০৫:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

যে হাত মারতে আসবে, সে হাত ভেঙে দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ০৪:৩০:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২২
  • / ১০৪০৯ বার দেখা হয়েছে

ফাইল ফটো

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগ প্রতিহিংসার রাজনীতি করে না উল্লেখ বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘১৯৭৫ সাল থেকে আমরা মার খাচ্ছি। আর মার খাওয়ার সময় নেই। যে হাত দিয়ে মারতে আসবে, সে হাত ভেঙে দিতে হবে।’ 

আজ বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের কেন্দ্রীয় কমিটি, মহানগর ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে গণভবন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তাঁকে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ব্রিটিশ সরকারে সঙ্গে যোগাযোগ করব। তারেক রহমানকে এ দেশে এনে সাজা বাস্তবায়ন করব।’

তিনি বলেন, ‘বিআরটিসির বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে যে বাসে আগুন দিতে আসবে, তাঁকে ধরে আগে তাঁর হাত আগুনে পুড়িয়ে দিতে হবে। বিএনপি-রাজাকারদের আর ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হবে না। ২০০১ সালে গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় আসতে পেরেছিল। এখনো ক্ষমতায় আসতে পারবে বলে তারা মনে করছে। তবে এত সহজে এখন আর তা হবে না। আমরা জানি, কোথায় কী হবে। দেশকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেব না।’

তিনি সারা দেশে দলের প্রত্যেক নেতা-কর্মীকে মাঠে সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

গণমাধ্যমের মালিকদের ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকে আছে বিএনপিকে তেল মারছে। এত তেল মারা কিসের জন্য। কত তেল আছে, আমি তাদের দেখব।’

আরও পড়ুন: পুলিশ ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছিল: তথ্যমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু তৃণমূলের জনগণকে ক্ষমতা দেওয়ার জন্য অর্থাৎ একটি রাষ্ট্র পরিচালনায় গ্রামের মানুষের যেন অধিকার থাকে— সেভাবে এই ঘুণে ধরা সমাজ ভেঙে নতুন সমাজ গড়তে চেয়েছিলেন। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তি এবং পাকিস্তানি শক্তি; ব্রিটিশ-পাকিস্তানি মিলিটারি ডিকটেটরদের করা সিস্টেম পরিবর্তন করে তৃণমূল মানুষদের সংগঠিত করে সারা বাংলাদেশে প্রত্যেকটা মহকুমাকে জেলায় রূপান্তর করে সেখানে ক্ষমতাটা দিতে চেয়েছিলেন। প্রত্যেকটা জেলায় গভর্নর নিযুক্ত করে দিয়েছিলেন। জেলাভিত্তিক উন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়ে সেটা বাস্তবায়ন করবে। দ্রুত বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নতি হবে। আমাদের সংবিধান বর্ণিত অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষা; মৌলিক চাহিদা পূরণ হবে। এত বড় পরিবর্তন এনে বাংলাদেশকে তিনি চেয়েছিলেন সুপরিকল্পিতভাবে গ্রামকে সাজাতে। সেই কাজগুলো তো তাকে করতে দেওয়া হলো না, উল্টো মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হলো। তৃণমূলের মানুষ ক্ষমতাসীন হোক সেটা অনেকেই চায় না। একমাত্র আওয়ামী লীগে সেটা বিবেচনা করে।’

খালেদা জিয়ার উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামে গুলি হলো, রকিবুল হুদা সরাসরি গুলি করেছিল আমাকে। সব সময় আমার কর্মীরা আমাকে বাঁচিয়ে নিয়ে এসেছে। তখন এরশাদ ক্ষমতায় ছিল। খালেদা জিয়া তাকে কেন পদোন্নতি দিয়ে আইজিপি পর্যন্ত বানাল, এই জবাব কি তিনি দিতে পারবেন? তার মানে ওই ঘটনার সঙ্গে এরাও জড়িত ছিল। এ রকম বহু ঘটনা আছে।’

আওয়ামী লীগ প্রতিহিংসার রাজনীতি করে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘২০০১-এর পরে নির্বাচন শুরু হওয়ার পর পর আমাদের ওপর অত্যাচার। একেক জনের বাড়ি দখল করে রাতারাতি পুকুর কেটে ফেলেছে। ৬ বছর থেকে ৬০ বছরের বৃদ্ধ পর্যন্ত ওদের হাত থেকে রেহাই পায়নি। তারপর এলো অগ্নি সন্ত্রাস। ২০০১-এ যে অত্যাচার আমাদের ওপর করেছে, আমরা ২০০৯ সালে সরকারে আসার পর গুলি দিয়ে সেই অত্যাচারের জবাব কিন্তু দিতে পারতাম। সে ক্ষমতা আওয়ামী লীগ রাখে। কিন্তু আমরা তো সেটা করিনি! আমরা তো কখনো এভাবে অত্যাচার-নির্যাতন করতে যাইনি! মারতেও যাইনি।’

