০৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬

৫৯০ কোটি টাকা জমা দিল পাঁচ ইসলামি ব্যাংক

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ১২:৩৮:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২২
  • / ১০৪০৪ বার দেখা হয়েছে

ফাইল ফটো

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: দেশের শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলো ঋণ নেওয়ার বদলে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংককে ৫৯০ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। ‘ইসলামিক ব্যাংক তারল্য সুবিধা’ প্রবর্তনের পর তৃতীয় দিনে তারা এই অর্থ পরিশোধ করে। এর ফলে তারল্য সহায়তা হিসেবে তাদের নেওয়া নিট ঋণের পরিমাণ কমে চার হাজার ৬৫৭ কোটি টাকায় দাঁড়ালো।

প্রথম দুই দিনে পাঁচটি ঋণদাতা ব্যাংক যথাক্রমে- ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পাঁচ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা ঋণ নেয়।

শরিয়াহ-সম্মত ব্যাংকগুলোকে ১৪ দিনের স্বল্পমেয়াদী তারল্য সহায়তা প্রদান করার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেওয়া উদ্যোগের আওতায় তারা এই ঋণ গ্রহণ করে।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার তিন হাজার ৯৯৫ কোটি টাকা এবং বুধবার এক হাজার ২৫২ কোটি টাকা ধার করা হয়েছিল, যেখানে ইসলামী ব্যাংক সর্বোচ্চ ঋণগ্রহীতা ছিল।

ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, আমানত উত্তোলনের কারণে বেশ কয়েকটি ইসলামী ব্যাংক এখনও তারল্যতার চাপে ভুগছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ঋণ গ্রহণ করেছেন এমন একটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের ট্রেজারি প্রধান দেশের একটি জাতীয় দৈনিককে বলেন, “গত কয়েকদিনে আমাদের ব্যাংক থেকে কিছু কর্পোরেট আমানত তুলে নেওয়া হয়েছে, যার ফলে আমাদের তারল্য দ্রুত হ্রাস পেয়েছে। বিপরীতে, অনেক গ্রাহক ছোট আকারের নতুন আমানত জমা করেছেন। “

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, “গ্রাহকদের আরো ভালো পরিষেবা দেওয়ার জন্য আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি। আমাদের শাখা নেটওয়ার্কগুলো ভালো সেবা প্রদান করছে। “

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি ব্যাংকের একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, “কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তায় কিছু ইসলামী ব্যাংক তাদের সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য সাধারণ ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদী ঋণ খুঁজছে। বিশেষ করে যাদের তারল্যের অবস্থা ভালো, তাদের কাছ থেকে কমপক্ষে তিন মাসের জন্য ঋণ চাইছে। “

তবে সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিরা জানিয়েছেন, সব ইসলামী ব্যাংক তারল্য সংকটে নেই। বরং কয়েকটি ব্যাংক অন্যান্য ব্যাংককে ঋণ দেওয়ার মতো ভালো অবস্থানে রয়েছে।

শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেছেন, “আমাদের কাছে তিন হাজার ২০০ কোটি টাকার উদ্বৃত্ত তারল্য রয়েছে, যে কারণে আমাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তার প্রয়োজন নেই। এছাড়াও, আমরা সাম্প্রতিক সময়ে অন্যান্য ব্যাঙ্কগুলোকে স্বল্পমেয়াদে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন ঋণ প্রদান করেছি”।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলো স্বল্পমেয়াদী ঋণের জন্য মূলত ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের ওপর নির্ভর করতো। তবে বৃহত্তম এই ইসলামী ব্যাংকটিতে সাম্প্রতিক তারল্য সংকট তাদের সমস্যায় ফেলেছে।

আরও পড়ুন: দশ বছরে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ বেড়েছে ২৩৮ শতাংশ

সোমবার ইসলামী ব্যাংকগুলোর জন্য তারল্য সুবিধা চালুর আগে শরিয়াহ-ভিত্তিক ব্যাংকগুলো একে অপরের কাছ থেকে ঋণও নিয়েছিল।

বর্তমানে, দেশের ৬১টি ব্যাংকের মধ্যে ১০টি শরিয়াহ অনুযায়ী কাজ করছে। ব্যাংকগুলো হলো- ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক এবং এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক।

