০৪:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ধাক্কা, কমেছে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ১১:৩৪:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১০২২৪ বার দেখা হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বড় ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত। চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে রফতানি কমেছে প্রায় সাড়ে ৮ শতাংশ। মার্কিন শুল্ক নীতির কারণে চীন ও ভারতের রফতানি কমে গেলেও ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার প্রবৃদ্ধি দেশের রফতানিকারকদের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। উদ্যোক্তাদের দাবি, অভ্যন্তরীণ জটিলতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রয়াদেশ পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতি ঘুরে দাঁড়ানোর পথকে আরও কঠিন করে তুলছে।

দেশে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বৈশ্বিক বাজারে মার্কিন কূটনৈতিক চাপের মধ্যেই চলতি বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানি কমেছে। অটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ ১৩৭ কোটি ডলারের পোশাক রফতানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় সাড়ে ৮ শতাংশ কম। একই সময়ে চীন ও ভারতের রফতানি কমলেও ভিয়েতনামে প্রায় ৩ শতাংশ এবং ইন্দোনেশিয়ায় ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

নেক্সাস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. রশিদ আহমেদ হোসাইনী বলেন, রফতানি বাড়াতে তাদের সরকার যুগোপযোগী পদক্ষেপ নিচ্ছে, কিন্তু বাংলাদেশে সেই তুলনায় নীতিগত পরিবর্তন খুব ধীর। আমরা অনেকটা অনুকরণনির্ভর, আমাদের আইন ও নীতিতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসছে না।

জ্বালানি সংকট, ঈদের ছুটিসহ টানা ছুটির কারণে গত দুই মাসেও উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। পাশাপাশি শুল্কচাপ, ক্রেতাদের ব্যয় সংকোচন, বন্দর জট ও শিপমেন্ট সমস্যায় বড় বাধার মুখে পড়েছে রফতানি কার্যক্রম। এসব কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের হিস্যা কমছে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা।

এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় বৈশ্বিক বাজারের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে, যা রফতানি খাতের পুনরুদ্ধারের পথে বড় বাধা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, সোর্সিং এককেন্দ্রিক না রেখে বৈচিত্র্য আনতে হবে। ভবিষ্যতে আমাদের নিজস্ব সক্ষমতা বাড়াতে হবে, বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সোলার এনার্জিতে গুরুত্ব দিতে হবে। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন অনিশ্চয়তা।

সরবরাহে বৈশ্বিক বাধার মধ্যে রফতানিমুখী শিল্পে অভ্যন্তরীণ সহায়তা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবির বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংককে একটি বিশেষ প্যাকেজ তৈরি করতে হবে, যেখানে স্বল্প সুদে ঋণ, সফট লোন এবং প্রয়োজন হলে রিশিডিউলিং সুবিধা থাকবে। বিশেষ করে সংকটকালীন সময়ে এসব উদ্যোগ জরুরি।

অটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ১১৭০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় সাড়ে ১৩ শতাংশ কম।

ঢাকা/এসএইচ

শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ধাক্কা, কমেছে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি

আপডেট: ১১:৩৪:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বড় ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত। চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে রফতানি কমেছে প্রায় সাড়ে ৮ শতাংশ। মার্কিন শুল্ক নীতির কারণে চীন ও ভারতের রফতানি কমে গেলেও ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার প্রবৃদ্ধি দেশের রফতানিকারকদের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। উদ্যোক্তাদের দাবি, অভ্যন্তরীণ জটিলতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রয়াদেশ পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতি ঘুরে দাঁড়ানোর পথকে আরও কঠিন করে তুলছে।

দেশে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বৈশ্বিক বাজারে মার্কিন কূটনৈতিক চাপের মধ্যেই চলতি বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানি কমেছে। অটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ ১৩৭ কোটি ডলারের পোশাক রফতানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় সাড়ে ৮ শতাংশ কম। একই সময়ে চীন ও ভারতের রফতানি কমলেও ভিয়েতনামে প্রায় ৩ শতাংশ এবং ইন্দোনেশিয়ায় ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

নেক্সাস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. রশিদ আহমেদ হোসাইনী বলেন, রফতানি বাড়াতে তাদের সরকার যুগোপযোগী পদক্ষেপ নিচ্ছে, কিন্তু বাংলাদেশে সেই তুলনায় নীতিগত পরিবর্তন খুব ধীর। আমরা অনেকটা অনুকরণনির্ভর, আমাদের আইন ও নীতিতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসছে না।

জ্বালানি সংকট, ঈদের ছুটিসহ টানা ছুটির কারণে গত দুই মাসেও উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। পাশাপাশি শুল্কচাপ, ক্রেতাদের ব্যয় সংকোচন, বন্দর জট ও শিপমেন্ট সমস্যায় বড় বাধার মুখে পড়েছে রফতানি কার্যক্রম। এসব কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের হিস্যা কমছে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা।

এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় বৈশ্বিক বাজারের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে, যা রফতানি খাতের পুনরুদ্ধারের পথে বড় বাধা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, সোর্সিং এককেন্দ্রিক না রেখে বৈচিত্র্য আনতে হবে। ভবিষ্যতে আমাদের নিজস্ব সক্ষমতা বাড়াতে হবে, বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সোলার এনার্জিতে গুরুত্ব দিতে হবে। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন অনিশ্চয়তা।

সরবরাহে বৈশ্বিক বাধার মধ্যে রফতানিমুখী শিল্পে অভ্যন্তরীণ সহায়তা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবির বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংককে একটি বিশেষ প্যাকেজ তৈরি করতে হবে, যেখানে স্বল্প সুদে ঋণ, সফট লোন এবং প্রয়োজন হলে রিশিডিউলিং সুবিধা থাকবে। বিশেষ করে সংকটকালীন সময়ে এসব উদ্যোগ জরুরি।

অটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ১১৭০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় সাড়ে ১৩ শতাংশ কম।

ঢাকা/এসএইচ