ব্যাংক খাতে এক বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২ লাখ কোটি টাকা
- আপডেট: ১০:৩২:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
- / ১০১৭৩ বার দেখা হয়েছে
ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের মধ্যে আদায় অযোগ্য মন্দ ঋণ ক্যানসারের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। খেলাপি ঋণের ৯৪ শতাংশই মন্দ ঋণে পরিণত হয়েছে। এসব ঋণ আদায়ের সম্ভাবনা যেমন কম, তেমনি ঋণের বিপরীতে পর্যাপ্ত জামানতও নেই। এ ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে শতভাগ প্রভিশন রাখতে হচ্ছে। কিন্তু ব্যাংকগুলোর আয় কমায় এ খাতে যথেষ্ট প্রভিশনও রাখতে পারছে না। ফলে মন্দ হিসাবে চিহ্নিত ঋণের বড় অংশই ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে।এসব ঋণের বড় অংশই বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংক থেকে নেওয়া হয়েছে। যার বড় অংশ বিদেশে পাচার হয়ে গেছে।
মঙ্গলবার গভর্নর অনুমোদিত খেলাপি ঋণবিষয়ক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, মার্চে ব্যাংকগুলোতে মন্দ ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৫২ হাজার কোটি টাকা। যা মোট খেলাপি ঋণের ৯৪ শতাংশ। অর্থাৎ খেলাপি ঋণের মধ্যে ৯৪ শতাংশ ঋণই আদায় অযোগ্য ঋণে পরিণত হয়েছে। যা ব্যাংকগুলোর জন্য বড় ধরনের বোঝার সৃষ্টি করেছে। শুধু মন্দ ঋণের বৃদ্ধিই কেবলমাত্র একক বোঝা নয়। এর সঙ্গে আরও বহুমুখী বোঝা যুক্ত হয়েছে।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী মন্দ ঋণের বিপরীতে শতভাগ প্রভিশন রাখতে হয়। ফলে ওই পরিমাণ মন্দ ঋণের বিপরীতে ৫ লাখ ৫২ হাজার কোটি টাকা প্রভিশন রাখতে হচ্ছে। কিন্তু ব্যাংকগুলোর কাছে যথেষ্ট অর্থ নেই বলে এসব খাতে প্রভিশন যথাযথভাবে রাখতে পারছে না। ফলে ব্যাংকগুলোতে প্রভিশন ঘাটতি বেড়ে ২ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
এছাড়া এসব ঋণ ব্যবস্থাপনা করতে গিয়ে ব্যাংকগুলোকে আরও অর্থ খরচ করতে হচ্ছে। এসব ঋণের বিপরীতে এক দিকে ব্যাংকগুলোর যেমন কোনো আয় নেই, অন্যদিকে এগুলোর ব্যবস্থাপনা খাতে বাড়তি অর্থ খরচ ও প্রভিশন রাখতে গিয়ে ব্যাংকগুলোর সাড়ে ৫ লাখ কোটি টাকার বেশি অর্থ আটকে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ব্যাংকগুলোকে এখন প্রতি বছর অর্জিত মুনাফা থেকে এ খাতে প্রভিশন রাখতে হচ্ছে। ফলে শেয়ারহোল্ডারদের ব্যাংকগুলো লভ্যাংশ দিতে পারছে না। এসব ঋণের কারণে ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতিও বেড়ে গেছে। সব মিলে ব্যাংকগুলোর ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। খেলাপি ঋণের তিনটি শ্রেণি রয়েছে। প্রথম ধাপে নিম্নমান, এর বিপরীতে ২০ শতাংশ প্রভিশন রাখতে হয়, দ্বিতীয় ধাপে সন্দেহজনক, এর বিপরীতে ৫০ শতাংশ প্রভিশন রাখতে হয়। তৃতীয় ধাপে মন্দ ঋণ, এর বিপরীতে শতভাগ প্রভিশন রাখতে হয়। একদিকে মোট খেলাপির মধ্যে মন্দ ঋণই ৯৪ শতাংশ। অন্যদিকে এর বিপরীতে শতভাগ প্রভিশন রাখার নিয়ম। ফলে ব্যাংক খাতে মন্দ ঋণ ক্যানসারের মতো ক্ষতের সৃষ্টি করেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণত কোনো খেলাপি ঋণ দুই বছর আদায় বা নবায়ন করা না হলে বা জাল জালিয়াতির মাধ্যমে ঋণ বিতরণ করা হলে কিংবা ঋণের টাকা বিদেশে পাচার হয়ে গেলে বা ঋণের বিপরীতে কোনো জামানত না থাকলে ওই ধরনের ঋণকে সরাসরি মন্দ হিসাবে চিহ্নিত করতে হয়। নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংকগুলো ওইসব ঋণ মন্দ হিসাবে চিহ্নিত করে বিপাকে পড়েছে।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বরে মন্দ ঋণের স্থিতি ছিল ৫ লাখ ২৪ হাজার কোটি টাকা। গত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত এ তিন মাসের ব্যবধানে মন্দ ঋণ বেড়েছে ২৮ হাজার কোটি টাকা। গত বছরের মার্চে মন্দ ঋণের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। এ হিসাবে এক বছরে মন্দ ঋণ বেড়েছে ২ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা।
ঢাকা/আরএইচ






































