মধ্যবিত্তের ওপর চাপ কমাতে বাজেটে কর্মপরিকল্পনা চায় সিপিডি
- আপডেট: ০৮:৪৯:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ এপ্রিল ২০২২
- / ১০৪২৩ বার দেখা হয়েছে
বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: ব্যক্তিপর্যায়ে করমুক্ত আয়ের সীমা সাড়ে তিন লাখ টাকা এবং কৃষিতে ভর্তুকি বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। দ্রব্যমূল্য সহনীয় রাখতে বাজার নিয়ন্ত্রণ, নিম্নআয়ের মানুষের জন্য টিসিবির সাশ্রয়ীমূল্যের পণ্য বিক্রি বাড়িয়ে বাজারে মূল্যস্ফিতি বাস্তবসম্মত রাখার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।
অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুক–টুইটার–লিংকডইন–ইন্সটাগ্রাম–ইউটিউব
সিপিডি বলছে, সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মাঝে আয়ের পুনর্বণ্টন ও করোনা মহামারিতে সৃষ্ট সম্পদের অসামঞ্জস্যতা নিরসন ও মানুষের হাতে অর্থ এবং খাদ্য দিয়ে বাঁচিয়ে রাখাই এবারের বাজেটের মূলদর্শন হওয়া উচিত। সর্বোপরি দেশের অর্থনীতি, সমাজ এবং পরিবেশকে মাথায় রেখে আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন করতে হবে।
ফাহমিদা খাতুন পাবলিক ট্রেডেড কোম্পানির ক্ষেত্রে করের হার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২২ দশমিক ৫ শতাংশ ও নন-পাবলিক ট্রেডেড কোম্পানির ক্ষেত্রে করের হার ৩২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩০ শতাংশ করার প্রস্তাব দেয়। এছাড়া ব্যক্তিপর্যায়ে করমুক্ত আয়ের সীমা সাড়ে তিন লাখ টাকা করারও প্রস্তাব দেয়।
তিনি আরো বলে, ‘কৃষিখাতে ভর্তুকির হারে কৃষি ঋণের সুপারিশ করছি। এছাড়া সারে ভর্তুকি দেওয়া প্রয়োজন। যাতে কৃষকদের চাপ কিছুটা কমে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন হলে একটা সময় এ ভর্তুকি তুলে দিতে হবে। কিন্তু সংকটকালীন সময়ে কিছু কিছু খাতে ভর্তুকি দেওয়া প্রয়োজন। এ ধরনের ভর্তুকি কৃষকরা সঠিকভাবে পাচ্ছে কি না, সেটা সঠিকভাবে মনিটরিং করা প্রয়োজন। পাশাপাশি আগামী বাজেটে খাদ্যে, রপ্তানিশিল্পে প্রণোদনা দেওয়া এবং শ্রমিকদের হেলথ ইন্সুরেন্সের আওতায় আনা, প্রাকৃতিক গ্যাসের আমদানিপর্যায়ে শুল্ক তুলে দেওয়া প্রয়োজন।’
ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘বর্তমানে দ্রব্যমূল্য অত্যন্ত বেশি। বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যকর ভূমিকার পাশপাশি মানুষ যেন কমমূল্যে পণ্য কিনতে পারে, সেই ব্যবস্থা নিতে হবে। যাদের প্রয়োজন, তাদের চিহ্নিত করে খাদ্যে প্রণোদনার ব্যবস্থা করতে হবে। বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রতিযোগিতা কমিশনের ভূমিকা শক্তিশালী করতে হবে। একটা ডাটাবেজ তৈরি করা প্রয়োজন, যেখান থেকে সঠিক তথ্যটা পাওয়া যাবে। মনিটরিং আরও জোরদার করতে হবে।’
সিপিডি মনে করে, প্রতিবছরের বাজেটের মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদি কিছু উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগও থাকা উচিত। কারণ, আগামী কয়েক বছরে বাংলাদেশের চারটি বড় উত্তরণ হচ্ছে। সেগুলো হলো ক. ২০২৬ সালে এলডিসি উত্তরণ, খ. ২০৩০ সালে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জন, গ. ২০৩১ সালে উচ্চমধ্যম আয়ের দেশ ও ঘ. ২০৪১ সালে উচ্চ আয়ের দেশে উন্নীত হওয়া। ওই সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলে, ‘আমরা শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনীয় না। তবে শ্রীলঙ্কার থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। আমাদের অবস্থা ভালো। তবে শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতি একদিনে হয়নি। আমাদের বাজারভিত্তিতে ঋণ আনতে হবে। নতুন নেওয়া ঋণগুলো কোন সময়ে পরিশোধ করতে হবে, সেটার সঙ্গে সামঞ্জস্য ঠিক করতে হবে। সেইসঙ্গে প্রকল্পগুলোকে সাশ্রয়ী সময়ের মধ্যে শেষ করার টার্গেট রাখাতে হবে।’
গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার যেন কর খেলাপি ও ঋণ খেলাপিদের কোনোভাবে উৎসাহিত করা উচিত হবে না। আর্থিকখাত সংস্কারেও পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রয়োজনে আর্থিক ও করখাতে মধ্যমেয়াদি সংস্কার করতে সরকারকে নীতিগত অবস্থান নেওয়ার কথাও এবারের বাজেট বক্তৃতায় আমরা শুনতে চাই।’
ঢাকা/এসএ




































