সুইস ব্যাংকের কাছে ৬৭ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের তথ্য চেয়েছিল বাংলাদেশ
- আপডেট: ১০:৪৮:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ অগাস্ট ২০২২
- / ১০৩৮৩ বার দেখা হয়েছে
বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থ জমা সংক্রান্ত তথ্য বিভিন্ন সময়ে দেশটির আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা এফআইইউয়ের কাছে চাওয়া হয়েছিল। সর্বশেষ গত ১৭ জুন এফআইউয়ের কাছে এ সংক্রান্ত তথ্য চেয়েছিল বাংলাদেশের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বিএফআইইউ। সোমবার হাইকোর্টে বিএফআইউ এবং দুদকের পৃথক প্রতিবেদনটি এফিডেভিড আকারে জমা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০১৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত সুইস ব্যাংকের কাছে বাংলাদেশের ৬৭ জনের তথ্য চাওয়া হয়েছে। সেখানে এ পর্যন্ত মাত্র ১ জনের তথ্য পাওয়া গেছে।
অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুক–টুইটার–লিংকডইন–ইন্সটাগ্রাম–ইউটিউব
উল্লেখ্য, গত ১৪ আগস্ট হাইকোর্টের এই বেঞ্চে প্রতিবেদনের বিষয়টি অবহিত করা হয়েছিল এবং তা আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপনের জন্য মঙ্গলবার (আজ) দিন ধার্য আছে। গত ১৪ আগস্ট অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর থেকে হাইকোর্টে বিএফআইউর ওই প্রতিবেদনের তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থজমা সংক্রান্ত তথ্য বিভিন্ন সময়ে দেশটির আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা এফআইইউয়ের কাছে চাওয়া হয়েছিল। সর্বশেষ গত ১৭ জুন এফআইউয়ের কাছে এ সংক্রান্ত তথ্য চেয়েছিল বাংলাদেশের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বিএফআইইউ। গত ১৪ জুন দুর্নীতি দমন কমিশন এবং রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে এ বিষয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এর সঙ্গে সুইস রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য সাংঘর্ষিক বলে মন্তব্য করেন হাইকোর্ট।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক বলেন, ‘সুইস ব্যাংকের কাছে বাংলাদেশের ৬৭ জনের তথ্য চাওয়া হয়েছে ২০১৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত। সেখানে এ যাবত মাত্র ১ জনের তথ্য পাওয়া গেছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন আমাদের হাতে এসেছিল। আপনারা (গণমাধ্যম) এ নিয়ে নিউজও করেছিলেন। তখন (১৪ আগস্ট) আমরা আদালতকে প্রতিবেদনের বিষয়টি অবহিত করেছিলাম। আদালত বলেছিলেন, প্রতিবেদনটি এফিডেভিড করে জমা দিতে। সেজন্য কাল মঙ্গলবার মামলাটি আদেশের জন্য ধার্য আছে। এদিন দুদক এবং রাষ্ট্রপক্ষ প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করবে। বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াত সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।
অর্থপাচার ও সন্ত্রাসীকাজে অর্থায়ন প্রতিরোধ, অনুসন্ধান ও তদন্তের জন্য বিএফআইইউ বিদেশি এফআইইউদের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান করে থাকে। তবে বিশ্বব্যাপী এসব তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যম হলো এগমন্ড সিকিউর ওয়েব (ইএসডব্লিউ)। ২০১৩ সালের জুলাইতে ইএসডব্লিউয়ের সদস্য হওয়ার পর চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ৬৭ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তথ্য চায় বাংলাদেশ। ইএসডব্লিউয়ের মাধ্যমে সুইজারল্যান্ডের এফআইইউকে এ তথ্য দিতে অনুরোধ করা হয়। কিন্তু একজন ছাড়া অন্যদের বিষয়ে কোনো তথ্য নেই বলে জানায় সুইজারল্যান্ড। আর এ একজনের তথ্য দুদককে দিয়েছে বিএফআইইউ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুইস ব্যাংক চলতি বছরের ১৬ জুন বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। পরদিন এগমন্ড সিকিউর ওয়েবের (ইএসডব্লিউ) মাধ্যমে সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশি ব্যাংক ও ব্যক্তির জমানো অর্থের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহের জন্য সুইজারল্যান্ডের এফআইইউকে (ফিনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট) অনুরোধ করা হয়। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য পায়নি বাংলাদেশ। গত ১০ আগস্ট সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকার বিষয়ে বাংলাদেশ নির্দিষ্ট কোনো তথ্য চায়নি বলে জানান ঢাকায় নিযুক্ত সুইস রাষ্ট্রদূত নাথালি চুয়ার্ড।
আরো পড়ুন: সরকারের তিন প্রতিষ্ঠানে নতুন ডিজি
ঢাকা/এসএ