ঢাকা/এসএ

শেয়ার করুন

৫৯০ কোটি টাকা জমা দিল পাঁচ ইসলামি ব্যাংক

আপডেট: ১২:৩৮:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২২

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: দেশের শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলো ঋণ নেওয়ার বদলে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংককে ৫৯০ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। ‘ইসলামিক ব্যাংক তারল্য সুবিধা’ প্রবর্তনের পর তৃতীয় দিনে তারা এই অর্থ পরিশোধ করে। এর ফলে তারল্য সহায়তা হিসেবে তাদের নেওয়া নিট ঋণের পরিমাণ কমে চার হাজার ৬৫৭ কোটি টাকায় দাঁড়ালো।

প্রথম দুই দিনে পাঁচটি ঋণদাতা ব্যাংক যথাক্রমে- ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পাঁচ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা ঋণ নেয়।

শরিয়াহ-সম্মত ব্যাংকগুলোকে ১৪ দিনের স্বল্পমেয়াদী তারল্য সহায়তা প্রদান করার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেওয়া উদ্যোগের আওতায় তারা এই ঋণ গ্রহণ করে।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার তিন হাজার ৯৯৫ কোটি টাকা এবং বুধবার এক হাজার ২৫২ কোটি টাকা ধার করা হয়েছিল, যেখানে ইসলামী ব্যাংক সর্বোচ্চ ঋণগ্রহীতা ছিল।

ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, আমানত উত্তোলনের কারণে বেশ কয়েকটি ইসলামী ব্যাংক এখনও তারল্যতার চাপে ভুগছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ঋণ গ্রহণ করেছেন এমন একটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের ট্রেজারি প্রধান দেশের একটি জাতীয় দৈনিককে বলেন, “গত কয়েকদিনে আমাদের ব্যাংক থেকে কিছু কর্পোরেট আমানত তুলে নেওয়া হয়েছে, যার ফলে আমাদের তারল্য দ্রুত হ্রাস পেয়েছে। বিপরীতে, অনেক গ্রাহক ছোট আকারের নতুন আমানত জমা করেছেন। “

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, “গ্রাহকদের আরো ভালো পরিষেবা দেওয়ার জন্য আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি। আমাদের শাখা নেটওয়ার্কগুলো ভালো সেবা প্রদান করছে। “

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি ব্যাংকের একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, “কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তায় কিছু ইসলামী ব্যাংক তাদের সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য সাধারণ ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদী ঋণ খুঁজছে। বিশেষ করে যাদের তারল্যের অবস্থা ভালো, তাদের কাছ থেকে কমপক্ষে তিন মাসের জন্য ঋণ চাইছে। “

তবে সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিরা জানিয়েছেন, সব ইসলামী ব্যাংক তারল্য সংকটে নেই। বরং কয়েকটি ব্যাংক অন্যান্য ব্যাংককে ঋণ দেওয়ার মতো ভালো অবস্থানে রয়েছে।

শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেছেন, “আমাদের কাছে তিন হাজার ২০০ কোটি টাকার উদ্বৃত্ত তারল্য রয়েছে, যে কারণে আমাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তার প্রয়োজন নেই। এছাড়াও, আমরা সাম্প্রতিক সময়ে অন্যান্য ব্যাঙ্কগুলোকে স্বল্পমেয়াদে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন ঋণ প্রদান করেছি”।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলো স্বল্পমেয়াদী ঋণের জন্য মূলত ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের ওপর নির্ভর করতো। তবে বৃহত্তম এই ইসলামী ব্যাংকটিতে সাম্প্রতিক তারল্য সংকট তাদের সমস্যায় ফেলেছে।

আরও পড়ুন: দশ বছরে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ বেড়েছে ২৩৮ শতাংশ

সোমবার ইসলামী ব্যাংকগুলোর জন্য তারল্য সুবিধা চালুর আগে শরিয়াহ-ভিত্তিক ব্যাংকগুলো একে অপরের কাছ থেকে ঋণও নিয়েছিল।

বর্তমানে, দেশের ৬১টি ব্যাংকের মধ্যে ১০টি শরিয়াহ অনুযায়ী কাজ করছে। ব্যাংকগুলো হলো- ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক এবং এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক।

ঢাকা/এসএ