০৮:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

সাভারের শিল্পনগরীতে চামড়ার জন্য অপেক্ষা

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ১০:৫৩:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ জুলাই ২০২২
  • / ১০৩৫৪ বার দেখা হয়েছে

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: ঈদের পর সাভারের হেমায়েতপুরের চামড়া শিল্পনগরীতে কর্মব্যস্ততা পুরোপুরি শুরু হয়নি। পাচার রোধ এবং বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবার ঢাকার বাইরে থেকে সাত দিন কোনো চামড়া ঢুকবে না বা ঢাকা থেকে বের হবে না। সরকারের এ নিয়মের কারণে এ বছর ট্যানারিতে চামড়া কম এসেছে। এক কোটি পিস চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এখন পর্যন্ত সাড়ে তিন লাখ এসেছে ১৩৯টি ট্যানারিতে।

ট্যানারি মালিক ও কর্মীরা জানান, ঈদের দিন ও ঈদের পরদিন কিছু মাদ্রাসা ও এতিমখানা থেকে ট্যানারিগুলো সরাসরি চামড়া কিনেছে। দু’দিনেই লবণ মাখিয়ে প্রাথমিক প্রক্রিয়াজাত সম্পন্ন হয়েছে। এখন কারখানাগুলোতে কাজের চাপ নেই। গতকাল বুধবার ট্যানারি ঘুরে কোথাও কর্মব্যস্ততা চোখে পড়েনি।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব 

কাজের ফাঁকে ভুলুয়া ট্যানারির সামনে দোকানে চা খেতে এসেছিলেন অস্থায়ী কর্মী সাইদুর। তিনি বলেন, ঈদ মৌসুমে ছুটা শ্রমিক লাগে চামড়ায় লবণ লাগাতে ও উল্টে দিতে। লবণ লাগাতে ট্যানারিগুলো চামড়াপ্রতি ৩৫ টাকা এবং উল্টাতে ৫ টাকা দেয়। ঈদে সংগ্রহ করা চামড়ায় লবণ লাগানো শেষ। এখন তেমন কাজ নেই।

ঈদের প্রথম দু’দিনে এবারের লক্ষ্যমাত্রার কেউ ১০ শতাংশ কেউ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত চামড়া সংগ্রহ করেছেন। আগামী সপ্তাহে হাজারীবাগ ও পোস্তার আড়ত থেকে চামড়া আসা শুরু হবে। তখন কাজের চাপ বাড়বে।

চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হচ্ছে কিনা, তা যাচাই করতে সোমবার দুপুরে হেমায়েতপুরের হরিণধরায় চামড়া শিল্পনগরী পরিদর্শন করেছেন শিল্প সচিব জাকিয়া সুলতানা। তিনি সাংবাদিকদের জানান, গত বছর ঢাকার বাইরে থেকে কোরবানির পশুর চামড়া ট্যানারিতে এলেও এবার আসতে পারেনি। চামড়া পাচার বন্ধ করতে কোরবানির পর সাত দিন ঢাকার বাইরে থেকে কোনো চামড়া ট্যানারিতে না ঢোকানোর এবং ঢাকা থেকে চামড়া বাইরে না নেওয়ার সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। এসব কারণেই ট্যানারিগুলোতে চামড়া সরবরাহ কম। তিনি জানান, নতুন ব্যবস্থার কারণে এবার চামড়া সবাই পেয়েছেন এবং যথাযথভাবে লবণ লাগানো হয়েছে। জেলা প্রশাসকরা এটা তদারকি করেছেন।

এ বছর লবণের দাম কিছুটা বাড়লেও সরবরাহে ঘাটতি নেই। এবার চামড়া নিয়ে কোনো সিন্ডিকেট হয়নি বলেও দাবি তাঁর। বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. সাখাওয়াত উল্লাহ জানান, গত বছর প্রায় ৯০ লাখ পশুর চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছিল। এবার এক কোটি পিস চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে। চামড়া পাচার রোধে সরকার নানা ব্যবস্থা নিয়েছে। ট্যানারি মালিকরাও ন্যায্য মূল্যে চামড়া কিনছেন।

