০৬:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬

ব্রোকার ও মার্চেন্ট ব্যাংকের নেগেটিভ ইক্যুইটি কমাতে হার্ডলাইনে বিএসইসি

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ০৩:৫৮:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২২
  • / ১০৪১৮ বার দেখা হয়েছে

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকের নেগেটিভ ইক্যুইটির বিপরীতে সঞ্চিতি রাখার বাধ্যবাধকতা স্থগিত রাখার মেয়াদ চলতি বছরের পর আর বাড়ানো হবে না। পুঁজিবাজারকে ‘নেগেটিভ ইক্যুইটি (Negative Equity) বা ঋণাত্মক মূলধনের জঞ্জাল থেকে মুক্ত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সংস্থাটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নিজ নিজ নেগেটিভ ইক্যুইটি শূন্য শতাংশে নামিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছে। বিএসইসি সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

এদিকে, ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের অনুমতিপ্রাপ্ত সাড়ে চার শতাধিক ব্রোকার হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংক রয়েছে। এর মধ্যে লেনদেন বাড়াতে বিনিয়োগকারীদের মার্জিন ঋণ দেওয়া এমন ১১৬টি ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকের নেগেটিভ ইকুইটি রয়েছে ৮ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা। এরমধ্যে ২৭টি প্রতিষ্ঠানের নেগেটিভ ইকুইটি সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ, এই ২৭টি প্রতিষ্ঠানের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) পাঠানো প্রতিবেদনে এই চিত্র দেখা গেছে।

তথ্যানুসারে, বিএসইসি জানিয়েছে নেগেটিভ ইক্যুইটির বিপরীতে সঞ্চিতি রাখার বাধ্যবাধকতা স্থগিত রাখার মেয়াদ চলতি বছরের পর আর বাড়ানো হবে না। সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসারে, চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরে এই স্থগিতাদেশের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। বিএসইসির পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোকে কীভাবে তারা নেগেটিভ ইক্যুইটির পরিমাণ শূন্যে নামাবে-সে কর্মপরিকল্পনাও বিএসইসিকে জানাতে বলা হয়েছে।

বিএসইসির তথ্যানুযায়ী, গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১১৬টি ব্রোকারহাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকে মোট ৮ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকার নেগেটিভ ইক্যুইটি রয়েছে। আর এর ৮৬ শতাংশ রয়েছে মাত্র ২৭ প্রতিষ্ঠানের কাছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৫ টি ব্রোকারহাউজ ও ১২টি মার্চেন্ট ব্যাংক রয়েছে। এদের মোট নেগেটিভ ইক্যুইটির পরিমাণ ৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

আলোচিত ১১৬ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৯ মার্চেন্ট ব্যাংকে নেগেটিভ ইক্যুইটি রয়েছে ৩ হাজার ৬৪৫ কোটি টাকা। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সদস্য প্রতিষ্ঠান ৭৫ ব্রোকারহাউজে নেগেটিভ ইক্যুইটি ৪ হাজার ৯৩০ কোটি টাকা। আর চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সদস্য প্রতিষ্ঠান ১২ ব্রোকারহাউজে আছে ৯৮ কোটি টাকার নেগেটিভ ইক্যুইটি।

শেয়ার কেনার জন্য গ্রাহককে দেওয়া ঋণের আসল ও সুদের পরিমাণ গ্রাহকের মূলধনের বেশী বেশি হলে সেটিকে নেগেটিভ ইক্যুইটি বা ঋণাত্মক মূলধন বলে। ধরা যাক, একজন বিনিয়োগকারী ধরা যাক একশ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। তিনি ব্রোকার হাউজ কিংবা মার্চেন্ট ব্যাংক থেকে এই একশ টাকার উপরে আরও একশ টাকা মার্জিন ঋণ নিয়েছেন। এই টাকা ২০১০ সালে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেছেন। এরপরই পুঁজিবাজারে ধস হয়। এরপর বিনিয়োগকারীর মূল একশ টাকার শেয়ারের দাম ৫০ টাকা। এ ক্ষেত্রে ব্রোকার হাউজের নেগেটিভ ইকুইটি হলো ৫০ টাকা।

