সুদহারের সীমা প্রত্যাহারের বিপক্ষে এফবিসিসিআই
- আপডেট: ১২:৪৮:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ অগাস্ট ২০২২
- / ১০৪০০ বার দেখা হয়েছে
বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: ব্যাংকের আমানত ও ঋণের সুদহারের সীমা তুলে দেওয়ার যে প্রস্তাব বিশেষজ্ঞরা করছেন, তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। সংগঠনটির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেছেন, সীমা তুলে দিলে ঋণের সুদহার ১৬ থেকে ১৭ শতাংশে চলে যাবে। তাতে নতুন বিনিয়োগ হবে না।
রোববার বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিএমসিসিআই) আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজ সভায় এফবিসিসিআই সভাপতি এসব কথা বলেন। ‘সামষ্টিক অর্থনৈতিক সংকটের কারণ’ শীর্ষক এ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএমসিসিআই সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবির।
অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুক–টুইটার–লিংকডইন–ইন্সটাগ্রাম–ইউট
বেশ আগে থেকেই ব্যাংক খাতের আমানতের সুদহার সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ এবং ঋণের সুদহার সর্বোচ্চ ৯ শতাংশের বেশি নেওয়া যাবে না মর্মে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা রয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সিদ্ধান্ত নেয়।
সালমান এফ রহমান বলেন, ডলার কেনায় বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো অনিয়ম পায়নি। যখন ব্যাংক ঋণের সুদহার ১৪ শতাংশ ছিল, তখন বলা হতো খেলাপি ঋণের কারণে সুদহার বেশি। সরকার সুদহার নির্ধারণ করে দেওয়ার পর তারল্য পরিস্থিতি অপরিবর্তিত। কিন্তু খেলাপি ঋণ কমেনি। তাহলে খেলাপি ঋণের কারণে সুদহার বেশি হয়েছে, সেটা প্রমাণিত হয়নি। তিনি বলেন, গত এক দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ, ডিজিটালাইজেশন ও কৃষি খাতে ব্যাপক কার্যক্রম করেছে। তিনি সারে ভর্তুকি তুলে দেওয়ার বিরোধিতা করে বলেন, এ ধরনের ভর্তুকি না থাকলে খাদ্যে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ হতো না। অর্থ পাচার প্রসঙ্গে তিনি সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলেন, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের মাধ্যমে অর্থ পাচার হচ্ছে। কিন্তু তারা বাংলাদেশে বসবাসকারী কিনা, তা ওই প্রতিবেদনে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। আইএমএফ থেকে ঋণ নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে কোনো দেশ আইএমএফ থেকে ঋণ নিতে পারে। পূর্বপ্রস্তুতি বা সতর্কতার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ আইএমএফ থেকে ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। যে কোনো দায়িত্বশীল সরকারই এটা করবে।
ঢাকাস্থ মালয়েশিয়ান হাইকমিশনার হাজনা মো. হাশিম বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) হলে বাণিজ্য দ্রুত বাড়বে। এ জন্য যেসব বাণিজ্যে বাধা রয়েছে, সেগুলো দূর করতে হবে। ব্যবসা সহায়ক নীতি নিতে হবে।
গতকালের আলোচনায় সুদহারের সীমা তুলে দেওয়ার প্রসঙ্গটি তোলেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, নিদেনপক্ষে কিছু সময়ের জন্য হলেও সুদহারের সীমা তুলে দেওয়া দরকার। কারণ একটা আলোচনা উঠেছে যে, কিছু লোক ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ডলার কিনে রাখছেন। কারণ সুদহারের চেয়ে ডলারের দাম বাড়ছে বেশি। এ কারণে বিনিময় হারের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা রোধ করা যাচ্ছে না বলে মনে করেন ব্র্যাক ব্যাংকের এই চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, সরকারের বিদেশি ঋণ ৭০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। প্রতি ডলারের দাম ২৬ টাকা বেড়েছে। ফলে সরকারকে বৈদেশিক ঋণ বাবদ এক লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা বাড়তি পরিশোধ করতে হবে। আর বেসরকারি খাতের বৈদেশিক ঋণ ২৫ বিলিয়ন ডলার। তাতে বাড়তি যাবে ৬৫ হাজার কোটি টাকা।
অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধকার সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, সার্বিক পরিস্থিতিতে সুদহারের সীমা তুলে দেওয়ার যথেষ্ট যৌক্তিকতা রয়েছে। তিনি বলেন, সীমা তুলে দেওয়া সম্ভব না হলে অন্তত কিছুদিনের জন্য সুদহার বাড়িয়ে দেওয়া উচিত। তিনি বলেন, টাকা পাচার হচ্ছে কিনা, সেটা দেখা দরকার। রপ্তানি বাড়লে আমদানি বাড়বে। তবে আমদানি বেড়ে ৯০ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। রপ্তানি সে অনুযায়ী বাড়েনি। ফলে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা দরকার।
পিডব্লিউসি বাংলাদেশের ম্যানেজিং পার্টনার মামুন রশিদ বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) টানা বেশ কঠিন। এফডিআইর জন্য বাংলাদেশকে সংস্কার কার্যক্রমে যেতে হবে।




































