০৮:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬

বিতর্কিত গ্রুপে বিনিয়োগে লোকসান ও খেলাপি ঋণের জালে ডাচ-বাংলা ব্যাংক: পর্ব-২

বিশেষ প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ০১:১২:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১০২৫৫ বার দেখা হয়েছে

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বেসরকারি ব্যাংক ডাচ-বাংলা ব্যাংক পিএলসি-কে ঘিরে একের পর এক উদ্বেগজনক তথ্য সামনে আসছে। খেলাপি ঋণ, বিতর্কিত গ্রুপে অদক্ষ বিনিয়োগে বিশাল অংক লোকসান, গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাৎ, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের নামে প্রতারণার অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা এবং নানা অনিয়মের প্রেক্ষাপটে ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থান নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর প্রশ্ন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আর্থিক সূচকগুলোর অবনতির ধারাবাহিকতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনলে আমানতকারীদের আস্থায় বড় ধস নামতে পারে।

অভিযোগের সত্যতা অনুসন্ধানে যাবতীয় তথ্য বিশ্লেষন শুরু করে ‘বিজনেস জার্নাল’-এর অনুসন্ধানী দল। অনুসন্ধানকালে ওঠে এসেছে গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাৎ, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের নামে প্রতারণার অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা এবং নানা অনিয়মের প্রেক্ষাপটে ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন। এরই ধারাবাহিকতায় বিজনেস জার্নালের করা আট পর্বের বিশেষ প্রতিবেদনের অংশ হিসেবে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের আর্থিক বিতর্কিত বিনিয়োগ ও খেলাপি ঋণ নিয়ে করা প্রতিবেদনের দ্বিতীয় পর্ব আজ প্রকাশিত হলো।

কোম্পানি সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রথম নয় মাসে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৫৮২ কোটি ৪০ লাখ ৪৭ হাজার ৮৫৫ টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের প্রায় ১৩ শতাংশ। ব্যাংকিং খাতের প্রচলিত মানদণ্ড অনুযায়ী, খেলাপি ঋণ ৫ শতাংশ অতিক্রম করলেই সেটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়। সেই বিবেচনায় ১৩ শতাংশ খেলাপি ঋণ একটি গুরুতর লাল সংকেত।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল ঋণ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার ইঙ্গিতই নয়, বরং ঝুঁকি মূল্যায়ন ও মনিটরিং ব্যবস্থায় কাঠামোগত ঘাটতিরও প্রমাণ বহন করে। এভাবে খেলাপি ঋণ বাড়তে থাকলে ব্যাংকটির প্রভিশনিং চাপ বৃদ্ধি পাবে, মুনাফা কমে যাবে এবং তারল্য সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

এর মধ্যেই বিতর্কিত বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা দক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। ডাচ-বাংলা ব্যাংক বেক্সিমকো গ্রুপ-এর বেক্সিমকো গ্রিন সুকুক আল ইসতিসনায় ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। বর্তমানে সেই বিনিয়োগের বাজারমূল্য নেমে এসেছে ৬০ কোটি ৫০ লাখ টাকায়। অর্থাৎ, ৩৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা বা ৩৯.৫০ শতাংশ লোকসান হয়েছে। গ্রুপটির কর্ণধার সালমান এফ রহমান দীর্ঘদিন ধরে নানা বিতর্ক ও আইনি জটিলতায় আলোচিত।

এমন একটি প্রেক্ষাপটে ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া কতটা যৌক্তিক ছিল—তা নিয়ে খাত সংশ্লিষ্টদের মধ্যে তীব্র প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, যথাযথ ডিউ ডিলিজেন্স ও ঝুঁকি বিশ্লেষণ ছাড়া এত বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করা হলে তা আমানতকারী ও শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থের পরিপন্থী।

পুঁজিবাজারে ব্যাংকটির এক্সপোজারও কম উদ্বেগজনক নয়। ২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৬০৬ কোটি ৫৩ লাখ ৬৩ হাজার ২৯৬ টাকা। কিন্তু একই সময়ে এসব বিনিয়োগের বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ৫২৭ কোটি ৮৮ লাখ ২৩৭ টাকায়। ফলে আনরিয়েলাইজড লোকসান হয়েছে ৭৮ কোটি ৬৫ লাখ ৬৩ হাজার ৫৯ টাকা, যা প্রায় ১৩ শতাংশ। ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন ৯৬৬ কোটি ৭০ লাখ ১০ হাজার টাকা- সে তুলনায় পুঁজিবাজারে উচ্চমাত্রার ঝুঁকি গ্রহণ ও লোকসান ব্যবস্থাপনার বিচক্ষণতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিশ্লেষকরা।

উল্লেখ্য, উদ্যোক্তা ও পরিচালক ব্যতীত সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মালিকানা রয়েছে ১৬.৪৪ শতাংশ, অর্থাৎ জনসাধারণের অর্থ সরাসরি এই ঝুঁকির সঙ্গে জড়িত।

এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে ব্যাংকের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) শহিদ উল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জনসংযোগ কর্মকর্তা সগির আহমেদের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। পরবর্তীতে জনসংযোগ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেও এর কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের উপদেষ্টা মিজানুর রশীদ চৌধুরী বলেন, “ডাচ-বাংলা ব্যাংক পিএলসি-এর বর্তমান আর্থিক চিত্র ভয়ংকর ও উদ্বেগজনক। খেলাপি ঋণ ১৩ শতাংশে পৌঁছানো মানে হচ্ছে ব্যবস্থাপনার চরম ব্যর্থতা। কোনো ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৫ শতাংশ পার হলেই সেটি লাল সংকেত হিসেবে বিবেচিত হয়। সেখানে ১৩ শতাংশ- এটা কোনো সাধারণ বিচ্যুতি নয়, এটা কাঠামোগত সংকটের ইঙ্গিত।”

তিনি আরও বলেন, “বিতর্কিত গ্রুপে শতকোটি টাকা বিনিয়োগ করে ৩৯ শতাংশ লোকসান করা হয়েছে। এটি বিনিয়োগ দক্ষতার প্রশ্ন নয়, এটি দায়বদ্ধতার প্রশ্ন। আমানতকারীদের ঘামঝরা টাকা নিয়ে এমন ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত কে নিয়েছে, কার স্বার্থে নিয়েছে- তা প্রকাশ করতে হবে। প্রয়োজন হলে স্বাধীন ফরেনসিক অডিট করতে হবে।”

তার ভাষায়, “ব্যবস্থাপনার নীরবতা পরিস্থিতিকে আরও সন্দেহজনক করে তুলছে। প্রশ্নের জবাব না দেওয়া মানে দায় এড়িয়ে যাওয়া। একটি তালিকাভুক্ত ব্যাংক জনগণের অর্থ দিয়ে চলে- এটি কারও ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান নয়। আমানতকারীদের টাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনতেই হবে।”

তিনি নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা অবিলম্বে বিশেষ নিরীক্ষা, ঝুঁকি মূল্যায়ন ও পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার দাবি জানাচ্ছি। দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় না আনলে ব্যাংক খাতে আস্থার সংকট আরও গভীর হবে।” (চলবে…)

বিজনেস জার্নাল/ঢাকা/এইচকে

শেয়ার করুন

বিতর্কিত গ্রুপে বিনিয়োগে লোকসান ও খেলাপি ঋণের জালে ডাচ-বাংলা ব্যাংক: পর্ব-২

আপডেট: ০১:১২:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বেসরকারি ব্যাংক ডাচ-বাংলা ব্যাংক পিএলসি-কে ঘিরে একের পর এক উদ্বেগজনক তথ্য সামনে আসছে। খেলাপি ঋণ, বিতর্কিত গ্রুপে অদক্ষ বিনিয়োগে বিশাল অংক লোকসান, গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাৎ, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের নামে প্রতারণার অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা এবং নানা অনিয়মের প্রেক্ষাপটে ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থান নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর প্রশ্ন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আর্থিক সূচকগুলোর অবনতির ধারাবাহিকতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনলে আমানতকারীদের আস্থায় বড় ধস নামতে পারে।

অভিযোগের সত্যতা অনুসন্ধানে যাবতীয় তথ্য বিশ্লেষন শুরু করে ‘বিজনেস জার্নাল’-এর অনুসন্ধানী দল। অনুসন্ধানকালে ওঠে এসেছে গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাৎ, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের নামে প্রতারণার অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা এবং নানা অনিয়মের প্রেক্ষাপটে ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন। এরই ধারাবাহিকতায় বিজনেস জার্নালের করা আট পর্বের বিশেষ প্রতিবেদনের অংশ হিসেবে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের আর্থিক বিতর্কিত বিনিয়োগ ও খেলাপি ঋণ নিয়ে করা প্রতিবেদনের দ্বিতীয় পর্ব আজ প্রকাশিত হলো।

কোম্পানি সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রথম নয় মাসে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৫৮২ কোটি ৪০ লাখ ৪৭ হাজার ৮৫৫ টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের প্রায় ১৩ শতাংশ। ব্যাংকিং খাতের প্রচলিত মানদণ্ড অনুযায়ী, খেলাপি ঋণ ৫ শতাংশ অতিক্রম করলেই সেটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়। সেই বিবেচনায় ১৩ শতাংশ খেলাপি ঋণ একটি গুরুতর লাল সংকেত।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল ঋণ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার ইঙ্গিতই নয়, বরং ঝুঁকি মূল্যায়ন ও মনিটরিং ব্যবস্থায় কাঠামোগত ঘাটতিরও প্রমাণ বহন করে। এভাবে খেলাপি ঋণ বাড়তে থাকলে ব্যাংকটির প্রভিশনিং চাপ বৃদ্ধি পাবে, মুনাফা কমে যাবে এবং তারল্য সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

