০৬:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬

লোকসানি পাটকল চালুতে সংসদীয় কমিটির দ্বি-মত

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ০৭:৫৫:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২২
  • / ১০৩৩৫ বার দেখা হয়েছে

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে থাকা পাটকলগুলো চালু না করার পক্ষে মত দিয়েছে অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। সোমবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।

কমিটি বলেছে, এসব পাটকল চালু করে সরকারের অর্থ অপচয়ের যৌক্তিকতা নেই। এছাড়াও কমিটি সড়কের তুলনায় কয়েকগুণ চওড়া ব্রিজ না করে বাস্তবতার নিরিখে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার পরামর্শ দিয়েছে।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে সভাপতি আব্দুস শহীদ বলেন, তিনটি জুট উন্নয়নে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু সরকার সেই পাটকলগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। নতুন করে সরকারিভাবে পাটকল চালু হবে কি হবে না, এ নিয়ে অনেক প্রশ্ন এসেছে। আমরা বলেছি এসব চালু হবে কি না, তা সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়। তবে আমরা মনে করি, যেগুলো লাভজনক নয়, সেগুলো চালু করে সরকারের অর্থ অপচয় করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

তিনি আরও বলেন, ছোট ছোট হলেও কিছু প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে ফিজিবিলিটি স্টাডি না করে। আমাদেরও মনে হয়েছে এগুলো জনস্বার্থে কার্যকর হবে না। কিছু প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল শেষ হলেও কিন্তু বাস্তবায়ন ৫ শতাংশ হয়নি। মন্ত্রণালয়ও যুক্তি দেখিয়েছে। তারা বলেছে এগুলো প্রয়োজন ছাড়াই সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমরা রিওয়ার্ড ও পানিশমেন্টের সুপারিশ করেছি। বলেছি কেউ দোষ করলে তাকে শাস্তির আওতায় আনতে আবার কেউ ভালো কাজ করলে তাকে পুরস্কৃত করতে।

মুজিবকেল্লার নির্মাণ কাজে অগ্রগতি কম হওয়ার কথা উল্লেখ করে কমিটির সভাপতি বলেন, এ প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি কাঙ্ক্ষিত নয়। অবশ্য কিন্তু বাস্তব সমস্যাও ছিল। বুয়েট যে রিপোর্ট দিয়েছিল, তা সঠিক ছিল না। পরে ডুয়েট থেকে সেটা সঠিকভাবে করা হয়েছে। প্রকৌশলীরা একেকজন একেকভাবে রিপোর্ট দিলে বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষের তো সমস্যা হবেই। আমরা ভবিষ্যতে যুক্তিপূর্ণ উপায়ে বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিতে বলেছি।

গ্রামীণ সড়কে ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণে প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে আব্দুস শহীদ বলেন, প্রকল্পে ১৫ মিটার অর্থাৎ ৪৫ ফুট ব্রিজ নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু যে জায়গায় ব্রিজ হচ্ছে সেখানকার রাস্তা আছে ৬ ফুট। রাস্তার সঙ্গে সামঞ্জস্য হচ্ছে না। এজন্য আমরা পরিসংখ্যান ব্যুরোর সহযোগিতা নিয়ে একটি কারিগরি রিপোর্ট করে দুই মাসের মধ্যে কমিটিতে পাঠাতে বলেছি।

কমিটি দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় পর্যায়ের কর্মকর্তাদের যানবাহন দেওয়ার সুপারিশ করেছে উল্লেখ করে সভাপতি বলেন, এসিল্যান্ড, ইউএনও, কৃষি কর্মকর্তারা গাড়ি পেলে তারা পাবেন না কেন? তারা তো সারা দিনই কাজ করেন।

বৈঠকে বস্ত্র ও পাট প্রকল্প এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। এ দিকে সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে সরকারিভাবে পরিচালিত টেক্সটাইল মিল পরিচালনার বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। 

এছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের তাঁত শিল্পের উন্নয়ন আশানুরূপ না হওয়ায় আরও যত্নবান হওয়ার সুপারিশ করা হয়। চলমান প্রকল্পের কাজ শুরুর পূর্বে উহার গুরুত্ব বিবেচনা করে সঠিক কর্মপরিকল্পনা তৈরির পরামর্শ দেওয়া হয়। 

দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সরাসরি জনগণের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ায় পরিবেশ বিপর্যয়ের বিষয়ে আরও সজাগ থাকার সুপারিশ করা হয় বৈঠকে।  
কমিটির সভাপতি উপাধ্যক্ষ মো. আব্দুস শহীদের সভাপতিত্বে কমিটির সদস্য নূর-ই-আলম চৌধুরী, ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন, এ.বি.তাজুল ইসলাম, আহসান আদেলুর রহমান, ওয়াসিকা আয়শা খান ও খাদিজাতুল আনোয়ার বৈঠকে অংশ নেন।

