মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আইএমএফের সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ
- আপডেট: ০৭:১৬:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ জুলাই ২০২২
- / ১০৩৯৮ বার দেখা হয়েছে
বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও ডলার সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে সহায়তা চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম।
আজ বুধবার (২০ জুলাই) শেরে বাংলা-নগরের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে আইএমএফের এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের প্রধান রাহুল আনন্দের নেতৃত্বে একটি দল পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এ কথা জানান।
অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুক–টুইটার–লিংকডইন–ইন্সটাগ্রাম–ইউটিউব
এ সময় বাংলাদেশে আইএমএফের আবাসিক প্রতিনিধি জয়েন্দু দেসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। এটি মূলত আইএমএফের আর্টিকেল ফোর মিশনের দল। দলটি বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ, ইআরডি ইত্যাদি সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও ডলার সংকট নিরসনে আইএমএফের সহায়তা চেয়েছি। বর্তমানে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশ ছাড়িয়েছে। গত জুন শেষে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও রাজস্ব বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে আইএমএফ।
তিনি বলেন, আইএমএফের কাছে সহায়তা চেয়েছি, তারা দিতেও রাজি। তারা আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা জানার জন্য এসেছে। সহায়তার কারণ কী? কতটুকু সহায়তা চাই এগুলো সচরাচর জানতে চায় আইএমএফ। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমরা সার্বিক বিষয়ে তাদের বলেছি। দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির বিষয়ে আমরা ব্যাখ্যা করেছি। আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রকল্প বাস্তবায়নে অগ্রগতি নিয়ে আমরা বলেছি।
তিনি আরও বলেন, মূল্যস্ফীতির কারণে আমদানির পরিমাণ বেশি হয়ে যাচ্ছে। সে ক্ষেত্রে যে আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন আমরা তা সংস্থাটির কাছে তুলে ধরেছি। আইএমএফ সেই সহায়তা দিতেও প্রস্তুত। সে ক্ষেত্রে তারা (আইএমএফ) ডলার সংকটের কারণ জানতে চেয়েছে? তবে আমরা বলেছি ডলার সংকট বেশি দিন থাকবে না। কারণ গত বছর তিন লাখ শ্রমিক বিদেশে গিয়েছিল, এবার সেটা বেড়ে ৯ লাখ হয়েছে। প্রবাসীরা ডলার পাঠাতে শুরু করলে সেই সমস্যা থাকবে না। কয়েক মাসের মধ্যেই তারা রেমিট্যান্স পাঠাবে ফলে সংকট কেটে যাবে।
ড. শামসুল আলম বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির কারণে আমদানি বেড়ে গেছে। রপ্তানি বাড়লে আমদানি বাড়বে। কারণ অনেক কাঁচামাল ও উপকরণ আমদানি করতে হয় রপ্তানির জন্য। আমরা বিলাসবহুল পণ্য আমদানি কমিয়ে দিয়েছি। ফলে ডলারের সংকট কমে যাবে। আন্তর্জাতিক বাজারে নিত্য-পণ্যের দাম কমে আসছে। আমাদের শিল্পখাত ও সেবা খাত ভালো করেছে। রাশিয়া থেকে গম আমদানি প্রতিবন্ধকতা থাকবে না। সব মিলিয়ে আমরা ইতিবাচক। আইএমএফ রাজস্ব আয় বাড়াতে বলেছে। করের আওতা বাড়াতে তাগিদ দিয়েছে। সরকার ভ্যাট আদায়ে অটোমেশনে আসছে, রাজস্ব বৃদ্ধিতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
আইএমএফের শর্ত প্রসঙ্গে ড.শামসুল আলম বলেন, আইএমএফ শর্ত দিচ্ছে না। তারা শর্তের বিষয়ে উদারতা দেখিয়েছে। আমাদের প্রচুর তহবিল প্রয়োজন। আইএমএফ আমাদের বাজেট সাপোর্ট দেবে। বাজেটের টাকা যেকোনো খাতে খরচ করা যায়। তবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও মানবসম্পদ উন্নয়নের বিষয়ে আমরা সহায়তা চেয়েছি।
ঢাকা/টিএ




































