০৩:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

শ্রম বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা পরিকল্পনা করতে হবে: রাষ্ট্রপতি

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ০৭:১৪:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ মার্চ ২০২২
  • / ১০৩৬৯ বার দেখা হয়েছে

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের চ্যান্সেলর মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, আমরা সার্টিফিকেট-সর্বস্ব শিক্ষা নয়, পুঁথিগত বিদ্যার পাঠ নয়, নোট মুখস্ত করে পাস করার শিক্ষা নয়, আমরা চাই সৃজনশীল মানুষ হবার শিক্ষা এবং কুসংস্কারমুক্ত আর খোলামনের আলোকিত ব্যক্তিত্ব গড়ার শিক্ষা। 

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

তিনি বলেন, আমাদেরকে শ্রম বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা কার্যক্রম পরিকল্পনা করতে হবে। প্রায়শই দেখা যায় শিক্ষার্থীরা নিজের আগ্রহ ও পছন্দের বিষয়ে পড়তে পারে না। ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে যে বিষয়ে সুযোগ পায় সেটাই পড়তে বাধ্য হয়। এটা উচ্চ শিক্ষার মাপকাঠি হতে পারে না। 

রোববার বিকেলে বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি আয়োজিত ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে’ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হয়ে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন আবদুল হামিদ। 

সংগঠনের চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেন এতে সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এছাড়া বক্তব্য রাখেন পানিসম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, বাংলাদেশ এক্রেডিটেশন কাউন্সিলের চেয়ারমান অধ্যাপক মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ।মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কবি কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। 

অনুষ্ঠানে রাষ্টপতি বলেন, মার্চ আমাদের মহান স্বাধীনতার মাস, বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠতম অর্জনের মাস।একটি জাতিকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রথম সোপান হচ্ছে শিক্ষা। শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয়, সামাজিক ও কৃৎকৌশলগত উন্নয়ন, বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নয়ন, অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ সৃষ্টি, সর্বোপরি গভীর দেশপ্রেম জাগ্রত করার মুখ্য উপায় হচ্ছে মানসম্মত শিক্ষা।

আমরা ইতোমধ্যে স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পেরিয়ে এসেছি। পৃথিবীর অনেক স্বাধীন দেশের তুলনায় স্বাধীন বাংলাদেশের যাত্রা খুব বেশি সময় নয়। তাছাড়া নানা ঘাত-প্রতিঘাত, চড়াই-উৎরাইয়ের মধ্য দিয়ে এ সময়টা পার করতে হয়েছে। তা সত্ত্বেও আমরা কৃষি, খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গ্রামীণ অবকাঠামো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, যোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য দূরীকরণ, গণমাধ্যমের উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করেছি। 

রাষ্টপতি বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে। সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এ লক্ষ্য অর্জনে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তিসহ জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখায় দক্ষ জনবল সৃষ্টি করতে হবে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এ বিষয়টি মাথায় রেখে শিক্ষাদানের কাজে আত্মনিয়োগ করতে হবে। শিক্ষার সঙ্গে আনন্দের সংযোগ ঘটাতে হবে। মানবপ্রেম, মনুষ্যত্ব, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, জ্ঞান-প্রযুক্তি নির্ভর কৌশলকে শিক্ষার সঙ্গে সম্মিলন ঘটাতে হবে। 

তিনি বলেন, সরকার উচ্চ শিক্ষার বিস্তার ও মানোন্নয়নে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছে। বিভিন্ন জেলায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছে। অনেকগুলো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রণয়ন করা হয়েছে Private University Act-2010। একবিংশ শতাব্দীর উপযোগী মানবিক ও নৈতিক গুণাবলি সম্পন্ন জ্ঞানী, দক্ষ, দেশপ্রেমিক, অসাম্প্রদায়িক এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার উপযোগী নাগরিক সৃষ্টির লক্ষ্যে জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। এ শিক্ষানীতির লক্ষ্য ও আদর্শে প্রতিফলিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং আমাদের সংবিধানের মূল দিকনির্দেশনা। বিভিন্নমুখী শিক্ষার ক্ষেত্রে দূরত্ব কমিয়ে সকলের জন্য শিক্ষার অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা এবং কারিগরি শিক্ষার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

