১১:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

রাষ্ট্রপতির আলোচনায় এগিয়ে মির্জা ফখরুল

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ১০:২৬:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
  • / ১০১৭২ বার দেখা হয়েছে

গত শুক্রবার দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। ফলে সর্বত্রই এখন আলোচনা- কে হচ্ছেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি; কে বসতে যাচ্ছেন বঙ্গভবনে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মানিত ব্যক্তির আসনে! ঘুরে-ফিরে বিএনপির কয়েকজন শীর্ষ নেতার নাম আলোচিত হলেও এ মুহূর্তে সর্বাধিক আলোচিত ব্যক্তিটি হলেন প্রাজ্ঞ রাজনীতিক বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বর্তমানে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্যতা এবং সার্বিক সমীকরণে দল ও দলের বাইরে পছন্দের শীর্ষে তার নাম।

সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা ও দূরদর্শিতা, দল ও রাষ্ট্র পরিচালনায় দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং ভারসাম্যপূর্ণ নেতৃত্ব মির্জা ফখরুলকে এ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। যে কারণে বিএনপিরও একটি বড় অংশ তাকে রাষ্ট্রপতি করার পক্ষে। এ ছাড়া সংকটকালে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে একজন দক্ষ ও বিতর্কহীন রাষ্ট্রপতির গুরুত্ব অপরিসীম। সেই মানদণ্ডে বনেদি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শুধু বিএনপিরই প্রথম পছন্দ নয়; বরং সাধারণ মানুষের কাছেও এক আস্থার নাম। বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দেড় যুগের বেশি সময় পর বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে। এখন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব চাইবে এমন একজনকে রাষ্ট্রপতি করতে, যিনি রাষ্ট্রের সংকটময় মুহূর্তে শক্ত হাতে হাল ধরতে পারবেন এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবেন। কেননা, দেশের যে কোনো সংকটকালে রাষ্ট্রপতিকে অভিভাবকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হয়। মির্জা ফখরুল সেটি পারবেন বলেই সংশ্লিষ্টদের মত। সার্বিক বিবেচনায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই হচ্ছেন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিএনপি মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দলের কঠিন সময়ে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রাম থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দলের বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালনে তার ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। তার সুচিন্তিত বক্তব্য ও শান্ত রাজনৈতিক কৌশল দলমত নির্বিশেষে রাজনৈতিক মহলে তাকে একটি বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা দিয়েছে। এ ছাড়া দেশের ভেতরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তার সমন্বয়ক ভূমিকা অনস্বীকার্য। তবে মির্জা ফখরুলের ব্যক্তিত্ব, অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা তাকে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক অভিভাবকের পদে সম্ভাব্য বিবেচনায় শীর্ষ সারিতে রেখেছে।

২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মো. সাহাবুদ্দিন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে। এরই মধ্যে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে এবং দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমূল বদলে যায়। সংসদ ভেঙে দেওয়া এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ রাজনৈতিক পালাবদলের মধ্যেও রাষ্ট্রপতি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) পদত্যাগ করলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

তিন কারণে রাষ্ট্রপতির আলোচনায় এগিয়ে মির্জা ফখরুল: দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং বর্তমান পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি করার যৌক্তিকতা নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। তার মধ্যে অন্যতম তিনটি কারণে এগিয়ে আছেন তিনি। জানা গেছে, মির্জা ফখরুলের প্রত্যাশা ছিল—ফ্যাসিবাদ আমলে নির্যাতনের শিকার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, বর্তমানে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়া। এসবের তিনটিই প্রত্যক্ষ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেই পরিপ্রেক্ষিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ আলংকারিক ও মর্যাদাপূর্ণ পদ ‘রাষ্ট্রপতি’ হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম আসাটা সর্বমহলেই প্রত্যাশিত। এর পেছনে মূলত তার রাজনৈতিক ত্যাগ, পরিচ্ছন্ন ইমেজ এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা কাজ করছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বিএনপিতে বিশ্বস্ততা ও দুঃসময়ের কান্ডারি হিসেবে মির্জা ফখরুল অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একজন ‘সাদামাটা ও সজ্জন’ রাজনীতিবিদ হিসেবে সমধিক পরিচিত। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ আজ পর্যন্ত মেলেনি। শুধু তা-ই নয়, রাজনৈতিক বিতর্কে শালীনতা বজায় রাখা এবং মার্জিত আচরণের জন্য তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের কাছেও সমানভাবে শ্রদ্ধেয়। বিশেষ করে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপির চরম দুঃসময়ে দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন মির্জা ফখরুল।

