০৩:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

জুয়ায় মোবাইল হেরে এক যুগ আত্মগোপনে ছেলে

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ১১:৩৯:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ মে ২০২২
  • / ১০৩৫৫ বার দেখা হয়েছে

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: এক যুগ আগে হঠাৎ একদিন উধাও হয়ে যায় সে। আদরের ছোট সন্তানকে ফিরে পেতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন প্রাইভেট কার চালক মোজাফফর। সন্তান অপহরণ হয়েছে সন্দেহে মামলা করেছিলেন পল্লবী থানায়। সেই মামলা পুলিশ, ডিবি, সিআইডি ও পিবিআইতে ঘুরেছে।

মামলা চালাতে বাবার খরচ হয়েছে কয়েক লাখ টাকা। অবশেষে ঈদের দিনে একটি ফোনকলের সূত্র ধরেই সুমনের সন্ধান করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই। সোমবার সন্ধ্যায় সুমনকে রাজধানীর কদমতলী এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

এরপর পিবিআই অফিসে দেখা হয় বাবা-ছেলের। এক যুগ পর ছেলেকে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বাবা মোজাফফর। আনন্দাশ্রু ঝরতে থাকে তার দুই চোখে। তবে সুমন নিজের অপরাধবোধ এবং ভয় থেকে বাবার চোখে চোখ তুলে তাকাতে পারছিলেন না। এমনটাই জানিয়েছে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরের ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম। পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরের বিশেষ পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে সুমন পিবিআইকে জানিয়েছে, ঘটনার দিন মিরপুর ১১ নম্বর বাজার এলাকায় চার রাস্তার মোড়ে ৩ তাসের জুয়ার খেলায় ১০০ টাকা ধরে হেরে যায় সে।

এরপর তার কাছে থাকা মোবাইল ফোনটি রেখে দেয় জুয়াড়িরা। বাবাকে খুব ভয় পেতো সুমন। বাসায় গিযে বাবাকে কি সদুত্তর দেবে এই ভয়ে সে বাসায় না গিয়ে মিরপুর থেকে গুলিস্তানে চলে যায়। এরপর থেকে শুরু হয় তার সংগ্রামী জীবন। শাহবাগ ফুলমার্কেট, চটপটির দোকান, নগরীর বিভিন্ন হোটেলে কাজ করা, পপকর্ন বিক্রি, বাসের হেলপারি, একোরিয়ামের দোকানে চাকরি করে। একজন গাড়ি চালকের সঙ্গে ইউসেফ টেকনিক্যাল স্কুল ও বারডেম হাসপাতালের যাত্রী আনানেয়ার কাজ করত সে। ইউসেফ স্কুলের জোনাকি নামের একটি মেয়ের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তারপর জোনাকির মা জোসনার সঙ্গে প্রেম করে ৩ বছর আগে লালবাগ কাজী অফিসে বিয়ে করে সে। বিশেষ পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অনেক পরিবারে বাবা-মাকে সন্তানরা অতিরিক্ত ভয় পায়। এই ভয় নানা ধরনের বিপদের কারণ হতে পারে। সন্তানের সঙ্গে বন্ধুসুলভ আচরণ এবং পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান তিনি।

পিবিআই জানায়, অপহরণ নয়, বাবার ভয়ে আত্মগোপনে ছিল সুমন। সে বিয়ে করে সংসারও পাতে। তার তিন মাসের একটি পুত্র সন্তানও রয়েছে। গত ঈদের দিনে ছোট বেলার খেলার সাথী চাচাতো ভাই সাগরের সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছে করে সুমনের। সে তার স্ত্রী জোসনাকে দিয়ে বাবার নম্বরে ফোন করায় সাগরের নম্বরটি সংগ্রহের জন্য। জোসনা নিজেকে সোহাগী পরিচয় দিয়ে সুমনের বাবা মোজাফফরকে বলেন, আপনার ছেলে সুমন কোথায় আছে আমি জানি। যাকে সে বিয়ে করেছে আমি তার বড় বোন। আপনি আপনার ভাতিজা সাগরের নম্বরটি আমাকে দেন। তার সঙ্গে কথা বলব।

কিন্তু সুমনের বাবা সাগরের ফোন নম্বর না দিয়ে ফোন কেটে দেন। তিনি যোগাযোগ করেন পিবিআইর সঙ্গে। সেই ফোনকলের সূত্র ধরে ঈদের দিন থেকে কাজ শুরু করে পিবিআই। তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারে সুমনের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে পিবিআই গত সোমবার আদালতে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করার আবেদন করে। আদালতের নির্দেশে মামলা পুনরুজ্জীবিত হলে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সুমনকে কদমতলী থানাধীন মদিনাবাগ এলাকা থেকে উদ্ধার করে পিবিআই। ১৭ বছর বয়সে নিখোঁজ হওয়া সুমনের বয়স এখন ২৯ বছর। সে জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, কদমতলী এলাকায় স্ত্রী জোসনাকে নিয়ে বসবাস করছিল। রিকশা চালিয়ে জীবনযাপন করছিল। তার আড়াই বছরের একটি পুত্র সন্তানও রয়েছে।

এদিকে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর সুমনকে তার বাবার জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। সুমনের বাবা মোজাফফর শুকরিয়া আদায় করে যুগান্তরকে বলেন, ছেলে, বউমা এবং নাতিকে নিয়ে একসঙ্গেই থাকব।