মো. আবদুল হামিদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার পাদপীঠ। এখানে মুক্ত চিন্তার পাশাপাশি জ্ঞান-বিজ্ঞানের সর্বশেষ অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। বর্তমান বিশ্ব একদিকে যেমন সম্ভাবনাময় তেমনি তা চ্যালেঞ্জিংও বটে। শিক্ষার্থীরা যাতে এই চ্যালেঞ্জ দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে পারে তা নিশ্চিত করতে যুগোপযোগী ও আন্তর্জাতিক মানের পাঠ্যক্রম অনুসরণ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা যাতে কোনোভাবেই সার্টিফিকেট-সর্বস্ব না হয় তা অবশ্যই নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানাই। এর পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নির্দিষ্ট সংখ্যক আসন দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষণ এবং সম্ভব হলে বিনা বেতনে অধ্যয়নের সুযোগ দানের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। 

আগামী বছরগুলোতে দেশে কর্মক্ষম নাগরিকের সংখ্যা বাড়বে এবং অন্যের উপর নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা কমবে। এর ফলে মাথাপিছু মোট জাতীয় আয় ও দ্রুত বেড়ে উঠা প্রবৃদ্ধিসহ সামনে এগিয়ে যাবার সুযোগ পাবে দেশ। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পরবর্তী ধাপে উন্নীত করতে হলে ভাবতে হবে কী করে শিক্ষায় বিনিয়োগ অর্থবহভাবে বাড়িয়ে বিশ্ববাজারে জোর প্রতিযোগিতায় নামা যায়। 

রাষ্টপতি বলেন, বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক তৎপরতার মাঝে সামগ্রিকভাবে শিক্ষাভাবনা সবসময়ই গুরুত্ব পেয়েছে। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার শুরুর দিকেই বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, “শিক্ষা দীক্ষা হইল মানব সভ্যতার মাপকাঠি, অথচ আমাদের দেশের অগণিত জনসাধারণকে অশিক্ষার অন্ধকারে ডুবাইয়া রাখিয়া কোন মুখে আমরা বিশ্বের দরবারে নিজেদেরকে সভ্য জাতি বলিয়া গৌরব করিব”। বঙ্গবন্ধু সবসময় বলতেন, “শিক্ষাই শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ। সুস্থ সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য শিক্ষা খাতে পুঁজি বিনিয়োগের চাইতে উৎকৃষ্ট বিনিয়োগ আর হতে পারে না”। আজকের অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তাদেরকে আমি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি এজন্য যে আপনারা বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা ভাবনার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে শিক্ষা খাতে বিনিয়োগে এগিয়ে এসেছেন। 

ইতোমধ্যে উচ্চ শিক্ষা খাতের উন্নয়নে আপনাদের অবদান ও অংশীদারিত্ব প্রশংসনীয়। তবে একটা কথা পরিষ্কারভাবে মনে রাখতে হবে, শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ আর অন্যান্য বাণিজ্যিক খাতের বিনিয়োগের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এক হতে পারে না। ইদানিং বিভিন্ন গণমাধ্যমে কিছু সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপারে নেতিবাচক খবর বেরিয়েছে। কিছু কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের বিনিয়োগকে মুনাফা অর্জনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। নিয়ম-নীতি, অবকাঠামো ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না করে বছর বছর ছাত্র ভর্তি করছে আর সার্টিফিকেট বিতরণ করছে। শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতের জন্য কতটুকু যোগ্য হিসেবে গড়ে উঠতে পারছে সেদিকে খেয়াল রাখার কোনো দায়িত্বই যেন তাদের নেই। আবার অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আছে যেখানে কর্তৃপক্ষ মনে করেন এটা তাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক প্রতিষ্ঠান। শিক্ষায় কর্পোরেট কালচার প্রতিষ্ঠাকেই তারা বেশি গুরুত্ব দেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তবুদ্ধির চর্চা ও অনুশীলনের স্থান। 

