১২:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

বড় লক্ষ্য নিয়ে তারেক রহমানের সরকারের প্রথম বাজেট পেশ আজ, গুরুত্ব পাচ্ছে যেসব বিষয়

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ১০:৩৮:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
  • / ১০১৭৫ বার দেখা হয়েছে

প্রায় দুই দশক পর জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করতে যাচ্ছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। গত ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট এটি। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এ বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

এ বাজেটকে দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত দলিল হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রস্তাবিত এ বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা হতে পারে বলে জানিয়েছে সরকারি বার্তা সংস্থা বাসস। এটিই হবে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট এবং সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার পূরণের চাপ থেকেই বাজেটের আকার এত বড় হচ্ছে বলে আভাস দিয়েছে অর্থবিভাগ।আলোচিত বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে সম্ভাব্য বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।

এর আগে ২০০৬ সালের ৪ জুন ক্ষমতার শেষ বছরে ২০০৬-২০০৭ অর্থবছরের জন্য ৭০ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। বিশ বছরে বাজেটের আকারে ব্যবধান প্রায় ৯ গুণ।গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ের পর ১১ জুন বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের এটি প্রথম বাজেট।অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ‘অর্থনৈতিক গণতান্ত্রিকীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণ: ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

দুই দশক পর বিএনপি সরকারে নেতৃত্বে এবারের বাজেট নিয়ে সাধারণ মানুষের রয়েছে ‘আকাশচুম্বী’ প্রত্যাশা। বিশেষ করে উচ্চ মূল্যস্ফীতি থেকে রেহাই পেতে চাইবেন তারা। তাছাড়া বাজারে চাপ সহনীয় পর্যায়ে থাকার দাবিও আছে।অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব আদায়ে চাপ, বেসরকারি বিনিয়োগে ধীরগতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে নতুন সরকারের জন্য এ বাজেট একটি বড় পরীক্ষা। সরকারের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার এবং আগামী বছরের নীতিগত দিকনির্দেশনা এ বাজেটের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।

সরকারি সূত্রগুলো বলছে, আগামী অর্থবছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হতে পারে। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে রাখার পরিকল্পনাও বাজেটে প্রতিফলিত হতে পারে।

উন্নয়ন ব্যয়েও বড় ধরনের বরাদ্দের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে প্রায় ১ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ও সহায়তা থেকে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রস্তাবিত বাজেটে আগামী অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ৬৮ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে। একই সাথে বাজেটে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে সাড়ে ৬ শতাংশ।

গত কয়েকবছর ধরে দেশে উচ্চমূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, এ বছর মে মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।এমন প্রেক্ষাপটে বাজেটে মূল্যস্ফীতি সাড়ে সাত শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।এছাড়া বাজেটে উদ্যোক্তা উন্নয়ন তহবিলে ২২৫ কোটি টাকা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য ২ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের প্রস্তাব থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের ঘোষণাও আসতে পারে।

বাজেটের খসড়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সম্প্রসারণ ও ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ তেরটি ইস্যুকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।বিশেষ করে বহুল আলোচিত ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় মোট ১ লাখ ৩৮ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করার কথা রয়েছে নতুন বাজেটে।এদিকে বিবিএস ২০২৫–২৬ অর্থবছরের মাথাপিছু আয় ও মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) যে সাময়িক হিসাব দিয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে দেশের মানুষের মাথাপিছু গড় আয় এখন ৩ হাজার ২০ ডলার। এছাড়া দেশের অর্থনীতির আকারও ৫০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

ঢাবা/আরএইচ

শেয়ার করুন

বড় লক্ষ্য নিয়ে তারেক রহমানের সরকারের প্রথম বাজেট পেশ আজ, গুরুত্ব পাচ্ছে যেসব বিষয়

আপডেট: ১০:৩৮:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

প্রায় দুই দশক পর জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করতে যাচ্ছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। গত ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট এটি। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এ বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

এ বাজেটকে দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত দলিল হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রস্তাবিত এ বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা হতে পারে বলে জানিয়েছে সরকারি বার্তা সংস্থা বাসস। এটিই হবে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট এবং সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার পূরণের চাপ থেকেই বাজেটের আকার এত বড় হচ্ছে বলে আভাস দিয়েছে অর্থবিভাগ।আলোচিত বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে সম্ভাব্য বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।

এর আগে ২০০৬ সালের ৪ জুন ক্ষমতার শেষ বছরে ২০০৬-২০০৭ অর্থবছরের জন্য ৭০ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। বিশ বছরে বাজেটের আকারে ব্যবধান প্রায় ৯ গুণ।গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ের পর ১১ জুন বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের এটি প্রথম বাজেট।অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ‘অর্থনৈতিক গণতান্ত্রিকীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণ: ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

দুই দশক পর বিএনপি সরকারে নেতৃত্বে এবারের বাজেট নিয়ে সাধারণ মানুষের রয়েছে ‘আকাশচুম্বী’ প্রত্যাশা। বিশেষ করে উচ্চ মূল্যস্ফীতি থেকে রেহাই পেতে চাইবেন তারা। তাছাড়া বাজারে চাপ সহনীয় পর্যায়ে থাকার দাবিও আছে।অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব আদায়ে চাপ, বেসরকারি বিনিয়োগে ধীরগতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে নতুন সরকারের জন্য এ বাজেট একটি বড় পরীক্ষা। সরকারের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার এবং আগামী বছরের নীতিগত দিকনির্দেশনা এ বাজেটের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।

সরকারি সূত্রগুলো বলছে, আগামী অর্থবছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হতে পারে। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে রাখার পরিকল্পনাও বাজেটে প্রতিফলিত হতে পারে।

উন্নয়ন ব্যয়েও বড় ধরনের বরাদ্দের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে প্রায় ১ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ও সহায়তা থেকে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রস্তাবিত বাজেটে আগামী অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ৬৮ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে। একই সাথে বাজেটে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে সাড়ে ৬ শতাংশ।

গত কয়েকবছর ধরে দেশে উচ্চমূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, এ বছর মে মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।এমন প্রেক্ষাপটে বাজেটে মূল্যস্ফীতি সাড়ে সাত শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।এছাড়া বাজেটে উদ্যোক্তা উন্নয়ন তহবিলে ২২৫ কোটি টাকা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য ২ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের প্রস্তাব থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের ঘোষণাও আসতে পারে।

বাজেটের খসড়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সম্প্রসারণ ও ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ তেরটি ইস্যুকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।বিশেষ করে বহুল আলোচিত ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় মোট ১ লাখ ৩৮ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করার কথা রয়েছে নতুন বাজেটে।এদিকে বিবিএস ২০২৫–২৬ অর্থবছরের মাথাপিছু আয় ও মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) যে সাময়িক হিসাব দিয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে দেশের মানুষের মাথাপিছু গড় আয় এখন ৩ হাজার ২০ ডলার। এছাড়া দেশের অর্থনীতির আকারও ৫০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

ঢাবা/আরএইচ