মার্জিন ঋণ বিধিমালা অনুসারে, গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে থাকা মোট শেয়ারের মূল্য একটি নির্দিষ্ট সীমার নিচে নেমে এলে তার কাছে বাড়তি মার্জিন বা তহবিল চাইতে হয়। তিনি সেটি না দিলে বা দিতে অপারগ হলে তার অ্যাকাউন্ট থেকে প্রযোজ্য সংখ্যক শেয়ার বিক্রি করে ওই মার্জিনের ঘাটতি সমন্বয় করতে হয়।

কিন্তু ২০১০ সালের ধসের প্রেক্ষিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও অর্থমন্ত্রণালয়ের মৌখিক নির্দেশে গ্রাহকের শেয়ার বিক্রি করে মার্জিনের ঘাটতি সমন্বয় বন্ধ রাখায় আলোচিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে নেগেটিভ ইক্যুইটির জটিলতা তৈরি হয়েছে। আইডিএলসিসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বছর কয়েক আগে নেগেটিভ ইক্যুইটির অ্যাকাউন্টের সব শেয়ার বিক্রি করে এবং মূল কোম্পানি থেকে তার সাবসিডিয়ারিকে বাড়তি মূলধনের যোগান দিয়ে এই সংকট থেকে বের হয়ে এসেছে। কিন্তু বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান এই পথ অনুসরণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও বাজারের মোট নেগেটিভ ইক্যুইটির পরিমাণ ক্রমেই বেড়েছে। এটি বাজারের স্থিতিশীলতার জন্যে একটি বড় হুমকী হয়ে উঠেছে। তাছাড়া অনেক প্রতিষ্ঠানের অসাধু কর্মকর্তারা ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য এসব নেগেটিভ ইক্যুইটির অ্যাকাউন্টকে ব্যবহার করে থাকেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ বাস্তবতায় অনেকদিন ধরে নেগেটিভ ইক্যুইটি সমস্যার সমাধানে তাগিদ দিয়ে আসছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা/এসআর

ট্যাগঃ

শেয়ার করুন

ব্রোকার ও মার্চেন্ট ব্যাংকের নেগেটিভ ইক্যুইটি কমাতে হার্ডলাইনে বিএসইসি

আপডেট: ০৩:৫৮:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২২

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকের নেগেটিভ ইক্যুইটির বিপরীতে সঞ্চিতি রাখার বাধ্যবাধকতা স্থগিত রাখার মেয়াদ চলতি বছরের পর আর বাড়ানো হবে না। পুঁজিবাজারকে ‘নেগেটিভ ইক্যুইটি (Negative Equity) বা ঋণাত্মক মূলধনের জঞ্জাল থেকে মুক্ত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সংস্থাটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নিজ নিজ নেগেটিভ ইক্যুইটি শূন্য শতাংশে নামিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছে। বিএসইসি সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

এদিকে, ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের অনুমতিপ্রাপ্ত সাড়ে চার শতাধিক ব্রোকার হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংক রয়েছে। এর মধ্যে লেনদেন বাড়াতে বিনিয়োগকারীদের মার্জিন ঋণ দেওয়া এমন ১১৬টি ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকের নেগেটিভ ইকুইটি রয়েছে ৮ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা। এরমধ্যে ২৭টি প্রতিষ্ঠানের নেগেটিভ ইকুইটি সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ, এই ২৭টি প্রতিষ্ঠানের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) পাঠানো প্রতিবেদনে এই চিত্র দেখা গেছে।

তথ্যানুসারে, বিএসইসি জানিয়েছে নেগেটিভ ইক্যুইটির বিপরীতে সঞ্চিতি রাখার বাধ্যবাধকতা স্থগিত রাখার মেয়াদ চলতি বছরের পর আর বাড়ানো হবে না। সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসারে, চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরে এই স্থগিতাদেশের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। বিএসইসির পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোকে কীভাবে তারা নেগেটিভ ইক্যুইটির পরিমাণ শূন্যে নামাবে-সে কর্মপরিকল্পনাও বিএসইসিকে জানাতে বলা হয়েছে।