ঢাকা/এসএ

শেয়ার করুন

শ্রম বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা পরিকল্পনা করতে হবে: রাষ্ট্রপতি

আপডেট: ০৭:১৪:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ মার্চ ২০২২

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের চ্যান্সেলর মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, আমরা সার্টিফিকেট-সর্বস্ব শিক্ষা নয়, পুঁথিগত বিদ্যার পাঠ নয়, নোট মুখস্ত করে পাস করার শিক্ষা নয়, আমরা চাই সৃজনশীল মানুষ হবার শিক্ষা এবং কুসংস্কারমুক্ত আর খোলামনের আলোকিত ব্যক্তিত্ব গড়ার শিক্ষা। 

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

তিনি বলেন, আমাদেরকে শ্রম বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা কার্যক্রম পরিকল্পনা করতে হবে। প্রায়শই দেখা যায় শিক্ষার্থীরা নিজের আগ্রহ ও পছন্দের বিষয়ে পড়তে পারে না। ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে যে বিষয়ে সুযোগ পায় সেটাই পড়তে বাধ্য হয়। এটা উচ্চ শিক্ষার মাপকাঠি হতে পারে না। 

রোববার বিকেলে বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি আয়োজিত ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে’ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হয়ে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন আবদুল হামিদ। 

সংগঠনের চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেন এতে সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এছাড়া বক্তব্য রাখেন পানিসম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, বাংলাদেশ এক্রেডিটেশন কাউন্সিলের চেয়ারমান অধ্যাপক মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ।মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কবি কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। 

অনুষ্ঠানে রাষ্টপতি বলেন, মার্চ আমাদের মহান স্বাধীনতার মাস, বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠতম অর্জনের মাস।একটি জাতিকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রথম সোপান হচ্ছে শিক্ষা। শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয়, সামাজিক ও কৃৎকৌশলগত উন্নয়ন, বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নয়ন, অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ সৃষ্টি, সর্বোপরি গভীর দেশপ্রেম জাগ্রত করার মুখ্য উপায় হচ্ছে মানসম্মত শিক্ষা।

আমরা ইতোমধ্যে স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পেরিয়ে এসেছি। পৃথিবীর অনেক স্বাধীন দেশের তুলনায় স্বাধীন বাংলাদেশের যাত্রা খুব বেশি সময় নয়। তাছাড়া নানা ঘাত-প্রতিঘাত, চড়াই-উৎরাইয়ের মধ্য দিয়ে এ সময়টা পার করতে হয়েছে। তা সত্ত্বেও আমরা কৃষি, খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গ্রামীণ অবকাঠামো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, যোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য দূরীকরণ, গণমাধ্যমের উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করেছি। 

রাষ্টপতি বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে। সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এ লক্ষ্য অর্জনে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তিসহ জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখায় দক্ষ জনবল সৃষ্টি করতে হবে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এ বিষয়টি মাথায় রেখে শিক্ষাদানের কাজে আত্মনিয়োগ করতে হবে। শিক্ষার সঙ্গে আনন্দের সংযোগ ঘটাতে হবে। মানবপ্রেম, মনুষ্যত্ব, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, জ্ঞান-প্রযুক্তি নির্ভর কৌশলকে শিক্ষার সঙ্গে সম্মিলন ঘটাতে হবে। 

তিনি বলেন, সরকার উচ্চ শিক্ষার বিস্তার ও মানোন্নয়নে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছে। বিভিন্ন জেলায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছে। অনেকগুলো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রণয়ন করা হয়েছে Private University Act-2010। একবিংশ শতাব্দীর উপযোগী মানবিক ও নৈতিক গুণাবলি সম্পন্ন জ্ঞানী, দক্ষ, দেশপ্রেমিক, অসাম্প্রদায়িক এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার উপযোগী নাগরিক সৃষ্টির লক্ষ্যে জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। এ শিক্ষানীতির লক্ষ্য ও আদর্শে প্রতিফলিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং আমাদের সংবিধানের মূল দিকনির্দেশনা। বিভিন্নমুখী শিক্ষার ক্ষেত্রে দূরত্ব কমিয়ে সকলের জন্য শিক্ষার অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা এবং কারিগরি শিক্ষার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

