০৮:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

হাতিরঝিল থানায় তরুণের মৃত্যু: পুলিশের বিরুদ্ধে মরদেহ না দেওয়ার অভিযোগ

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ০৫:২০:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ অগাস্ট ২০২২
  • / ১০৩৩৭ বার দেখা হয়েছে

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: রাজধানীর হাতিরঝিল থানা পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় মৃত্যু হওয়া যুবক সুমন শেখের (২৬) মরদেহ পুলিশ দিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। স্বজনরা রোববার সকালে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে মরদেহটি নিতে গেলে পুলিশ মরদেহ দিতে রাজি হয়নি।

সুমন শেখের স্ত্রী জান্নাত অভিযোগ করে, মরদেহ আনতে গিয়েছিলো মর্গে। কিন্তু পুলিশ মরদেহ দেয়নি। তারা বলছে, মরদেহ যদি ঢাকার নবাবগঞ্জের বক্তনগর গ্রামের বাড়ি নেওয়া হয়, তাহলে দেওয়া হবে। কিন্তু পশ্চিম রামপুরার বাসায় নেওয়া হলে দেওয়া হবে না।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

রামপুরার বাসায় মরদেহটি নেওয়া হলে স্থানীয় ও স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেই আশঙ্কা থেকেই পুলিশ মরদেহ দিতে চাচ্ছে না বলে অভিযোগ স্বজনদের। এবার মরদেহ না পেয়ে আদালতে মামলা করতে গেছে সুমনের স্বজনরা।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার একেএম হাফিজ আক্তার বলে, আমি তেজগাঁও-এর ডিসির (ডেপুটি পুলিশ কমিশনার) সঙ্গে কথা বলেছি। ওরা কেউ মরদেহ নিতে আসেনি। মরদেহ কেন দেওয়া হবে না। ওরা আদালতে গিয়ে বসে আছে।

সুমনকে চুরির মামলায় গ্রেপ্তার করে থানার হাজতখানায় রেখেছিল পুলিশ। শনিবার সেখান থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ওইদিন তার স্বজন ও এলাকাবাসী হাতিরঝিল থানার সামনে বিক্ষোভ করে।

পুলিশ বলছে, সুমন হাজতখানার লোহার গ্রিলের সঙ্গে গলায় পরনের প্যান্ট পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে আত্মহননের দৃশ্য স্পষ্ট। স্বজনদের অভিযোগ, পুলিশের দায়িত্ব অবহেলার কারণে সুমনের মৃত্যু হয়েছে। যথাযথ দায়িত্ব পালন করলে তিনি গলায় ফাঁস দেওয়ার সুযোগ পেতো না ।

এ ঘটনায় হাতিরঝিল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হেমায়েত হোসেন ও কনস্টেবল শেখ জাকারিয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পুলিশের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, থানায় যেসব পুলিশ সদস্য ডিউটি করে, তাদের হাজতখানায় আসামি দেখভাল করার কথা। আসামি ভেতরে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটাচ্ছে কি-না, সেটিও দেখার দায়িত্ব তাদের।

সুমনের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সুমনের নাম আসলে সুমন না, রুমন। তার বড় ভাইয়ের নাম সুমন শেখ। রুমনের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) না হওয়ায় ভাইয়ের এনআইডি দিয়ে চাকরি নিয়েছিলো। ওই থেকে রুমন হয়ে যায় সুমন। অফিস এমনকি এখন থানায়ও সুমন শেখই লেখা হচ্ছে।

সুমনের স্বজনরা জানায়, তার বাসা পশ্চিম রামপুরার ওয়াপদা রোডে। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলো। স্ত্রী জান্নাত ও সাত বছরের ছেলেকে নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করতো। গত বছরে তার মা মারা গেছে। শুক্রবার বিকেলে মায়ের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ওয়াপদা রোডের বাসায় মিলাদ মাহফিলের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলো সুমন। বিকেল ৪টার দিকে হাতিরঝিল থানা পুলিশ চুরি মামলায় তাকে বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে।