বিএসইসির তথ্যানুযায়ী, গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১১৬টি ব্রোকারহাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকে মোট ৮ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকার নেগেটিভ ইক্যুইটি রয়েছে। আর এর ৮৬ শতাংশ রয়েছে মাত্র ২৭ প্রতিষ্ঠানের কাছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৫ টি ব্রোকারহাউজ ও ১২টি মার্চেন্ট ব্যাংক রয়েছে। এদের মোট নেগেটিভ ইক্যুইটির পরিমাণ ৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

আলোচিত ১১৬ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৯ মার্চেন্ট ব্যাংকে নেগেটিভ ইক্যুইটি রয়েছে ৩ হাজার ৬৪৫ কোটি টাকা। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সদস্য প্রতিষ্ঠান ৭৫ ব্রোকারহাউজে নেগেটিভ ইক্যুইটি ৪ হাজার ৯৩০ কোটি টাকা। আর চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সদস্য প্রতিষ্ঠান ১২ ব্রোকারহাউজে আছে ৯৮ কোটি টাকার নেগেটিভ ইক্যুইটি।

শেয়ার কেনার জন্য গ্রাহককে দেওয়া ঋণের আসল ও সুদের পরিমাণ গ্রাহকের মূলধনের বেশী বেশি হলে সেটিকে নেগেটিভ ইক্যুইটি বা ঋণাত্মক মূলধন বলে। ধরা যাক, একজন বিনিয়োগকারী ধরা যাক একশ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। তিনি ব্রোকার হাউজ কিংবা মার্চেন্ট ব্যাংক থেকে এই একশ টাকার উপরে আরও একশ টাকা মার্জিন ঋণ নিয়েছেন। এই টাকা ২০১০ সালে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেছেন। এরপরই পুঁজিবাজারে ধস হয়। এরপর বিনিয়োগকারীর মূল একশ টাকার শেয়ারের দাম ৫০ টাকা। এ ক্ষেত্রে ব্রোকার হাউজের নেগেটিভ ইকুইটি হলো ৫০ টাকা।

মার্জিন ঋণ বিধিমালা অনুসারে, গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে থাকা মোট শেয়ারের মূল্য একটি নির্দিষ্ট সীমার নিচে নেমে এলে তার কাছে বাড়তি মার্জিন বা তহবিল চাইতে হয়। তিনি সেটি না দিলে বা দিতে অপারগ হলে তার অ্যাকাউন্ট থেকে প্রযোজ্য সংখ্যক শেয়ার বিক্রি করে ওই মার্জিনের ঘাটতি সমন্বয় করতে হয়।

কিন্তু ২০১০ সালের ধসের প্রেক্ষিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও অর্থমন্ত্রণালয়ের মৌখিক নির্দেশে গ্রাহকের শেয়ার বিক্রি করে মার্জিনের ঘাটতি সমন্বয় বন্ধ রাখায় আলোচিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে নেগেটিভ ইক্যুইটির জটিলতা তৈরি হয়েছে। আইডিএলসিসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বছর কয়েক আগে নেগেটিভ ইক্যুইটির অ্যাকাউন্টের সব শেয়ার বিক্রি করে এবং মূল কোম্পানি থেকে তার সাবসিডিয়ারিকে বাড়তি মূলধনের যোগান দিয়ে এই সংকট থেকে বের হয়ে এসেছে। কিন্তু বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান এই পথ অনুসরণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও বাজারের মোট নেগেটিভ ইক্যুইটির পরিমাণ ক্রমেই বেড়েছে। এটি বাজারের স্থিতিশীলতার জন্যে একটি বড় হুমকী হয়ে উঠেছে। তাছাড়া অনেক প্রতিষ্ঠানের অসাধু কর্মকর্তারা ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য এসব নেগেটিভ ইক্যুইটির অ্যাকাউন্টকে ব্যবহার করে থাকেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ বাস্তবতায় অনেকদিন ধরে নেগেটিভ ইক্যুইটি সমস্যার সমাধানে তাগিদ দিয়ে আসছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা/এসআর