রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজ নামের যন্ত্রটি এখন কৃত্রিমভাবে খাবার ও পানি ঠান্ডা রাখা এবং সংরক্ষণে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও কার্যকর উপায়। এই যন্ত্রে তাপ নিরোধক কম্পার্টমেন্ট ও হিটপাম্প থাকে, যা ফ্রিজের ভেতর থেকে তাপ বাইরে বের করে দেয়। ফলে ফ্রিজের ভেতরের তাপমাত্রা অনেক কম থাকে। কোনো আবদ্ধ স্থানের তাপমাত্রা যখন আশপাশের তাপমাত্রা থেকে কমিয়ে শীতল করা হয়, সেটাকে বলে রেফ্রিজারেশন। আর রেফ্রিজারেটরের কম তাপমাত্রা খাবারে অণুজীবের বৃদ্ধি রোধ করে দেয়। ব্যাকটেরিয়াও কম প্রজনন করে, কম ছড়ায়। ফলে খাদ্য সহজে পচে না। যে খাবারগুলো স্বাভাবিক তাপমাত্রায় নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, সেগুলো নিম্ন তাপমাত্রায় ভালো থাকে।
কিন্তু কীভাবে কে বা কারা কখন এমন একটি অতিশয় উপকারী যন্ত্র আবিষ্কার করলেন, তা নিয়ে একক কোনো নাম পাওয়া যায় না। কিছু ভাসা–ভাসা তথ্যই কেবল পাওয়া যায়। যদ্দুর জানা যায়, স্কটিশ বিজ্ঞানী উইলিয়াম কুলিনই ১৭৪০ সালে প্রথম কৃত্রিম রেফ্রিজারেশনের ধারণা প্রবর্তন করেন। তিনি তাঁর তত্ত্বে বলেন, দ্রুত ঠান্ডা হয়ে যাবে, এমন একধরনের গ্যাস ব্যবহার করেই খাদ্যবস্তু ও পানীয় ঠান্ডা রাখা সম্ভব। তবে তিনি এই ধারণাকে কাজে লাগিয়ে তেমন এগোতে পারেননি।
এরপর ১৮০২ সালে টমাস মুর ডেইরি পণ্য ঠান্ডা রাখার জন্য একধরনের আইসবক্স তৈরি করেন। তিনি এটির নাম দেন ‘রেফ্রিজারেশন’। পরের বছরই তিনি প্রথম ‘রেফ্রিজারেটর’ নামের পেটেন্ট নেন। মার্কিন গৃহযুদ্ধের পর ১৮৩০ সাল থেকে এই রেফ্রিজারেটরের চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। তবে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য প্রথম বৈদ্যুতিক রেফ্রিজারেটর আবিষ্কার করেন ফ্রেড ডব্লিউ উলফ। সেটি ১৯১৩ সালের কথা। ফ্রেড ডব্লিউ উলফের উদ্ভাবিত সেই যন্ত্রটির উৎকর্ষ ঘটিয়ে তৈরি হয়েছে আমাদের এই আধুনিককালের রেফ্রিজারেটর।
পরবর্তীকালে ফ্রেড ডব্লিউ উলফের আবিষ্কারের পথ ধরে সময়ে সময়ে নানা ধরন ও আকারের রেফ্রিজারেটর এসেছে বাজারে। এর মধ্যে সবচেয়ে ছোট মডেলের মধ্যে আছে চার লিটার পেলটিয়ার রেফ্রিজারেটর। আর বড় আকারের রেফ্রিজারেটরগুলো প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মাথাসমান উঁচু হয়ে থাকে। এগুলোর প্রস্থ হতে পারে এক মিটার এবং ধারণক্ষমতা ৬০০ লিটার। প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ফলে দিন দিন রেফ্রিজারেটরও প্রতিনিয়ত আধুনিক হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের ডেট্রয়েটের মিশিগানের নাথানিয়েল বি ওয়েলস ১৯১৪ সালে বৈদ্যুতিক শক্তিতে কাজ করতে পারে এমন একটি রেফ্রিজারেশন ইউনিটের ধারণা দেন। আলফ্রেড মেলোয়েস ১৯১৬ সালে ক্যাবিনেটের নিচে স্থাপন করা একটি কম্প্রেসার দিয়ে রেফ্রিজারেটরের রূপটি তৈরি করেন। তাঁর ধারণা কিনে নিয়ে ১৯১৮ সালে ফ্রিজিডেয়ার কোম্পানি রেফ্রিজারেটর বাজারজাত করতে শুরু করে। একই বছরে কেলভিনেটর কোম্পানি রেফ্রিজারেটর তৈরি শুরু করে। ১৯২৩ সালের মধ্যে বাজারের ৮০ শতাংশ চলে যায় বৈদ্যুতিক রেফ্রিজারেটরের দখলে।
এদিকে মুক্ত বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়া বলছে, খাদ্য ঠান্ডা করে জমানোর প্রথম পদ্ধতিতেই বরফ ব্যবহার করা হয়েছিল। আর কৃত্রিম রেফ্রিজারেশন শুরু হয়।
ঢাকা/এসএম



































