০৬:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

রাতে নিষিদ্ধ হচ্ছে বালি উত্তোলন, আসছে নীতিমালা

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ০৫:২৬:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুন ২০২২
  • / ১০৩৩৫ বার দেখা হয়েছে

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: নদী থেকে বালি উত্তোলন নিয়ে সরকার একটি নীতিমালা করছে। নীতিমালা অনুযায়ী রাতে বালি উত্তোলন নিষিদ্ধ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক।

আজ সোমবার (১৩ জুন) সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে ‘বিএসআরএফ সংলাপ’ অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) এ সংলাপের আয়োজন করে।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নদীভাঙনের সবচেয়ে বড় কারণ বালি উত্তোলন। এ ব্যবসা একটি রমরমা ব্যবসা। এখানে বিনিয়োগ খুবই কম, দেশীয় ছোট ছোট ট্রলার নিয়ে আসে। রাতের অন্ধকারে তারা বালি ওঠায়। বালি নদীর মাঝখান থেকে ওঠায় না।

তিনি বলেন, বিভিন্ন জায়গায় বালুমহাল আছে, জেলা প্রশাসন এসব বালুমহাল ইজারা দেয়। জেলা প্রশাসনের প্রতি নির্দেশনা আছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে বালুমহাল ঘোষণা করতে হবে। তারা সেখান থেকে বালি উঠাতে পারবে। তবে বালি উঠানো আমরা বন্ধ করতে পারবো না। বন্ধ করলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়ে যাবে, দাম বেড়ে যাবে বালির।

তীর থেকে বালি উঠানোর কারণে বাঁধের ক্ষতি হচ্ছে উল্লেখ করে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক বলেন, আহ্বান জানাচ্ছি আমরা যেখান থেকে বলবো সেখান থেকে আপনারা বালি উত্তোলন করেন। কিন্তু এরা করে কী রাতের অন্ধকারে নদীর কিনারা থেকে বালি উত্তোলন করে। যেখান থেকে ওঠায় সেখানে ব্লক থাকে, মাটির বাঁধ থাকে। আমি বলেছি সেখানে যদি লোহা দিয়ে বাঁধ দেই, (তীর থেকে বালি উঠানোর কারণে) সেই বাঁধও টিকবে না।

বালি উত্তোলনের বিষয়ে একটি নীতিমালা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এটি শিগগির মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। সেখানে আমরা বলেছি, বালি উত্তোলন কোনোভাবেই সন্ধ্যার পর হবে না। বালি উত্তোলনের সময় হবে সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। যাতে দিনের বেলা বালি উঠানো হয়, তাহলে জনগণসহ সবাই দেখতে পারবে।

জাহিদ ফারুক আরও বলেন, ‘আমি মনে করি বালি উত্তোলনটা যদি সঠিকভাবে হয়, তবে এই নদীভাঙনের যে প্রবণতা তা অনেকাংশে কমে যাবে। এখন ইঞ্জিনিয়াররা বলা শুরু করেছেন, এভাবে যদি বালি উত্তোলন করা হয়, তবে যতই কাজ করি সব দোষ তো এসে আমাদের ওপর পড়বে। তারাও একটা অজুহাত দেখানোর চেষ্টা করছেন।’

তিস্তা চুক্তি নিয়ে যা বললেন প্রতিমন্ত্রী

তিস্তা চুক্তির অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে জাহিদ ফারুক বলেন, তিস্তা চুক্তি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী, আমরা আগে চেষ্টা করেছিলাম। কাজটা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আছে। এটার স্টাডি হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমরা এগিয়ে গেছি। কোন কোম্পানি কাজটা করবে সেই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যালোচনা করছে। পর্যালোচনার পর একটা দিকনির্দেশনা দিলে সেই বিষয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

তিনি বলেন, দুই বছর আগে আমি যখন হাঙ্গেরি গিয়েছিলাম, তখন ভারতের জলশক্তি মন্ত্রীর সঙ্গে আমার দেখা হয়। আসার পর আমি তাকে কয়েকবার পত্র দিয়েছি। আমি তাকে বাংলাদেশে আসার জন্য দাওয়াত দিয়েছি। বলেছি, আসেন আমরা আলোচনা করি। উনি হয়তো একটা সময় দেখে আসবেন।

বাংলাদেশ সরকার তিস্তা চুক্তি করতে আগ্রহী উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিস্তাটা নিয়ে আমরা নিজেরাই উদ্বিগ্ন। এই চুক্তিটি আমরা করতে চাই। ধীরগতিতে হলেও কাজ আগাচ্ছে। আপনারা জানেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী কারণে কাজটি স্লো হয়ে গেছে। হয়তো অচিরেই তিস্তা নদীর পানি বণ্টনের ব্যাপারটি সমাধান করতে পারবো।

