ফ্লোর প্রাইস যুগের অবসান: মুক্ত হলো ইসলামী ব্যাংক ও বেক্সিমকোর শেয়ার
- আপডেট: ১০:২৪:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
- / ১০১৭৪ বার দেখা হয়েছে
দেশের শেয়ারবাজারে দীর্ঘদিন ধরে বহাল থাকা ফ্লোর প্রাইস ব্যবস্থার সম্পূর্ণ অবসান হতে যাচ্ছে। অবশেষে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি ও বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ারের ওপর আরোপিত ফ্লোর প্রাইস (সর্বনিম্ন মূল্যসীমা) প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (৮ জুন) অনুষ্ঠিতব্য বিশেষ কমিশন সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দেশের শেয়ারবাজারে আর কোনো কোম্পানির শেয়ারের ওপর ফ্লোর প্রাইস বহাল থাকবে না।
বর্তমানে বেক্সিমকোর শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস রয়েছে ১১০ দশমিক ১০ টাকা এবং ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস ৩২ দশমিক ৬০ টাকা। ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার করা হলে এ দুই কোম্পানির শেয়ারের দাম বাজারের চাহিদা ও জোগানের ভিত্তিতে স্বাভাবিকভাবে ওঠানামা করতে পারবে।এ বিষয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “শিগগিরই দুই কোম্পানির শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়া হবে। সেটা সোমবার বা মঙ্গলবারও হতে পারে।” এর আগে রোববার (৭ জুন) বিএসইসির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মাসুদ খান-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা। ওই বৈঠকে চেয়ারম্যান জানান, শেয়ারবাজারে আর কোনো ফ্লোর প্রাইস রাখা হবে না এবং খুব শিগগিরই অবশিষ্ট ফ্লোর প্রাইসও তুলে নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, করোনা মহামারির শুরুতে শেয়ারবাজারে অস্বাভাবিক দরপতন ঠেকাতে ২০২০ সালের ১৯ মার্চ ফ্লোর প্রাইস ব্যবস্থা চালু করে বিএসইসি। তৎকালীন চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম-এর নেতৃত্বে নেওয়া এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিভিন্ন শেয়ারের দামের একটি সর্বনিম্ন সীমা নির্ধারণ করা হয়, যার নিচে শেয়ারের দর নামতে পারত না।পরবর্তী সময়ে বাজার পরিস্থিতির উন্নতি এবং স্বাভাবিক লেনদেন নিশ্চিত করতে ধাপে ধাপে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়া হয়। তবে ইসলামী ব্যাংক ও বেক্সিমকোর শেয়ারের ক্ষেত্রে এ বিধিনিষেধ বহাল রাখা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে এ দুই শেয়ারে ফ্লোর প্রাইস বহাল থাকায় স্বাভাবিক লেনদেন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে বাজারসংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করে আসছিলেন।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, অবশিষ্ট দুই কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার হলে শেয়ারবাজারে মূল্য নির্ধারণের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হবে এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাজারে তারল্য ও লেনদেনের গতি বাড়তে পারে।
ঢাকা/আরএইচ


