তৎকালীন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি এবং বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রবাস জীবনে থেকে অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখে নেতৃত্ব দিয়েছেন মির্জা ফখরুল। শত শত মামলা, হামলা ও কারাবরণ সত্ত্বেও জিয়া পরিবারের প্রতি তার অবিচল আনুগত্য এবং সাংগঠনিক কর্মতৎপরতা তাকে নেতাকর্মীদের কাছে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। টানা বহু বছর প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দলের জাতীয় রাজনীতি সামলানোর কারণে শীর্ষ পদের জন্য তাকে একজন যোগ্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করেন অনেক নেতাকর্মী ও সমর্থক। রাষ্ট্রপতির মতো আলংকারিক ও নিরপেক্ষ ভারসাম্য বজায় রাখার পদের জন্য তার মেজাজ ও ব্যক্তিত্ব মানানসই বলে মনে করেন অনেকে।

এ ছাড়া রাজনৈতিক অঙ্গনে মির্জা ফখরুলের রয়েছে সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা। যেহেতু রাষ্ট্রপতি পদটি কোনো একক দলের নয়, বরং তা রাষ্ট্রের। তিনি তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় প্রমাণ করেছেন, তিনি উগ্রবাদের বিরোধী এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতিতে বিশ্বাসী। সেইসঙ্গে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষা এবং সুশীল সমাজের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক তাকে একজন ‘গার্ডিয়ান ফিগার’ হিসেবে উপস্থাপন করে। আন্তর্জাতিকভাবে কূটনৈতিক মহলেও তার আলাদা গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, যা নতুন সরকারের জন্য বৈশ্বিক সম্পর্ক উন্নয়নে সহায়ক হবে।

১৯৪৮ সালে ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম নেওয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রয়েছে বর্ণাঢ্য পারিবারিক ইতিহাস। তার বাবা মরহুম রুহুল আমিন (চখা মিয়া) ছিলেন কৃষি প্রতিমন্ত্রী। তার বড় চাচা মির্জা গোলাম হাফিজ ১৯৭৮ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত ভূমিমন্ত্রী এবং ১৯৭৯ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত দ্বিতীয় জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন।

ঢাকা/এসআর

শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির আলোচনায় এগিয়ে মির্জা ফখরুল

আপডেট: ১০:২৬:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

গত শুক্রবার দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। ফলে সর্বত্রই এখন আলোচনা- কে হচ্ছেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি; কে বসতে যাচ্ছেন বঙ্গভবনে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মানিত ব্যক্তির আসনে! ঘুরে-ফিরে বিএনপির কয়েকজন শীর্ষ নেতার নাম আলোচিত হলেও এ মুহূর্তে সর্বাধিক আলোচিত ব্যক্তিটি হলেন প্রাজ্ঞ রাজনীতিক বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বর্তমানে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্যতা এবং সার্বিক সমীকরণে দল ও দলের বাইরে পছন্দের শীর্ষে তার নাম।

সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা ও দূরদর্শিতা, দল ও রাষ্ট্র পরিচালনায় দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং ভারসাম্যপূর্ণ নেতৃত্ব মির্জা ফখরুলকে এ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। যে কারণে বিএনপিরও একটি বড় অংশ তাকে রাষ্ট্রপতি করার পক্ষে। এ ছাড়া সংকটকালে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে একজন দক্ষ ও বিতর্কহীন রাষ্ট্রপতির গুরুত্ব অপরিসীম। সেই মানদণ্ডে বনেদি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শুধু বিএনপিরই প্রথম পছন্দ নয়; বরং সাধারণ মানুষের কাছেও এক আস্থার নাম। বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দেড় যুগের বেশি সময় পর বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে। এখন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব চাইবে এমন একজনকে রাষ্ট্রপতি করতে, যিনি রাষ্ট্রের সংকটময় মুহূর্তে শক্ত হাতে হাল ধরতে পারবেন এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবেন। কেননা, দেশের যে কোনো সংকটকালে রাষ্ট্রপতিকে অভিভাবকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হয়। মির্জা ফখরুল সেটি পারবেন বলেই সংশ্লিষ্টদের মত। সার্বিক বিবেচনায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই হচ্ছেন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিএনপি মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দলের কঠিন সময়ে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রাম থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দলের বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালনে তার ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। তার সুচিন্তিত বক্তব্য ও শান্ত রাজনৈতিক কৌশল দলমত নির্বিশেষে রাজনৈতিক মহলে তাকে একটি বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা দিয়েছে। এ ছাড়া দেশের ভেতরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তার সমন্বয়ক ভূমিকা অনস্বীকার্য। তবে মির্জা ফখরুলের ব্যক্তিত্ব, অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা তাকে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক অভিভাবকের পদে সম্ভাব্য বিবেচনায় শীর্ষ সারিতে রেখেছে।

