সিমেন্টের কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম আয়কর কমানোর দাবি
- আপডেট: ০২:৩৭:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২২
- / ১০৪৬৩ বার দেখা হয়েছে
বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: সিমেন্ট উৎপাদনের জন্য প্রধান কাঁচামাল ক্লিংকার, স্লাগ, লাইম স্টোন, ফ্লাই অ্যাশ ও জিপসাম। এই পাঁচ রকমের কাঁচামালই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এগুলোর ওপর ভ্যাট বাড়ায় সিমেন্ট খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমএ) সভাপতি ও ক্রাউন সিমেন্টের ভাইস-চেয়ারম্যান মো. আলমগীর কবির। তিনি কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম আয়কর কমানোর দাবি জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ সিমেন্ট শিল্পের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে রাজধানীর গুলশানে এক হোটেলে বিসিএমএ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। মঙ্গলবার (১৩ ডিসেম্বর) সকাল ১১টার সংবাদ সম্মেলনটি হয়।
অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুক–টুইটার–লিংকডইন–ইন্সটাগ্রাম–ইউটিউব
মো. আলমগীর কবির বলেন, লাইমস্টোন আমদানিতে আগে থেকেই ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর ও তিন শতাংশ অগ্রিম কর দিতে হয়। এখন আকস্মিকভাবে এর সঙ্গে ৩০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ও তিন শতাংশ অগ্রিম আয়করের সঙ্গে আরও দুই শতাংশ অতিরিক্ত অগ্রিম আয়কর আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি পাঁচ প্রকার কাঁচামালই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। বিএসটিআই এবং ইউরোপিয়ান নর্মস অনুযায়ী সিমেন্ট উৎপাদনের জন্য সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত লাইম স্টোন ব্যবহারযোগ্য। লাইমস্টোনের আমদানি মূল্য অন্যান্য কাঁচামালের আমদানি মূল্যের তুলনায় সবচেয়ে কম। সেইভাবে লাইমস্টোন সিমেন্ট উৎপাদনে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ী একটি কাঁচামাল। তাই এই অতিরিক্ত শুল্কায়নের ফলে সিমেন্ট উৎপাদনকারীরা লাইমস্টোন আমদানি করতে নিরুৎসাহিত হবেন বলে ধারণা হচ্ছে।
বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সংবাদ সম্মেলন
তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত শুল্কায়নের ফলে বর্তমানে আমদানি মূল্যের ওপর ২৭ শতাংশের পরিবর্তে প্রায় ৬৭ শতাংশ শুল্ক ও কর পরিশোধ করে লাইমস্টোন ছাড় করাতে হচ্ছে। ডলার সংকটের কারণে সিমেন্টের কাঁচামাল আমদানিতে বিঘ্ন হচ্ছে। খাতটির মালিকরা নতুন করে এলসি খুলতে গিয়েও বর্তমানে বিরাট বাধার সম্মুখিন হচ্ছেন।
আরও পড়ুন: পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর লাইসেন্স পেল এসএসএল কমার্জ
বিসিএমএ সভাপতি জানান, আড়াই দশক আগে সিমেন্টের প্রায় সম্পূর্ণ চাহিদা আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হতো। তবে গত আড়াই দশকে উদ্যোক্তাদের সাহসী পদক্ষেপ ও সরকারের নীতি সহায়তার কারণে সিমেন্ট শিল্প একটি বিকাশমান ও সুসংগঠিত খাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিলো। দেশের চাহিদা মিটিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ বিদেশেও সিমেন্ট রফতানি করে আসছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ৩৫টি দেশি ও বিদেশি প্রতিষ্ঠান সিমেন্ট উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত। এসব প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক কার্যকরী উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৭৯ মিলিয়ন টন। যার বিপরীতে চাহিদা রয়েছে প্রায় ৩৯ মিলিয়ন টন। চাহিদার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণের বেশি উৎপাদন ক্ষমতা থাকার কারণে বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা রয়েছে। প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকতে নামমাত্র মূল্যে সিমেন্ট বিক্রি করতে হয়। এতে আর্থিকভাবে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আমদানি পর্যায় ছাড়াও বিক্রয় পর্যায়েও দুই শতাংশ অগ্রিম আয়কর ধার্য করা আছে। অর্থাৎ একটি সিমেন্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান লোকসান করলেও তাকে চূড়ান্ত কর দায় হিসেবে এই অগ্রিম আয়কর পরিশোধ করতে হবে। যা কোনও বিবেচনায় গ্রহণযোগ্য না। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে সিমেন্ট শিল্পের জন্য অগ্রিম আয়করের কারণে দুরবস্থার বিষয়টি আমরা সিমেন্ট উৎপাদনকারীরা আগে অনেকবার তুলে ধরেছি। কিন্তু সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল বিষয়টিতে গুরুত্ব দিচ্ছে না। এর ফলে দেশের একটি উদীয়মান শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমরা আশা করছি সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল বিষয়টি বিবেচনায় নেবেন। একইসঙ্গে অগ্রিম আয়কর আমদানি ও বিক্রি উভয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ দশমিক ৫০ শতাংশ ধার্য করবেন। এছাড়া চূড়ান্ত কর দায় থেকে মুক্ত করবেন।
এছাড়াও তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ৩৫টি দেশি-বিদেশি কোম্পানি সিমেন্ট উৎপাদন করছে। খাতটিতে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে। এই খাত থেকে বছরে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকার বেশি সরকারি কোষাগারে শুল্ক ও কর জমা হয়।
ঢাকা/টিএ








































