২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৩ লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট অনুমোদন
- আপডেট: ০৩:১৭:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
- / ১০১৯২ বার দেখা হয়েছে
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রায় তিন লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)।
সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনইসি সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সভায় উন্নয়ন পরিকল্পনা, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, সামাজিক সুরক্ষা এবং আঞ্চলিক ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের এডিপির মোট আকার ধরা হয়েছে ৩ লাখ কোটি টাকা।
এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার অর্থায়ন যুক্ত হলে মোট ব্যয় ৩ লাখ ৮ হাজার ৯২৪ কোটি টাকার বেশি হবে।
খাতভিত্তিক বরাদ্দে সবচেয়ে বেশি অর্থ পাচ্ছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাত, যা ৫০ হাজার ৯২ কোটি টাকা। এরপর শিক্ষা খাতে ৪৭ হাজার ৫৯১ কোটি, স্বাস্থ্য খাতে ৩৫ হাজার ৫৩৫ কোটি এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৩২ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগ এককভাবে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ পেয়েছে ৩৩ হাজার ৭৩৫ কোটি টাকা। এরপর সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ পেয়েছে ৩০ হাজার ৭৪১ কোটি টাকা।
এবারের এডিপির একটি বড় অংশ থোক বরাদ্দ হিসেবে রাখা হয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা। এই অংশ নিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সামাজিক সুরক্ষা খাতে বিশেষ বরাদ্দের মধ্যে পরিবার কার্ড কর্মসূচির জন্য ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, কৃষক কার্ডে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ের কর্মীদের সম্মানীর জন্য ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা রাখা হয়েছে।
মোট ১ হাজার ১২১টি প্রকল্প এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু প্রকল্প চলতি অর্থবছরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
তবে বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ৩৬.১৯ শতাংশ। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়নের অগ্রগতি তুলনামূলকভাবে কম।
সভায় প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়ানো, আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ প্রকল্প দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সরকারের আশা, এই উন্নয়ন কর্মসূচি দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও বৈষম্য কমাতে ভূমিকা রাখবে।
ঢাকা/এসএইচ





































