওঠানামা করেছে। ঈদের পর প্রথম ব্যাংকিং লেনদেনের দিন বৃহস্পতিবার এ হার কিছুটা কমে সাড়ে ৪ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে উঠানামা করেছে। দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটির পর আজ রোববার থেকে ব্যাংকে স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড শুরু হবে। তবে মুদ্রা বাজার স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে। গ্রাহকরা যেসব টাকা তুলে নিয়েছেন সেগুলো কয়েক হাত ঘুরে ব্যাংকে ফেরত আসতে দুই সপ্তাহের মতো লাগতে পারে। এর মধ্যে মুদ্রা বাজার স্বাভাবিক হতে পারে। তবে আমদানি ব্যয় বাড়ায় ব্যাংকগুলোতে ডলারের চাহিদা বেড়ে যাচ্ছে।

ব্যাংকে পর্যাপ্ত ডলার না থাকায় তারা নগদ টাকা দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে কিনছে। এতেও ব্যাংকগুলোতে নগদ টাকার চাহিদা বাড়বে। কেননা গত নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতি মাসে গড়ে ৭০০ কোটি ডলারের বেশি দেনা শোধ করতে হয়েছে। ওই সময়ে প্রতি মাসে গড়ে ৮০০ কোটি ডলারের বেশি এলসি খোলা হয়েছে। ফলে আগামী মাসগুলোতে এসব দেনা শোধ করতে হবে। আমদানির দেনা শোধ করতে চলতি অর্থবছরের মধ্য এপ্রিল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে প্রায় ৪০০ কোটি ডলার বিক্রি করেছে। এর বিপরীতে ব্যাংকগুলো থেকে প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকা তুলে নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ঢাকা/এসএ