কর্মসংস্থান না বাড়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার দুর্বল হয়ে পড়েছে: বিশ্বব্যাংক
- আপডেট: ০২:২৩:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
- / ১০১৯৫ বার দেখা হয়েছে
বাংলাদেশে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও সেই অনুপাতে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি না হওয়ায় শ্রমবাজার দুর্বল হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
সোমবার (১৮ মে) পিআরআই ও বিশ্বব্যাংক আয়োজিত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট শীর্ষক সেমিনারে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে দেশে প্রায় ১৪ লাখ নতুন মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে চলে গেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল প্রায় ৮ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০২২ সালের পর থেকে মূল্যস্ফীতি ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে।
সংস্থাটি বলছে, পণ্য পরিবহনে উচ্চ ব্যয়, আমদানি ও বাজারজাতকরণ খরচ, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য এবং জ্বালানি ব্যয় বাড়ার কারণে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসছে না। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে।
বিশ্বব্যাংকের পর্যবেক্ষণে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের সম্ভাব্য জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়াতে পারে ৩ দশমিক ৯ শতাংশে। একই সঙ্গে গত ৩৫ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো বেসরকারি বিনিয়োগ কমেছে। সরকারি খাতে ঋণ বাড়ার কারণে বেসরকারি খাত পর্যাপ্ত ঋণ সুবিধা পাচ্ছে না।
তথ্য অনুযায়ী, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারিতে কমে ৬ শতাংশে নেমেছে, যা আগের অর্থবছরের জানুয়ারিতে ছিল ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। যদিও নীতিগত সুদের হার ইতিবাচক রয়েছে, তবে দীর্ঘ সময়ের উচ্চ মূল্যস্ফীতি নীতি নির্ধারণে চাপ তৈরি করছে।
ব্যাংকিং খাত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি জানায়, ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত ২২টি ব্যাংক মূলধন ঘাটতিতে রয়েছে, যাদের হাতে পুরো ব্যাংকিং খাতের মোট সম্পদের ৪৭ শতাংশ রয়েছে।
রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রেও দুর্বলতার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। ২০২৫ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। কর-জিডিপি অনুপাত কমে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৯ শতাংশে। যদিও ২০২৬ অর্থবছরে তা সামান্য বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া সরকারি ঋণও বেড়েছে। সরকারি ঋণ-জিডিপি অনুপাত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ থাকলেও তা বেড়ে ৩৯ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
ঢাকা/এসএইচ




