২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মো. সাহাবুদ্দিন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে। এরই মধ্যে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে এবং দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমূল বদলে যায়। সংসদ ভেঙে দেওয়া এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ রাজনৈতিক পালাবদলের মধ্যেও রাষ্ট্রপতি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) পদত্যাগ করলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

তিন কারণে রাষ্ট্রপতির আলোচনায় এগিয়ে মির্জা ফখরুল: দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং বর্তমান পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি করার যৌক্তিকতা নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। তার মধ্যে অন্যতম তিনটি কারণে এগিয়ে আছেন তিনি। জানা গেছে, মির্জা ফখরুলের প্রত্যাশা ছিল—ফ্যাসিবাদ আমলে নির্যাতনের শিকার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, বর্তমানে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়া। এসবের তিনটিই প্রত্যক্ষ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেই পরিপ্রেক্ষিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ আলংকারিক ও মর্যাদাপূর্ণ পদ ‘রাষ্ট্রপতি’ হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম আসাটা সর্বমহলেই প্রত্যাশিত। এর পেছনে মূলত তার রাজনৈতিক ত্যাগ, পরিচ্ছন্ন ইমেজ এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা কাজ করছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বিএনপিতে বিশ্বস্ততা ও দুঃসময়ের কান্ডারি হিসেবে মির্জা ফখরুল অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একজন ‘সাদামাটা ও সজ্জন’ রাজনীতিবিদ হিসেবে সমধিক পরিচিত। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ আজ পর্যন্ত মেলেনি। শুধু তা-ই নয়, রাজনৈতিক বিতর্কে শালীনতা বজায় রাখা এবং মার্জিত আচরণের জন্য তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের কাছেও সমানভাবে শ্রদ্ধেয়। বিশেষ করে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপির চরম দুঃসময়ে দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন মির্জা ফখরুল।

তৎকালীন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি এবং বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রবাস জীবনে থেকে অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখে নেতৃত্ব দিয়েছেন মির্জা ফখরুল। শত শত মামলা, হামলা ও কারাবরণ সত্ত্বেও জিয়া পরিবারের প্রতি তার অবিচল আনুগত্য এবং সাংগঠনিক কর্মতৎপরতা তাকে নেতাকর্মীদের কাছে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। টানা বহু বছর প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দলের জাতীয় রাজনীতি সামলানোর কারণে শীর্ষ পদের জন্য তাকে একজন যোগ্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করেন অনেক নেতাকর্মী ও সমর্থক। রাষ্ট্রপতির মতো আলংকারিক ও নিরপেক্ষ ভারসাম্য বজায় রাখার পদের জন্য তার মেজাজ ও ব্যক্তিত্ব মানানসই বলে মনে করেন অনেকে।

এ ছাড়া রাজনৈতিক অঙ্গনে মির্জা ফখরুলের রয়েছে সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা। যেহেতু রাষ্ট্রপতি পদটি কোনো একক দলের নয়, বরং তা রাষ্ট্রের। তিনি তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় প্রমাণ করেছেন, তিনি উগ্রবাদের বিরোধী এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতিতে বিশ্বাসী। সেইসঙ্গে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষা এবং সুশীল সমাজের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক তাকে একজন ‘গার্ডিয়ান ফিগার’ হিসেবে উপস্থাপন করে। আন্তর্জাতিকভাবে কূটনৈতিক মহলেও তার আলাদা গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, যা নতুন সরকারের জন্য বৈশ্বিক সম্পর্ক উন্নয়নে সহায়ক হবে।

১৯৪৮ সালে ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম নেওয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রয়েছে বর্ণাঢ্য পারিবারিক ইতিহাস। তার বাবা মরহুম রুহুল আমিন (চখা মিয়া) ছিলেন কৃষি প্রতিমন্ত্রী। তার বড় চাচা মির্জা গোলাম হাফিজ ১৯৭৮ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত ভূমিমন্ত্রী এবং ১৯৭৯ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত দ্বিতীয় জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন।

ঢাকা/এসআর