ফিনিক্স ফাইন্যান্সের ডিপি সনদ স্থগিত
- আপডেট: ০৫:৩১:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
- / ১০১৭২ বার দেখা হয়েছে
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে সময়মতো নিবন্ধন নবায়ন না করায় তালিকাভুক্ত নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ফিনিক্স ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের ডিপোজিটরি পার্টিসিপেন্ট (ডিপি) নিবন্ধন সনদ স্থগিত করেছে সেন্ট্রাল ডিপজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল)।
গত ১২ আগস্ট থেকে এ স্থগিতাদেশ কার্যকর হয়েছে। এর আগের দিন ১১ আগস্ট ফিনিক্স ফাইন্যান্সের ডিপোজিটরি পার্টিসিপেন্ট লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়। সিডিবিএল থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে পাঠানো চিঠিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
সিডিবিএল জানিয়েছে, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ফিনিক্স ফাইন্যান্সের ডিপি নিবন্ধন স্থগিত থাকবে।
ডিপোজিটরি পার্টিসিপেন্ট লাইসেন্সের আওতায় বিনিয়োগকারীদের বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব খোলা, পরিচালনা ও বন্ধ করা, কাগজের শেয়ার ইলেকট্রনিক শেয়ারে রূপান্তর, ইলেকট্রনিক সিকিউরিটিজ হস্তান্তর ও নিষ্পত্তি এবং ক্লিয়ারিং ও কাস্টডি সেবা দেওয়া যায়।
ফিনিক্স ফাইন্যান্সের সিডিবিএলের অধীনে ডিপি লাইসেন্স ছিল। এই লাইসেন্সের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব সিকিউরিটিজ হিসাব পরিচালনার পাশাপাশি গ্রাহকদের কাস্টডি সেবা এবং স্টকব্রোকার ও ডিলারদের ক্লিয়ারিং হিসাব পরিচালনা করতে পারত। ফলে নিবন্ধন স্থগিত হওয়ায় নবায়ন না হওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি ডিপি-সংক্রান্ত এসব সেবা দিতে পারবে না।
ডিপোজিটরি (ইউজার) রেগুলেশনস-২০০৩-এর ৩০(৬) ধারায় নির্ধারিত ফি দিয়ে প্রয়োজনীয় আবেদন ও কাগজপত্র জমা দিয়ে ডিপি নিবন্ধন নবায়নের বিধান রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, নিবন্ধনের মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত এক মাস আগে নবায়নের আবেদন করতে হয়। নির্ধারিত সময়ের পর আবেদন করলে প্রতিদিন ৫০০ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।তবে ফিনিক্স ফাইন্যান্স নিবন্ধনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে তো নয়ই, মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে নবায়নের আবেদন করেনি। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটির ডিপি সনদ স্থগিত করা হয়েছে।
ডিপি সনদ স্থগিত হওয়ার সময়ে গুরুতর আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ফিনিক্স ফাইন্যান্স। নিরীক্ষকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটির নিট লোকসান হয়েছে ৩৩৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা। একই বছরের ৩১ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটির নিট সম্পদের পরিমাণ ঋণাত্মক ছিল ১ হাজার ৬৯৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।
প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে নিরীক্ষক সম্পদ ও দায়ের মেয়াদ কাঠামোও পর্যালোচনা করেন। এতে তারল্য ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের অসামঞ্জস্যের চিত্র উঠে এসেছে।
নিরীক্ষা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর ফিনিক্স ফাইন্যান্সের নিট তারল্য ঘাটতি ছিল ১ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটির অর্থায়নে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে।
নিরীক্ষকের মতে, এসব পরিস্থিতি প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম অব্যাহত রাখার সক্ষমতা নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটির ‘গোয়িং কনসার্ন’ হিসেবে টিকে থাকা নিয়েও যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।
ঢাকা/এসআর


