ঢাকা/এসএ

শেয়ার করুন

সাভারের শিল্পনগরীতে চামড়ার জন্য অপেক্ষা

আপডেট: ১০:৫৩:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ জুলাই ২০২২

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: ঈদের পর সাভারের হেমায়েতপুরের চামড়া শিল্পনগরীতে কর্মব্যস্ততা পুরোপুরি শুরু হয়নি। পাচার রোধ এবং বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবার ঢাকার বাইরে থেকে সাত দিন কোনো চামড়া ঢুকবে না বা ঢাকা থেকে বের হবে না। সরকারের এ নিয়মের কারণে এ বছর ট্যানারিতে চামড়া কম এসেছে। এক কোটি পিস চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এখন পর্যন্ত সাড়ে তিন লাখ এসেছে ১৩৯টি ট্যানারিতে।

ট্যানারি মালিক ও কর্মীরা জানান, ঈদের দিন ও ঈদের পরদিন কিছু মাদ্রাসা ও এতিমখানা থেকে ট্যানারিগুলো সরাসরি চামড়া কিনেছে। দু’দিনেই লবণ মাখিয়ে প্রাথমিক প্রক্রিয়াজাত সম্পন্ন হয়েছে। এখন কারখানাগুলোতে কাজের চাপ নেই। গতকাল বুধবার ট্যানারি ঘুরে কোথাও কর্মব্যস্ততা চোখে পড়েনি।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব 

কাজের ফাঁকে ভুলুয়া ট্যানারির সামনে দোকানে চা খেতে এসেছিলেন অস্থায়ী কর্মী সাইদুর। তিনি বলেন, ঈদ মৌসুমে ছুটা শ্রমিক লাগে চামড়ায় লবণ লাগাতে ও উল্টে দিতে। লবণ লাগাতে ট্যানারিগুলো চামড়াপ্রতি ৩৫ টাকা এবং উল্টাতে ৫ টাকা দেয়। ঈদে সংগ্রহ করা চামড়ায় লবণ লাগানো শেষ। এখন তেমন কাজ নেই।

ঈদের প্রথম দু’দিনে এবারের লক্ষ্যমাত্রার কেউ ১০ শতাংশ কেউ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত চামড়া সংগ্রহ করেছেন। আগামী সপ্তাহে হাজারীবাগ ও পোস্তার আড়ত থেকে চামড়া আসা শুরু হবে। তখন কাজের চাপ বাড়বে।

চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হচ্ছে কিনা, তা যাচাই করতে সোমবার দুপুরে হেমায়েতপুরের হরিণধরায় চামড়া শিল্পনগরী পরিদর্শন করেছেন শিল্প সচিব জাকিয়া সুলতানা। তিনি সাংবাদিকদের জানান, গত বছর ঢাকার বাইরে থেকে কোরবানির পশুর চামড়া ট্যানারিতে এলেও এবার আসতে পারেনি। চামড়া পাচার বন্ধ করতে কোরবানির পর সাত দিন ঢাকার বাইরে থেকে কোনো চামড়া ট্যানারিতে না ঢোকানোর এবং ঢাকা থেকে চামড়া বাইরে না নেওয়ার সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। এসব কারণেই ট্যানারিগুলোতে চামড়া সরবরাহ কম। তিনি জানান, নতুন ব্যবস্থার কারণে এবার চামড়া সবাই পেয়েছেন এবং যথাযথভাবে লবণ লাগানো হয়েছে। জেলা প্রশাসকরা এটা তদারকি করেছেন।

এ বছর লবণের দাম কিছুটা বাড়লেও সরবরাহে ঘাটতি নেই। এবার চামড়া নিয়ে কোনো সিন্ডিকেট হয়নি বলেও দাবি তাঁর। বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. সাখাওয়াত উল্লাহ জানান, গত বছর প্রায় ৯০ লাখ পশুর চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছিল। এবার এক কোটি পিস চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে। চামড়া পাচার রোধে সরকার নানা ব্যবস্থা নিয়েছে। ট্যানারি মালিকরাও ন্যায্য মূল্যে চামড়া কিনছেন।

ঢাকা/এসএ