এর মধ্যেই বিতর্কিত বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা দক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। ডাচ-বাংলা ব্যাংক বেক্সিমকো গ্রুপ-এর বেক্সিমকো গ্রিন সুকুক আল ইসতিসনায় ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। বর্তমানে সেই বিনিয়োগের বাজারমূল্য নেমে এসেছে ৬০ কোটি ৫০ লাখ টাকায়। অর্থাৎ, ৩৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা বা ৩৯.৫০ শতাংশ লোকসান হয়েছে। গ্রুপটির কর্ণধার সালমান এফ রহমান দীর্ঘদিন ধরে নানা বিতর্ক ও আইনি জটিলতায় আলোচিত।

এমন একটি প্রেক্ষাপটে ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া কতটা যৌক্তিক ছিল—তা নিয়ে খাত সংশ্লিষ্টদের মধ্যে তীব্র প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, যথাযথ ডিউ ডিলিজেন্স ও ঝুঁকি বিশ্লেষণ ছাড়া এত বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করা হলে তা আমানতকারী ও শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থের পরিপন্থী।

পুঁজিবাজারে ব্যাংকটির এক্সপোজারও কম উদ্বেগজনক নয়। ২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৬০৬ কোটি ৫৩ লাখ ৬৩ হাজার ২৯৬ টাকা। কিন্তু একই সময়ে এসব বিনিয়োগের বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ৫২৭ কোটি ৮৮ লাখ ২৩৭ টাকায়। ফলে আনরিয়েলাইজড লোকসান হয়েছে ৭৮ কোটি ৬৫ লাখ ৬৩ হাজার ৫৯ টাকা, যা প্রায় ১৩ শতাংশ। ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন ৯৬৬ কোটি ৭০ লাখ ১০ হাজার টাকা- সে তুলনায় পুঁজিবাজারে উচ্চমাত্রার ঝুঁকি গ্রহণ ও লোকসান ব্যবস্থাপনার বিচক্ষণতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিশ্লেষকরা।

উল্লেখ্য, উদ্যোক্তা ও পরিচালক ব্যতীত সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মালিকানা রয়েছে ১৬.৪৪ শতাংশ, অর্থাৎ জনসাধারণের অর্থ সরাসরি এই ঝুঁকির সঙ্গে জড়িত।

এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে ব্যাংকের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) শহিদ উল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জনসংযোগ কর্মকর্তা সগির আহমেদের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। পরবর্তীতে জনসংযোগ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেও এর কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের উপদেষ্টা মিজানুর রশীদ চৌধুরী বলেন, “ডাচ-বাংলা ব্যাংক পিএলসি-এর বর্তমান আর্থিক চিত্র ভয়ংকর ও উদ্বেগজনক। খেলাপি ঋণ ১৩ শতাংশে পৌঁছানো মানে হচ্ছে ব্যবস্থাপনার চরম ব্যর্থতা। কোনো ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৫ শতাংশ পার হলেই সেটি লাল সংকেত হিসেবে বিবেচিত হয়। সেখানে ১৩ শতাংশ- এটা কোনো সাধারণ বিচ্যুতি নয়, এটা কাঠামোগত সংকটের ইঙ্গিত।”

তিনি আরও বলেন, “বিতর্কিত গ্রুপে শতকোটি টাকা বিনিয়োগ করে ৩৯ শতাংশ লোকসান করা হয়েছে। এটি বিনিয়োগ দক্ষতার প্রশ্ন নয়, এটি দায়বদ্ধতার প্রশ্ন। আমানতকারীদের ঘামঝরা টাকা নিয়ে এমন ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত কে নিয়েছে, কার স্বার্থে নিয়েছে- তা প্রকাশ করতে হবে। প্রয়োজন হলে স্বাধীন ফরেনসিক অডিট করতে হবে।”

তার ভাষায়, “ব্যবস্থাপনার নীরবতা পরিস্থিতিকে আরও সন্দেহজনক করে তুলছে। প্রশ্নের জবাব না দেওয়া মানে দায় এড়িয়ে যাওয়া। একটি তালিকাভুক্ত ব্যাংক জনগণের অর্থ দিয়ে চলে- এটি কারও ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান নয়। আমানতকারীদের টাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনতেই হবে।”

তিনি নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা অবিলম্বে বিশেষ নিরীক্ষা, ঝুঁকি মূল্যায়ন ও পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার দাবি জানাচ্ছি। দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় না আনলে ব্যাংক খাতে আস্থার সংকট আরও গভীর হবে।” (চলবে…)

বিজনেস জার্নাল/ঢাকা/এইচকে