০৩:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

বিয়েতে অপরাধ হয়নি, নাসির-তামিমা খালাস

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ০২:৫৪:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
  • / ১০১৭৪ বার দেখা হয়েছে

আইনিভাবে বিচ্ছেদের আগেই নতুন করে বিয়ে করার অভিযোগে দায়ের করা আলোচিত মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মি।বুধবার (১০ জুন) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় নাসির ও তামিমা উভয়ই আদালতে হাজির ছিলেন।অভিযোগ প্রমাণিত হলে নাসিরের সর্বোচ্চ সাত বছরের এবং তামিমার সর্বোচ্চ ২১ বছরের কারাদণ্ড হতে পারতো। তবে আদালতের বিচারে তারা দুইজনেই নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন।

রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির আলাদা ধারায় আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের এই মামলা থেকে খালাস দেওয়া হলো।আদালত সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গত ছয় মে উভয় পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শুনানি শেষ হয়। ওই দিন শুনানিতে বাদিপক্ষের আইনজীবী ইশরাত হাসান আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা চেয়ে প্রার্থনা করেছিলেন। অন্যদিকে নাসির ও তামিমার আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু তাদের নির্দোষ দাবি করে খালাসের আবেদন জানান। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত রায়ের জন্য বুধবার ধার্য করেছিলেন।

মামলায় বলা হয়, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমার সঙ্গে রাকিব হোসেনের বিয়ে হয়। তাদের আট বছরের একটি মেয়েও রয়েছে। কিন্তু রাকিবের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক চলমান থাকা অবস্থায় ২০২০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তামিমা ও নাসির বিয়ে করেন।২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তামিমা ও ক্রিকেটার নাসির হোসেনের বিয়ের ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে তা রাকিবের নজরে আসে। এরপর ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে তিনি এই মামলা দায়ের করেন।সে বছর ৩০ সেপ্টেম্বর নাসির, তামিমা ও তার মা সুমি আক্তারকে আসামি করে আদালতে প্রতিবেদন দেন তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মিজানুর রহমান।

২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে নাসির ও তামিমার বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত। তবে নাসিরের শাশুড়ি সুমি আক্তারকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।বছরের ছয় মার্চ মহানগর দায়রা আদালতে নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন করেন তাদের আইনজীবী। অন্যদিকে সুমি আক্তারকে অব্যাহতির আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন দায়ের করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী।

২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি দুটো আবেদনই আদালতে নাকচ হয়ে যায়। ফলে নাসির-তামিমার বিরুদ্ধে মামলা চলতে আইনি বাধা কাটে। সে বছর ২০ মার্চ বাদি রাকিবের সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার শুরু হয়।২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। সব মিলিয়ে ১০ জনের সাক্ষ্য শোনে আদালত। এরপর গত ১০ মার্চ আসামিদের আত্মপক্ষ শুনানি হয়। শুনানিতে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার চান।

গত ৩০ মার্চ নিজের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন সাউদিয়া এয়ারলাইন্সের সাবেক বিমানবালা তামিমা। তিনি দাবি করেন, ‘সাংসারিক এবং মানসিক বনিবনা’ না হওয়ায় আগের স্বামী রাকিবকে তালাক দিয়ে বৈধভাবেই তিনি ক্রিকেটার নাসিরকে বিয়ে করেন।ক্রিকেটার নাসির হোসেনের বিরুদ্ধে আলাদা দুই ধারায় এবং তামিমার বিরুদ্ধে আলাদা তিন ধারায় অভিযোগ গঠন করে এ মামলার বিচার চলে।২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তামিমা সুলতানা তাম্মির সাবেক স্বামী রাকিব হাসান বাদি হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজ আদালত এই রায় দিলেন।

ঢাকা/আরএইচ

 

শেয়ার করুন

বিয়েতে অপরাধ হয়নি, নাসির-তামিমা খালাস

আপডেট: ০২:৫৪:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আইনিভাবে বিচ্ছেদের আগেই নতুন করে বিয়ে করার অভিযোগে দায়ের করা আলোচিত মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মি।বুধবার (১০ জুন) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় নাসির ও তামিমা উভয়ই আদালতে হাজির ছিলেন।অভিযোগ প্রমাণিত হলে নাসিরের সর্বোচ্চ সাত বছরের এবং তামিমার সর্বোচ্চ ২১ বছরের কারাদণ্ড হতে পারতো। তবে আদালতের বিচারে তারা দুইজনেই নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন।

রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির আলাদা ধারায় আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের এই মামলা থেকে খালাস দেওয়া হলো।আদালত সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গত ছয় মে উভয় পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শুনানি শেষ হয়। ওই দিন শুনানিতে বাদিপক্ষের আইনজীবী ইশরাত হাসান আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা চেয়ে প্রার্থনা করেছিলেন। অন্যদিকে নাসির ও তামিমার আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু তাদের নির্দোষ দাবি করে খালাসের আবেদন জানান। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত রায়ের জন্য বুধবার ধার্য করেছিলেন।

মামলায় বলা হয়, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমার সঙ্গে রাকিব হোসেনের বিয়ে হয়। তাদের আট বছরের একটি মেয়েও রয়েছে। কিন্তু রাকিবের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক চলমান থাকা অবস্থায় ২০২০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তামিমা ও নাসির বিয়ে করেন।২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তামিমা ও ক্রিকেটার নাসির হোসেনের বিয়ের ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে তা রাকিবের নজরে আসে। এরপর ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে তিনি এই মামলা দায়ের করেন।সে বছর ৩০ সেপ্টেম্বর নাসির, তামিমা ও তার মা সুমি আক্তারকে আসামি করে আদালতে প্রতিবেদন দেন তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মিজানুর রহমান।

২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে নাসির ও তামিমার বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত। তবে নাসিরের শাশুড়ি সুমি আক্তারকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।বছরের ছয় মার্চ মহানগর দায়রা আদালতে নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন করেন তাদের আইনজীবী। অন্যদিকে সুমি আক্তারকে অব্যাহতির আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন দায়ের করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী।

২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি দুটো আবেদনই আদালতে নাকচ হয়ে যায়। ফলে নাসির-তামিমার বিরুদ্ধে মামলা চলতে আইনি বাধা কাটে। সে বছর ২০ মার্চ বাদি রাকিবের সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার শুরু হয়।২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। সব মিলিয়ে ১০ জনের সাক্ষ্য শোনে আদালত। এরপর গত ১০ মার্চ আসামিদের আত্মপক্ষ শুনানি হয়। শুনানিতে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার চান।

গত ৩০ মার্চ নিজের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন সাউদিয়া এয়ারলাইন্সের সাবেক বিমানবালা তামিমা। তিনি দাবি করেন, ‘সাংসারিক এবং মানসিক বনিবনা’ না হওয়ায় আগের স্বামী রাকিবকে তালাক দিয়ে বৈধভাবেই তিনি ক্রিকেটার নাসিরকে বিয়ে করেন।ক্রিকেটার নাসির হোসেনের বিরুদ্ধে আলাদা দুই ধারায় এবং তামিমার বিরুদ্ধে আলাদা তিন ধারায় অভিযোগ গঠন করে এ মামলার বিচার চলে।২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তামিমা সুলতানা তাম্মির সাবেক স্বামী রাকিব হাসান বাদি হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজ আদালত এই রায় দিলেন।

ঢাকা/আরএইচ