ঢাকা/এসএ

শেয়ার করুন

হাতিরঝিল থানায় তরুণের মৃত্যু: পুলিশের বিরুদ্ধে মরদেহ না দেওয়ার অভিযোগ

আপডেট: ০৫:২০:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ অগাস্ট ২০২২

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: রাজধানীর হাতিরঝিল থানা পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় মৃত্যু হওয়া যুবক সুমন শেখের (২৬) মরদেহ পুলিশ দিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। স্বজনরা রোববার সকালে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে মরদেহটি নিতে গেলে পুলিশ মরদেহ দিতে রাজি হয়নি।

সুমন শেখের স্ত্রী জান্নাত অভিযোগ করে, মরদেহ আনতে গিয়েছিলো মর্গে। কিন্তু পুলিশ মরদেহ দেয়নি। তারা বলছে, মরদেহ যদি ঢাকার নবাবগঞ্জের বক্তনগর গ্রামের বাড়ি নেওয়া হয়, তাহলে দেওয়া হবে। কিন্তু পশ্চিম রামপুরার বাসায় নেওয়া হলে দেওয়া হবে না।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

রামপুরার বাসায় মরদেহটি নেওয়া হলে স্থানীয় ও স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেই আশঙ্কা থেকেই পুলিশ মরদেহ দিতে চাচ্ছে না বলে অভিযোগ স্বজনদের। এবার মরদেহ না পেয়ে আদালতে মামলা করতে গেছে সুমনের স্বজনরা।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার একেএম হাফিজ আক্তার বলে, আমি তেজগাঁও-এর ডিসির (ডেপুটি পুলিশ কমিশনার) সঙ্গে কথা বলেছি। ওরা কেউ মরদেহ নিতে আসেনি। মরদেহ কেন দেওয়া হবে না। ওরা আদালতে গিয়ে বসে আছে।

সুমনকে চুরির মামলায় গ্রেপ্তার করে থানার হাজতখানায় রেখেছিল পুলিশ। শনিবার সেখান থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ওইদিন তার স্বজন ও এলাকাবাসী হাতিরঝিল থানার সামনে বিক্ষোভ করে।

পুলিশ বলছে, সুমন হাজতখানার লোহার গ্রিলের সঙ্গে গলায় পরনের প্যান্ট পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে আত্মহননের দৃশ্য স্পষ্ট। স্বজনদের অভিযোগ, পুলিশের দায়িত্ব অবহেলার কারণে সুমনের মৃত্যু হয়েছে। যথাযথ দায়িত্ব পালন করলে তিনি গলায় ফাঁস দেওয়ার সুযোগ পেতো না ।

এ ঘটনায় হাতিরঝিল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হেমায়েত হোসেন ও কনস্টেবল শেখ জাকারিয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পুলিশের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, থানায় যেসব পুলিশ সদস্য ডিউটি করে, তাদের হাজতখানায় আসামি দেখভাল করার কথা। আসামি ভেতরে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটাচ্ছে কি-না, সেটিও দেখার দায়িত্ব তাদের।

সুমনের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সুমনের নাম আসলে সুমন না, রুমন। তার বড় ভাইয়ের নাম সুমন শেখ। রুমনের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) না হওয়ায় ভাইয়ের এনআইডি দিয়ে চাকরি নিয়েছিলো। ওই থেকে রুমন হয়ে যায় সুমন। অফিস এমনকি এখন থানায়ও সুমন শেখই লেখা হচ্ছে।

সুমনের স্বজনরা জানায়, তার বাসা পশ্চিম রামপুরার ওয়াপদা রোডে। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলো। স্ত্রী জান্নাত ও সাত বছরের ছেলেকে নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করতো। গত বছরে তার মা মারা গেছে। শুক্রবার বিকেলে মায়ের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ওয়াপদা রোডের বাসায় মিলাদ মাহফিলের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলো সুমন। বিকেল ৪টার দিকে হাতিরঝিল থানা পুলিশ চুরি মামলায় তাকে বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে।

ঢাকা/এসএ