ঢাকা/এসএ

শেয়ার করুন

জুয়ায় মোবাইল হেরে এক যুগ আত্মগোপনে ছেলে

আপডেট: ১১:৩৯:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ মে ২০২২

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: এক যুগ আগে হঠাৎ একদিন উধাও হয়ে যায় সে। আদরের ছোট সন্তানকে ফিরে পেতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন প্রাইভেট কার চালক মোজাফফর। সন্তান অপহরণ হয়েছে সন্দেহে মামলা করেছিলেন পল্লবী থানায়। সেই মামলা পুলিশ, ডিবি, সিআইডি ও পিবিআইতে ঘুরেছে।

মামলা চালাতে বাবার খরচ হয়েছে কয়েক লাখ টাকা। অবশেষে ঈদের দিনে একটি ফোনকলের সূত্র ধরেই সুমনের সন্ধান করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই। সোমবার সন্ধ্যায় সুমনকে রাজধানীর কদমতলী এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

এরপর পিবিআই অফিসে দেখা হয় বাবা-ছেলের। এক যুগ পর ছেলেকে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বাবা মোজাফফর। আনন্দাশ্রু ঝরতে থাকে তার দুই চোখে। তবে সুমন নিজের অপরাধবোধ এবং ভয় থেকে বাবার চোখে চোখ তুলে তাকাতে পারছিলেন না। এমনটাই জানিয়েছে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরের ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম। পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরের বিশেষ পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে সুমন পিবিআইকে জানিয়েছে, ঘটনার দিন মিরপুর ১১ নম্বর বাজার এলাকায় চার রাস্তার মোড়ে ৩ তাসের জুয়ার খেলায় ১০০ টাকা ধরে হেরে যায় সে।

এরপর তার কাছে থাকা মোবাইল ফোনটি রেখে দেয় জুয়াড়িরা। বাবাকে খুব ভয় পেতো সুমন। বাসায় গিযে বাবাকে কি সদুত্তর দেবে এই ভয়ে সে বাসায় না গিয়ে মিরপুর থেকে গুলিস্তানে চলে যায়। এরপর থেকে শুরু হয় তার সংগ্রামী জীবন। শাহবাগ ফুলমার্কেট, চটপটির দোকান, নগরীর বিভিন্ন হোটেলে কাজ করা, পপকর্ন বিক্রি, বাসের হেলপারি, একোরিয়ামের দোকানে চাকরি করে। একজন গাড়ি চালকের সঙ্গে ইউসেফ টেকনিক্যাল স্কুল ও বারডেম হাসপাতালের যাত্রী আনানেয়ার কাজ করত সে। ইউসেফ স্কুলের জোনাকি নামের একটি মেয়ের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তারপর জোনাকির মা জোসনার সঙ্গে প্রেম করে ৩ বছর আগে লালবাগ কাজী অফিসে বিয়ে করে সে। বিশেষ পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অনেক পরিবারে বাবা-মাকে সন্তানরা অতিরিক্ত ভয় পায়। এই ভয় নানা ধরনের বিপদের কারণ হতে পারে। সন্তানের সঙ্গে বন্ধুসুলভ আচরণ এবং পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান তিনি।

পিবিআই জানায়, অপহরণ নয়, বাবার ভয়ে আত্মগোপনে ছিল সুমন। সে বিয়ে করে সংসারও পাতে। তার তিন মাসের একটি পুত্র সন্তানও রয়েছে। গত ঈদের দিনে ছোট বেলার খেলার সাথী চাচাতো ভাই সাগরের সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছে করে সুমনের। সে তার স্ত্রী জোসনাকে দিয়ে বাবার নম্বরে ফোন করায় সাগরের নম্বরটি সংগ্রহের জন্য। জোসনা নিজেকে সোহাগী পরিচয় দিয়ে সুমনের বাবা মোজাফফরকে বলেন, আপনার ছেলে সুমন কোথায় আছে আমি জানি। যাকে সে বিয়ে করেছে আমি তার বড় বোন। আপনি আপনার ভাতিজা সাগরের নম্বরটি আমাকে দেন। তার সঙ্গে কথা বলব।

কিন্তু সুমনের বাবা সাগরের ফোন নম্বর না দিয়ে ফোন কেটে দেন। তিনি যোগাযোগ করেন পিবিআইর সঙ্গে। সেই ফোনকলের সূত্র ধরে ঈদের দিন থেকে কাজ শুরু করে পিবিআই। তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারে সুমনের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে পিবিআই গত সোমবার আদালতে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করার আবেদন করে। আদালতের নির্দেশে মামলা পুনরুজ্জীবিত হলে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সুমনকে কদমতলী থানাধীন মদিনাবাগ এলাকা থেকে উদ্ধার করে পিবিআই। ১৭ বছর বয়সে নিখোঁজ হওয়া সুমনের বয়স এখন ২৯ বছর। সে জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, কদমতলী এলাকায় স্ত্রী জোসনাকে নিয়ে বসবাস করছিল। রিকশা চালিয়ে জীবনযাপন করছিল। তার আড়াই বছরের একটি পুত্র সন্তানও রয়েছে।

এদিকে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর সুমনকে তার বাবার জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। সুমনের বাবা মোজাফফর শুকরিয়া আদায় করে যুগান্তরকে বলেন, ছেলে, বউমা এবং নাতিকে নিয়ে একসঙ্গেই থাকব।

ঢাকা/এসএ