মো. আবদুল হামিদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার পাদপীঠ। এখানে মুক্ত চিন্তার পাশাপাশি জ্ঞান-বিজ্ঞানের সর্বশেষ অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। বর্তমান বিশ্ব একদিকে যেমন সম্ভাবনাময় তেমনি তা চ্যালেঞ্জিংও বটে। শিক্ষার্থীরা যাতে এই চ্যালেঞ্জ দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে পারে তা নিশ্চিত করতে যুগোপযোগী ও আন্তর্জাতিক মানের পাঠ্যক্রম অনুসরণ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা যাতে কোনোভাবেই সার্টিফিকেট-সর্বস্ব না হয় তা অবশ্যই নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানাই। এর পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নির্দিষ্ট সংখ্যক আসন দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষণ এবং সম্ভব হলে বিনা বেতনে অধ্যয়নের সুযোগ দানের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। 

আগামী বছরগুলোতে দেশে কর্মক্ষম নাগরিকের সংখ্যা বাড়বে এবং অন্যের উপর নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা কমবে। এর ফলে মাথাপিছু মোট জাতীয় আয় ও দ্রুত বেড়ে উঠা প্রবৃদ্ধিসহ সামনে এগিয়ে যাবার সুযোগ পাবে দেশ। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পরবর্তী ধাপে উন্নীত করতে হলে ভাবতে হবে কী করে শিক্ষায় বিনিয়োগ অর্থবহভাবে বাড়িয়ে বিশ্ববাজারে জোর প্রতিযোগিতায় নামা যায়। 

রাষ্টপতি বলেন, বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক তৎপরতার মাঝে সামগ্রিকভাবে শিক্ষাভাবনা সবসময়ই গুরুত্ব পেয়েছে। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার শুরুর দিকেই বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, “শিক্ষা দীক্ষা হইল মানব সভ্যতার মাপকাঠি, অথচ আমাদের দেশের অগণিত জনসাধারণকে অশিক্ষার অন্ধকারে ডুবাইয়া রাখিয়া কোন মুখে আমরা বিশ্বের দরবারে নিজেদেরকে সভ্য জাতি বলিয়া গৌরব করিব”। বঙ্গবন্ধু সবসময় বলতেন, “শিক্ষাই শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ। সুস্থ সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য শিক্ষা খাতে পুঁজি বিনিয়োগের চাইতে উৎকৃষ্ট বিনিয়োগ আর হতে পারে না”। আজকের অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তাদেরকে আমি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি এজন্য যে আপনারা বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা ভাবনার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে শিক্ষা খাতে বিনিয়োগে এগিয়ে এসেছেন। 

ইতোমধ্যে উচ্চ শিক্ষা খাতের উন্নয়নে আপনাদের অবদান ও অংশীদারিত্ব প্রশংসনীয়। তবে একটা কথা পরিষ্কারভাবে মনে রাখতে হবে, শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ আর অন্যান্য বাণিজ্যিক খাতের বিনিয়োগের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এক হতে পারে না। ইদানিং বিভিন্ন গণমাধ্যমে কিছু সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপারে নেতিবাচক খবর বেরিয়েছে। কিছু কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের বিনিয়োগকে মুনাফা অর্জনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। নিয়ম-নীতি, অবকাঠামো ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না করে বছর বছর ছাত্র ভর্তি করছে আর সার্টিফিকেট বিতরণ করছে। শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতের জন্য কতটুকু যোগ্য হিসেবে গড়ে উঠতে পারছে সেদিকে খেয়াল রাখার কোনো দায়িত্বই যেন তাদের নেই। আবার অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আছে যেখানে কর্তৃপক্ষ মনে করেন এটা তাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক প্রতিষ্ঠান। শিক্ষায় কর্পোরেট কালচার প্রতিষ্ঠাকেই তারা বেশি গুরুত্ব দেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তবুদ্ধির চর্চা ও অনুশীলনের স্থান। 

ঢাকা/এসএ