ঢাকা/টিএ

শেয়ার করুন

যে হাত মারতে আসবে, সে হাত ভেঙে দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট: ০৪:৩০:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২২

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগ প্রতিহিংসার রাজনীতি করে না উল্লেখ বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘১৯৭৫ সাল থেকে আমরা মার খাচ্ছি। আর মার খাওয়ার সময় নেই। যে হাত দিয়ে মারতে আসবে, সে হাত ভেঙে দিতে হবে।’ 

আজ বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের কেন্দ্রীয় কমিটি, মহানগর ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে গণভবন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তাঁকে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ব্রিটিশ সরকারে সঙ্গে যোগাযোগ করব। তারেক রহমানকে এ দেশে এনে সাজা বাস্তবায়ন করব।’

তিনি বলেন, ‘বিআরটিসির বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে যে বাসে আগুন দিতে আসবে, তাঁকে ধরে আগে তাঁর হাত আগুনে পুড়িয়ে দিতে হবে। বিএনপি-রাজাকারদের আর ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হবে না। ২০০১ সালে গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় আসতে পেরেছিল। এখনো ক্ষমতায় আসতে পারবে বলে তারা মনে করছে। তবে এত সহজে এখন আর তা হবে না। আমরা জানি, কোথায় কী হবে। দেশকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেব না।’

তিনি সারা দেশে দলের প্রত্যেক নেতা-কর্মীকে মাঠে সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

গণমাধ্যমের মালিকদের ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকে আছে বিএনপিকে তেল মারছে। এত তেল মারা কিসের জন্য। কত তেল আছে, আমি তাদের দেখব।’

আরও পড়ুন: পুলিশ ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছিল: তথ্যমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু তৃণমূলের জনগণকে ক্ষমতা দেওয়ার জন্য অর্থাৎ একটি রাষ্ট্র পরিচালনায় গ্রামের মানুষের যেন অধিকার থাকে— সেভাবে এই ঘুণে ধরা সমাজ ভেঙে নতুন সমাজ গড়তে চেয়েছিলেন। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তি এবং পাকিস্তানি শক্তি; ব্রিটিশ-পাকিস্তানি মিলিটারি ডিকটেটরদের করা সিস্টেম পরিবর্তন করে তৃণমূল মানুষদের সংগঠিত করে সারা বাংলাদেশে প্রত্যেকটা মহকুমাকে জেলায় রূপান্তর করে সেখানে ক্ষমতাটা দিতে চেয়েছিলেন। প্রত্যেকটা জেলায় গভর্নর নিযুক্ত করে দিয়েছিলেন। জেলাভিত্তিক উন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়ে সেটা বাস্তবায়ন করবে। দ্রুত বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নতি হবে। আমাদের সংবিধান বর্ণিত অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষা; মৌলিক চাহিদা পূরণ হবে। এত বড় পরিবর্তন এনে বাংলাদেশকে তিনি চেয়েছিলেন সুপরিকল্পিতভাবে গ্রামকে সাজাতে। সেই কাজগুলো তো তাকে করতে দেওয়া হলো না, উল্টো মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হলো। তৃণমূলের মানুষ ক্ষমতাসীন হোক সেটা অনেকেই চায় না। একমাত্র আওয়ামী লীগে সেটা বিবেচনা করে।’

খালেদা জিয়ার উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামে গুলি হলো, রকিবুল হুদা সরাসরি গুলি করেছিল আমাকে। সব সময় আমার কর্মীরা আমাকে বাঁচিয়ে নিয়ে এসেছে। তখন এরশাদ ক্ষমতায় ছিল। খালেদা জিয়া তাকে কেন পদোন্নতি দিয়ে আইজিপি পর্যন্ত বানাল, এই জবাব কি তিনি দিতে পারবেন? তার মানে ওই ঘটনার সঙ্গে এরাও জড়িত ছিল। এ রকম বহু ঘটনা আছে।’

আওয়ামী লীগ প্রতিহিংসার রাজনীতি করে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘২০০১-এর পরে নির্বাচন শুরু হওয়ার পর পর আমাদের ওপর অত্যাচার। একেক জনের বাড়ি দখল করে রাতারাতি পুকুর কেটে ফেলেছে। ৬ বছর থেকে ৬০ বছরের বৃদ্ধ পর্যন্ত ওদের হাত থেকে রেহাই পায়নি। তারপর এলো অগ্নি সন্ত্রাস। ২০০১-এ যে অত্যাচার আমাদের ওপর করেছে, আমরা ২০০৯ সালে সরকারে আসার পর গুলি দিয়ে সেই অত্যাচারের জবাব কিন্তু দিতে পারতাম। সে ক্ষমতা আওয়ামী লীগ রাখে। কিন্তু আমরা তো সেটা করিনি! আমরা তো কখনো এভাবে অত্যাচার-নির্যাতন করতে যাইনি! মারতেও যাইনি।’

ঢাকা/টিএ