সুনামগঞ্জের হাওর

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রথম থেকে সুনামগঞ্জের বিষয়ে আমার নজর রয়েছে। সেখানে এক হাজার ৫৪৭ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নিয়েছি। সেখানে আমরা ১৪টা নদী খনন করবো। সমীক্ষা সেপ্টেম্বর মাসে চলে আসবে, অক্টোবরের মধ্যে চেষ্টা করবো একনেক থেকে সেটা পাস করিয়ে নিতে। আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই কার্যক্রম শুরু করবো।

তিনি বলেন, বর্ষার আগে যদি ২০ শতাংশ কাজও করতে পারি, আশা করি সুনামগঞ্জের হাওরে তেমন কোনো ক্ষতি হবে না।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক একজন ঠিকাদার ৫০-৭০টি কাজ নিয়ে বসে আছেন। সে কাজগুলো তারা নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে পারছে না। এই ঠিকাদাররা ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত- এ বিষয়ে জানতে চাইলে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রথমে ১১ জন ঠিকাদার ছিল। অনেক বড় বড় ঠিকাদার ছিলো। এক একজন ডিপিএমে (সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি) ৩০০-৪০০ কোটি টাকার কাজ পেতো। আমরা একটি কাজও ডিপিএমে দেইনি। আমরা বলেছি এই ১১ জন ঠিকাদার কাজ শেষ না করা পর্যন্ত নতুন করে কোনো কাজ পাবে না। কাজগুলো শেষ করার পর সেই পুরনো ১১ জনকে এখন আমরা কাজ দিচ্ছি। এখন নির্দেশনা হচ্ছে একজন ঠিকাদার তিনটির বেশি কাজ করতে পারবে না।

তিনি আরও বলেন, আমরা সতর্ক আছি যে, একজন ঠিকাদারকে বেশি কাজ দেবো না। বেশি কাজ দিলে দেরি হয়ে যায়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএসআরএফের সভাপতি তপন বিশ্বাস। সঞ্চালনা করেন বিএসআরএফের সাধারণ সম্পাদক মাসউদুল হক।

ঢাকা/টিএ

শেয়ার করুন

রাতে নিষিদ্ধ হচ্ছে বালি উত্তোলন, আসছে নীতিমালা

আপডেট: ০৫:২৬:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুন ২০২২

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: নদী থেকে বালি উত্তোলন নিয়ে সরকার একটি নীতিমালা করছে। নীতিমালা অনুযায়ী রাতে বালি উত্তোলন নিষিদ্ধ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক।

আজ সোমবার (১৩ জুন) সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে ‘বিএসআরএফ সংলাপ’ অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) এ সংলাপের আয়োজন করে।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নদীভাঙনের সবচেয়ে বড় কারণ বালি উত্তোলন। এ ব্যবসা একটি রমরমা ব্যবসা। এখানে বিনিয়োগ খুবই কম, দেশীয় ছোট ছোট ট্রলার নিয়ে আসে। রাতের অন্ধকারে তারা বালি ওঠায়। বালি নদীর মাঝখান থেকে ওঠায় না।

তিনি বলেন, বিভিন্ন জায়গায় বালুমহাল আছে, জেলা প্রশাসন এসব বালুমহাল ইজারা দেয়। জেলা প্রশাসনের প্রতি নির্দেশনা আছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে বালুমহাল ঘোষণা করতে হবে। তারা সেখান থেকে বালি উঠাতে পারবে। তবে বালি উঠানো আমরা বন্ধ করতে পারবো না। বন্ধ করলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়ে যাবে, দাম বেড়ে যাবে বালির।

তীর থেকে বালি উঠানোর কারণে বাঁধের ক্ষতি হচ্ছে উল্লেখ করে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক বলেন, আহ্বান জানাচ্ছি আমরা যেখান থেকে বলবো সেখান থেকে আপনারা বালি উত্তোলন করেন। কিন্তু এরা করে কী রাতের অন্ধকারে নদীর কিনারা থেকে বালি উত্তোলন করে। যেখান থেকে ওঠায় সেখানে ব্লক থাকে, মাটির বাঁধ থাকে। আমি বলেছি সেখানে যদি লোহা দিয়ে বাঁধ দেই, (তীর থেকে বালি উঠানোর কারণে) সেই বাঁধও টিকবে না।