ঢাকা/এসআর

শেয়ার করুন

লোকসানি পাটকল চালুতে সংসদীয় কমিটির দ্বি-মত

আপডেট: ০৭:৫৫:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২২

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে থাকা পাটকলগুলো চালু না করার পক্ষে মত দিয়েছে অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। সোমবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।

কমিটি বলেছে, এসব পাটকল চালু করে সরকারের অর্থ অপচয়ের যৌক্তিকতা নেই। এছাড়াও কমিটি সড়কের তুলনায় কয়েকগুণ চওড়া ব্রিজ না করে বাস্তবতার নিরিখে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার পরামর্শ দিয়েছে।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে সভাপতি আব্দুস শহীদ বলেন, তিনটি জুট উন্নয়নে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু সরকার সেই পাটকলগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। নতুন করে সরকারিভাবে পাটকল চালু হবে কি হবে না, এ নিয়ে অনেক প্রশ্ন এসেছে। আমরা বলেছি এসব চালু হবে কি না, তা সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়। তবে আমরা মনে করি, যেগুলো লাভজনক নয়, সেগুলো চালু করে সরকারের অর্থ অপচয় করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

তিনি আরও বলেন, ছোট ছোট হলেও কিছু প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে ফিজিবিলিটি স্টাডি না করে। আমাদেরও মনে হয়েছে এগুলো জনস্বার্থে কার্যকর হবে না। কিছু প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল শেষ হলেও কিন্তু বাস্তবায়ন ৫ শতাংশ হয়নি। মন্ত্রণালয়ও যুক্তি দেখিয়েছে। তারা বলেছে এগুলো প্রয়োজন ছাড়াই সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমরা রিওয়ার্ড ও পানিশমেন্টের সুপারিশ করেছি। বলেছি কেউ দোষ করলে তাকে শাস্তির আওতায় আনতে আবার কেউ ভালো কাজ করলে তাকে পুরস্কৃত করতে।

মুজিবকেল্লার নির্মাণ কাজে অগ্রগতি কম হওয়ার কথা উল্লেখ করে কমিটির সভাপতি বলেন, এ প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি কাঙ্ক্ষিত নয়। অবশ্য কিন্তু বাস্তব সমস্যাও ছিল। বুয়েট যে রিপোর্ট দিয়েছিল, তা সঠিক ছিল না। পরে ডুয়েট থেকে সেটা সঠিকভাবে করা হয়েছে। প্রকৌশলীরা একেকজন একেকভাবে রিপোর্ট দিলে বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষের তো সমস্যা হবেই। আমরা ভবিষ্যতে যুক্তিপূর্ণ উপায়ে বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিতে বলেছি।

গ্রামীণ সড়কে ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণে প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে আব্দুস শহীদ বলেন, প্রকল্পে ১৫ মিটার অর্থাৎ ৪৫ ফুট ব্রিজ নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু যে জায়গায় ব্রিজ হচ্ছে সেখানকার রাস্তা আছে ৬ ফুট। রাস্তার সঙ্গে সামঞ্জস্য হচ্ছে না। এজন্য আমরা পরিসংখ্যান ব্যুরোর সহযোগিতা নিয়ে একটি কারিগরি রিপোর্ট করে দুই মাসের মধ্যে কমিটিতে পাঠাতে বলেছি।

কমিটি দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় পর্যায়ের কর্মকর্তাদের যানবাহন দেওয়ার সুপারিশ করেছে উল্লেখ করে সভাপতি বলেন, এসিল্যান্ড, ইউএনও, কৃষি কর্মকর্তারা গাড়ি পেলে তারা পাবেন না কেন? তারা তো সারা দিনই কাজ করেন।

বৈঠকে বস্ত্র ও পাট প্রকল্প এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। এ দিকে সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে সরকারিভাবে পরিচালিত টেক্সটাইল মিল পরিচালনার বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। 

এছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের তাঁত শিল্পের উন্নয়ন আশানুরূপ না হওয়ায় আরও যত্নবান হওয়ার সুপারিশ করা হয়। চলমান প্রকল্পের কাজ শুরুর পূর্বে উহার গুরুত্ব বিবেচনা করে সঠিক কর্মপরিকল্পনা তৈরির পরামর্শ দেওয়া হয়। 

দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সরাসরি জনগণের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ায় পরিবেশ বিপর্যয়ের বিষয়ে আরও সজাগ থাকার সুপারিশ করা হয় বৈঠকে।  
কমিটির সভাপতি উপাধ্যক্ষ মো. আব্দুস শহীদের সভাপতিত্বে কমিটির সদস্য নূর-ই-আলম চৌধুরী, ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন, এ.বি.তাজুল ইসলাম, আহসান আদেলুর রহমান, ওয়াসিকা আয়শা খান ও খাদিজাতুল আনোয়ার বৈঠকে অংশ নেন।

ঢাকা/এসআর