ব্যাংকগুলোর ঋণ অবলোপন ইস্যুতে হার্ডলাইন বাংলাদেশ ব্যাংক
- আপডেট: ০৫:২০:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুন ২০২২
- / ১০৩৬৯ বার দেখা হয়েছে
বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকিং খাতে জালিয়াতির ঘটনা আড়াল করতে মন্দ ঋণ অবলোপনের হিড়িক পড়েছে। এর মাধ্যমে ব্যাংকগুলো যেমন বাড়তি খেলাপি ঋণের দুর্নাম ঘুচাচ্ছে, তেমনি জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদেরও আড়াল করছে। একই সঙ্গে ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জালিয়াতির ঘটনাও পড়ে যাচ্ছে ধামাচাপা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়মিত বা খেলাপি হয়ে যাওয়া ঋণগুলোই সাধারণত তদন্ত করে। অবলোপন করা ঋণের ব্যাপারে তদন্ত করা হয় না। ফলে খুব সহজেই অবলোপনের কারণে জালিয়াতির ঘটনা আড়াল হয়ে যাচ্ছে।
তবে এবার ব্যাংকগুলোর ঋণ অবলোপন ইস্যুতে হার্ডলাইনে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন থেকে জাল-জালিয়াতির বা প্রতারণার মাধ্যমে অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে দেওয়া ঋণের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। আর যত দিন এ বিষয়ে মামলা নিষ্পত্তি না হবে ততদিন ওই ঋণ অবলোপন করতে পারবে না ব্যাংকগুলো। আজ মঙ্গলবার (৭ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা দিয়েছে।
অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুক–টুইটার–লিংকডইন–ইন্সটাগ্রাম–ইউটিউব
এতে বলা হয়েছে, বিতরণ করা ঋণের সদ্ব্যবহার না করে ফান্ড ডাইভারশন করা কিংবা জাল-জালিয়াতি বা প্রতারণার মাধ্যমে অস্তিত্ববিহীন প্রতিষ্ঠানের নামে দেওয়া ঋণের ক্ষেত্রে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। ওই আইনি ব্যবস্থা নিষ্পত্তির আগে ঋণ, লিজ, বিনিয়োগের অর্থ অবলোপন করা যাবে না। অবলোপন সংক্রান্ত পর্বের অন্যান্য সব নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে।
সূত্র জানায়, গত কয়েক বছরে জালিয়াতির মাধ্যমে বিতরণ করা ঋণের একটি বড় অংশই ব্যাংকগুলো ইতিমধ্যে অবলোপন করেছে। নিয়ম মেনেই অবলোপন করা হলেও এ কারণে ব্যাংকগুলোর ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। কেননা ব্যাংক এখন নিয়মিত ঋণই আদায় করতে পারে না। তার মধ্যে আবার অবলোপন করা ঋণ কিভাবে আদায় করবে- এমন প্রশ্নও উঠেছে। ব্যাংকগুলোর মাত্রাতিরিক্তি ঋণ অবলোপনের বিষয়টি এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক তদন্ত করে দেখছে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী প্রথমে ৫ বছরের পুরনো ঋণ অবলোপনের নীতিমালা করা হয়। পরে তা শিথিল করে দুই বছরে নামিয়ে আনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকগুলো এখন খেলাপি ঋণের বোঝা কমাতে এক বছরের খেলাপি ঋণও অবলোপন করে ফেলছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ সংক্রান্ত হালনাগাদ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের মার্চ মাস শেষে ব্যাংকিং খাতের মোট বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ ২৯ হাজার ৭৩৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ।
তিন মাস আগেও ২০২১ সালের ডিসেম্বর প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ ছিল ১ লাখ ৩ হাজার ২৭৩ কোটি টাকা। সেই হিসাবে বছরের প্রথম প্রান্তিকে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১০ হাজার ১৬৭ কোটি টাকা। আর গত বছরের মার্চের তুলনায় খেলাপি বেড়েছে ১৮ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা। এর আগে, ২০২১ সালের মার্চে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৯৫ হাজার ৮৫ কোটি টাকা।
ঢাকা/টিএ




