বালি উত্তোলনের বিষয়ে একটি নীতিমালা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এটি শিগগির মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। সেখানে আমরা বলেছি, বালি উত্তোলন কোনোভাবেই সন্ধ্যার পর হবে না। বালি উত্তোলনের সময় হবে সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। যাতে দিনের বেলা বালি উঠানো হয়, তাহলে জনগণসহ সবাই দেখতে পারবে।

জাহিদ ফারুক আরও বলেন, ‘আমি মনে করি বালি উত্তোলনটা যদি সঠিকভাবে হয়, তবে এই নদীভাঙনের যে প্রবণতা তা অনেকাংশে কমে যাবে। এখন ইঞ্জিনিয়াররা বলা শুরু করেছেন, এভাবে যদি বালি উত্তোলন করা হয়, তবে যতই কাজ করি সব দোষ তো এসে আমাদের ওপর পড়বে। তারাও একটা অজুহাত দেখানোর চেষ্টা করছেন।’

তিস্তা চুক্তি নিয়ে যা বললেন প্রতিমন্ত্রী

তিস্তা চুক্তির অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে জাহিদ ফারুক বলেন, তিস্তা চুক্তি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী, আমরা আগে চেষ্টা করেছিলাম। কাজটা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আছে। এটার স্টাডি হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমরা এগিয়ে গেছি। কোন কোম্পানি কাজটা করবে সেই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যালোচনা করছে। পর্যালোচনার পর একটা দিকনির্দেশনা দিলে সেই বিষয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

তিনি বলেন, দুই বছর আগে আমি যখন হাঙ্গেরি গিয়েছিলাম, তখন ভারতের জলশক্তি মন্ত্রীর সঙ্গে আমার দেখা হয়। আসার পর আমি তাকে কয়েকবার পত্র দিয়েছি। আমি তাকে বাংলাদেশে আসার জন্য দাওয়াত দিয়েছি। বলেছি, আসেন আমরা আলোচনা করি। উনি হয়তো একটা সময় দেখে আসবেন।

বাংলাদেশ সরকার তিস্তা চুক্তি করতে আগ্রহী উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিস্তাটা নিয়ে আমরা নিজেরাই উদ্বিগ্ন। এই চুক্তিটি আমরা করতে চাই। ধীরগতিতে হলেও কাজ আগাচ্ছে। আপনারা জানেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী কারণে কাজটি স্লো হয়ে গেছে। হয়তো অচিরেই তিস্তা নদীর পানি বণ্টনের ব্যাপারটি সমাধান করতে পারবো।

সুনামগঞ্জের হাওর

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রথম থেকে সুনামগঞ্জের বিষয়ে আমার নজর রয়েছে। সেখানে এক হাজার ৫৪৭ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নিয়েছি। সেখানে আমরা ১৪টা নদী খনন করবো। সমীক্ষা সেপ্টেম্বর মাসে চলে আসবে, অক্টোবরের মধ্যে চেষ্টা করবো একনেক থেকে সেটা পাস করিয়ে নিতে। আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই কার্যক্রম শুরু করবো।

তিনি বলেন, বর্ষার আগে যদি ২০ শতাংশ কাজও করতে পারি, আশা করি সুনামগঞ্জের হাওরে তেমন কোনো ক্ষতি হবে না।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক একজন ঠিকাদার ৫০-৭০টি কাজ নিয়ে বসে আছেন। সে কাজগুলো তারা নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে পারছে না। এই ঠিকাদাররা ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত- এ বিষয়ে জানতে চাইলে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রথমে ১১ জন ঠিকাদার ছিল। অনেক বড় বড় ঠিকাদার ছিলো। এক একজন ডিপিএমে (সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি) ৩০০-৪০০ কোটি টাকার কাজ পেতো। আমরা একটি কাজও ডিপিএমে দেইনি। আমরা বলেছি এই ১১ জন ঠিকাদার কাজ শেষ না করা পর্যন্ত নতুন করে কোনো কাজ পাবে না। কাজগুলো শেষ করার পর সেই পুরনো ১১ জনকে এখন আমরা কাজ দিচ্ছি। এখন নির্দেশনা হচ্ছে একজন ঠিকাদার তিনটির বেশি কাজ করতে পারবে না।

তিনি আরও বলেন, আমরা সতর্ক আছি যে, একজন ঠিকাদারকে বেশি কাজ দেবো না। বেশি কাজ দিলে দেরি হয়ে যায়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএসআরএফের সভাপতি তপন বিশ্বাস। সঞ্চালনা করেন বিএসআরএফের সাধারণ সম্পাদক মাসউদুল হক।

ঢাকা/টিএ