ব্যাংকের কেনাকাটায় অংশ নিতে পারবে না পরিচালকের প্রতিষ্ঠান
- আপডেট: ১১:২৪:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুন ২০২২
- / ১০৩৩০ বার দেখা হয়েছে
বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: অনেক ব্যাংকের পণ্য বা সেবা কেনাকাটায় সরাসরি অংশ নিচ্ছেন পরিচালক বা তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। প্রতিযোগিতামূলক দরের কথা বলা হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে উচ্চ দরে তা কিনে নেওয়া হচ্ছে। নিয়োগ, পদোন্নতি বাণিজ্যের বাইরে এক শ্রেণির পরিচালক প্রতিবছর এভাবে কোটি কোটি টাকা বাগিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এখন থেকে পরিচালকের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে কেনাকাটা না করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল বুধবার (১৫ জুন) এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা সব ব্যাংকে পাঠানো হয়।
অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুক–টুইটার–লিংকডইন–ইন্সটাগ্রাম–ইউটিউব
সংশ্নিষ্টরা জানান, ব্যাংকের বেশিরভাগ কেনাকাটা করা হয় প্রযোগিতামূলক উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে। বড় কেনাকাটার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত হয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে। কেমন দামে কোন পণ্য কেনা হবে, পণ্যের ধরন কী হবে- তা জানতে পারেন পরিচালক। ফলে গোপন তথ্য পেয়ে এমনিতেই তিনি এগিয়ে থাকেন। এর মাধ্যমে কাজ বাগিয়ে নিচ্ছেন অনেকে। একাধিক ব্যাংকের পরিচালক স্বার্থসংশ্নিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সাজসজ্জা সরঞ্জাম, প্রযুক্তি পণ্যসহ সব ধরনের কেনাকাটায় নিজেদের সম্পৃক্ত করার অভিযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এক ব্যাংকের পরিচালকের প্রতিষ্ঠান আরেক ব্যাংকের কাজ করেন। এ ক্ষেত্রে ‘এন’ ব্যাংকের পরিচালক হয়তো ‘জি’ ব্যাংকের পরিচালককে কাজ পাইয়ে দিচ্ছেন। পরে ‘জি’ ব্যাংকের পরিচালক ‘এন’ ব্যাংকের পরিচালককে কাজ পাইয়ে দেন।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক এ মর্মে অবহিত হয়েছে যে, স্বার্থের সংঘাত পরিহার ও প্রত্যেক গ্রাহকের স্বীয় স্বার্থের সমতা নিশ্চিত করা সংক্রান্ত ব্যাংক কোম্পানি আইনের বিধানের ব্যত্যয় ঘটিয়ে প্রয়োজনীয় পণ্য, সেবা ইত্যাদি প্রকিউরমেন্ট তথা কেনা ও সংগ্রহ সম্পর্কিত কার্যক্রমে কোনো কোনো ব্যাংকের পরিচালক বা পরিচালকের স্বার্থসংশ্নিষ্ট প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। ব্যাংকের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় যা অন্তরায়। ফলে ব্যাংক পরিচালনায় স্বার্থের সংঘাত পরিহার করার লক্ষ্যে আমানতকারীসহ অন্যান্য গ্রাহক এবং ব্যাংকের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার লক্ষ্যে এ মর্মে নির্দেশনা দেওয়া যাচ্ছে যে, ব্যাংকের কোনো পণ্য, সেবা ইত্যাদি কেনা ও সংগ্রহ বা প্রকিউরমেন্ট সম্পর্কিত কার্যক্রমে কোনো পরিচালক বা পরিচালকের স্বার্থসংশ্নিষ্ট প্রতিষ্ঠান সম্পৃক্ত হতে পারবে না।
গত বছরের জানুয়ারি মাসের এক সার্কুলারে প্রত্যেক ব্যাংকের পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও তাঁর নিম্নতর দুই স্তরের কর্মকর্তা এবং পারিবারিক ব্যবসায়িক স্বার্থসংশ্নিষ্ট বিবরণ বার্ষিক ভিত্তিতে পর্ষদে জমার নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই নির্দেশনার পরিপালন নিশ্চিত করতে পরিচালনা পর্ষদের পরবর্তী সভায় সার্কুলারের বিষয়বস্তু উপস্থাপনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে গতকাল।
ঢাকা/এসএ




































