১২:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

ডায়না হত্যার মাস্টারমাইন্ড লাদেন গ্রেফতার

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ০৬:১৮:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ অগাস্ট ২০২২
  • / ১০৩৪৯ বার দেখা হয়েছে

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: যাত্রাবাড়ীর গোলাপবাগে রূপান্তরকামী নারী মাকসুদুর রহমান ডায়না হত্যা মামলায় শোয়েব আক্তার লাদেন নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।তাকে গ্রেফতারের পর এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের কথা জানিয়েছে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ।

বুধবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার জিয়াউল আহসান তালুকদার বলেন, ২৭ আগস্ট বিকালে রাজধানীর ওয়ারীর গোলাপবাগের একতলা বাড়ির ভিতরে কক্ষ থেকে ডায়নার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সোমবার শেরপুরের নালিতাবাড়ি থেকে শোয়েব আক্তার লাদেনকে গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন লাদেন। 

ডায়না তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ ছিলেন। তার ছয় ভাই-বোন এবং সবাই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। ডায়নার নিজেরও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ছিল। তবে গত দুই বছর তিনি যাত্রাবাড়ীর গোলাপবাগে একটি ভাড়া বাসায় থাকছিলেন। 

হত্যাকাণ্ডের কারণ তুলে ধরে জিয়াউল আহসান বলেন, লাদেন ডায়নার বাসায় কাজ করতেন। অর্থের বিনিময়ে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কও হতো। হত্যাকাণ্ডের কিছু দিন আগে লাদেন বিয়ে করেন। বিয়ের পরও তাদের মধ্যে যৌনতা চলতো। একদিকে লাদেনের বিয়ে ও নতুন জীবনসঙ্গীকে ডায়না মেনে নিতে পারছিলেন না। অন্যদিকে লাদেন চাচ্ছিলেন সম্পর্ক শেষ করে মুক্ত জীবনে ফিরতে। কিন্তু আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী ডায়না লাদেনকে ছাড়তেন না। তিনি লাদেনের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

জিয়াউল আহসান বলেন, আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী ডায়না ছাড়তে চাইছিলেন না লাদেনকে। শারীরিক সম্পর্ক চালিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি লাদেনকে অর্থ দিতেন। লাদেন বলেছেন, অতিষ্ঠ হয়ে তিনি ১৬ আগস্ট হাতুড়ি দিয়ে ডায়নার মাথায় আর হাঁটুতে আঘাত করেন। রক্তাক্ত ডায়না অচেতন হয়ে পড়লে লাদেন বাড়ির বন্ধ ফটক না খুলে টপকে পালিয়ে যান।

প্রসঙ্গত, গত ২৭ আগস্ট গোলাপবাগের ওই বাসা থেকে ডায়নার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। একতলা ওই বাড়িতে তিনি একাই থাকতেন। দেশে থাকা ডায়নার ফুপাতো ভাই তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে পুলিশে খবর দিলে, পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। 

পুলিশ বলছে, ডায়নার বাড়ির দেয়াল অনেকটা উঁচু হওয়ায় এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ না থাকায় তার মরদেহ ঘরের ভেতরেই পড়ে ছিল, আশপাশের কেউ বিষয়টি টের পায়নি।

আরো পড়ুন: ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা: গ্রেপ্তার বাবা

ঢাকা/এসএ

শেয়ার করুন

ডায়না হত্যার মাস্টারমাইন্ড লাদেন গ্রেফতার

আপডেট: ০৬:১৮:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ অগাস্ট ২০২২

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: যাত্রাবাড়ীর গোলাপবাগে রূপান্তরকামী নারী মাকসুদুর রহমান ডায়না হত্যা মামলায় শোয়েব আক্তার লাদেন নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।তাকে গ্রেফতারের পর এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের কথা জানিয়েছে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ।

বুধবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার জিয়াউল আহসান তালুকদার বলেন, ২৭ আগস্ট বিকালে রাজধানীর ওয়ারীর গোলাপবাগের একতলা বাড়ির ভিতরে কক্ষ থেকে ডায়নার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সোমবার শেরপুরের নালিতাবাড়ি থেকে শোয়েব আক্তার লাদেনকে গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন লাদেন। 

ডায়না তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ ছিলেন। তার ছয় ভাই-বোন এবং সবাই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। ডায়নার নিজেরও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ছিল। তবে গত দুই বছর তিনি যাত্রাবাড়ীর গোলাপবাগে একটি ভাড়া বাসায় থাকছিলেন। 

হত্যাকাণ্ডের কারণ তুলে ধরে জিয়াউল আহসান বলেন, লাদেন ডায়নার বাসায় কাজ করতেন। অর্থের বিনিময়ে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কও হতো। হত্যাকাণ্ডের কিছু দিন আগে লাদেন বিয়ে করেন। বিয়ের পরও তাদের মধ্যে যৌনতা চলতো। একদিকে লাদেনের বিয়ে ও নতুন জীবনসঙ্গীকে ডায়না মেনে নিতে পারছিলেন না। অন্যদিকে লাদেন চাচ্ছিলেন সম্পর্ক শেষ করে মুক্ত জীবনে ফিরতে। কিন্তু আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী ডায়না লাদেনকে ছাড়তেন না। তিনি লাদেনের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

জিয়াউল আহসান বলেন, আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী ডায়না ছাড়তে চাইছিলেন না লাদেনকে। শারীরিক সম্পর্ক চালিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি লাদেনকে অর্থ দিতেন। লাদেন বলেছেন, অতিষ্ঠ হয়ে তিনি ১৬ আগস্ট হাতুড়ি দিয়ে ডায়নার মাথায় আর হাঁটুতে আঘাত করেন। রক্তাক্ত ডায়না অচেতন হয়ে পড়লে লাদেন বাড়ির বন্ধ ফটক না খুলে টপকে পালিয়ে যান।

প্রসঙ্গত, গত ২৭ আগস্ট গোলাপবাগের ওই বাসা থেকে ডায়নার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। একতলা ওই বাড়িতে তিনি একাই থাকতেন। দেশে থাকা ডায়নার ফুপাতো ভাই তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে পুলিশে খবর দিলে, পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। 

পুলিশ বলছে, ডায়নার বাড়ির দেয়াল অনেকটা উঁচু হওয়ায় এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ না থাকায় তার মরদেহ ঘরের ভেতরেই পড়ে ছিল, আশপাশের কেউ বিষয়টি টের পায়নি।

আরো পড়ুন: ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা: গ্রেপ্তার বাবা

ঢাকা/এসএ