১১:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

বাণিজ্যিক উৎপাদনে আসছে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলের সোলার প্লান্ট

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ১০:৫৬:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২২
  • / ১০৫৫৫ বার দেখা হয়েছে

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল পিএলসির সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইন্ট্রাকো সোলার পাওয়ার লিমিটেড খুব শিগগির বাণিজ্যিক উৎপাদনে আসছে। এজন্য সব ধরণের প্রস্তুতি শেষ করছে প্রতিষ্ঠানটি। ইতোমধ্যে বিষয়টি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (বিপিডিবি) জানিয়েছে। বিপিডিবি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

সূত্র জানায়, ১২০ একর আয়তনের সোলার প্লান্টটির অবস্থান লালমনিরহাটের কালিগঞ্জে। ২০১৬ সালের ১৮ এপ্রিল কোম্পানিটিকে ‘লেটার অব ইনটেন্ট’ (এলওআই) দেওয়া হয়। পিডিবির সাথে কোম্পানিটি ২০১৭ সালের ২৭ আগস্ট বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি (পিপিএ) করে।

ইন্ট্রাকো সোলার পাওয়ার কোম্পানি ৩০ মেগওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কোম্পানি। প্রতিষ্ঠানটির ৮০ শতাংশ শেয়ারের মালিক প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল লিমিটেড।

সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে প্লান্টির মিটারিং এর কাজ শেষ। জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামুলকভাবে প্রায় ৩৫ মেগওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত করা হয়েছে। খুব শিগগির সিওডি করা হবে। এর পরই বাণিজিক কার্যক্রম চালু করতে পারবে প্রতিষ্ঠানটি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিপিডিবির উর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, ইন্ট্রাকো সোলার পাওয়ার গত জুলাই মাসের ১৭ তারিখে বিপিডিবিতে আবেদন করেছে। তার প্রেক্ষিতে আমরা কোম্পানিটির ব্যাকপিড বা মিটারিং এর কাজ শেষ করেছি। তবে কতদিনের মধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হবে তা বলতে পারবে আইপি সেলের কর্মকর্তারা।

অপরদিকে, ইন্ট্রাকো সোলারের কোম্পানি সচিব রবিউল ইসলাম বলেন, আমাদের জায়গা থেকে মিটারিংসহ আনুষঙ্গিক সকল কাজ সম্পূর্ণ করা হয়েছে। বিপিডিবির অনুমতি সাপেক্ষে আমরা এ বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দিতে প্রস্তুত আছি। কোম্পানির যা আপডেট ছিলো, তা নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, ইন্ট্রাকো গ্রুপের একটি কোম্পানি ইন্ট্রাকো রিফোয়েলিংক স্টেশন পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রয়েছে। ইন্ট্রাকো সিএনজির সাথে ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশনের মালিকানার কোন সম্পর্ক নেই।

আরও দুই প্লান্ট আছে পিটিএলের: প্যারামাউন্ট বস্ত্র খাতের হলেও তাদের মালিকানায় আরও দুটি প্লান্ট রয়েছে। এগুলো হলো- এইচএফও এবং সৌর পাওয়ার প্লান্ট।

প্যারামাউন্ট বিটেক এনার্জি: সিরজাঞ্জের বাগাবাড়িতে এইচএফও ২০০ মেগওয়াটের একটি পাওয়ার প্লান্ট রয়েছে। এই কোম্পানির ৪৯ শতাংশ শেয়ারের মালিক প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল লিমিটেডে।

প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলের পরিচালনা পর্ষদ ডায়নামিক সান এনার্জি পাওয়ার লিমিটেডের ৪৯ শতাংশ শেয়ার কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ১১ এপ্রিল কোম্পানির পর্ষদ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কোম্পানি সূত্র জানায়, পাবনা সদরের ভবানীপুর ও রতনপুর মৌজায় ডায়নামিক সান এনার্জি পাওয়ার ১০০ মেগওয়াট সৌর পাওয়ার প্লান্ট করছে। এই কোম্পানিরর ৪৯ শতাংশ অধিগ্রহণ করবে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল। প্লান্টি করার জন্য খরচ হবে এক হাজার তিনশত কোটি টাকা। এই প্লান্টের মেয়াদ হবে ২০ বছর।

আর্থিক অবস্থা: ২০১৩ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল লিমিটেড। কোম্পানিটির ৬০ দশমিক ৯৬ শতাংশ শেয়ার রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। বাকী শেয়ারের মধ্যে প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে ৪ দশমিক ১৬ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ২৬ দশমিক ৪০ শতাংশ শেয়ার।

৩০ জুন, ২০১৯ অর্থ বছেরর আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য২০ শতাংশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে।

এই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ৪ টাকা ৪৬ পয়সা। একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সম্পদ (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৪ টাকা ২৬ পয়সা।

ঢাকা/টিএ

শেয়ার করুন

বাণিজ্যিক উৎপাদনে আসছে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলের সোলার প্লান্ট

আপডেট: ১০:৫৬:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২২

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল পিএলসির সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইন্ট্রাকো সোলার পাওয়ার লিমিটেড খুব শিগগির বাণিজ্যিক উৎপাদনে আসছে। এজন্য সব ধরণের প্রস্তুতি শেষ করছে প্রতিষ্ঠানটি। ইতোমধ্যে বিষয়টি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (বিপিডিবি) জানিয়েছে। বিপিডিবি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

সূত্র জানায়, ১২০ একর আয়তনের সোলার প্লান্টটির অবস্থান লালমনিরহাটের কালিগঞ্জে। ২০১৬ সালের ১৮ এপ্রিল কোম্পানিটিকে ‘লেটার অব ইনটেন্ট’ (এলওআই) দেওয়া হয়। পিডিবির সাথে কোম্পানিটি ২০১৭ সালের ২৭ আগস্ট বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি (পিপিএ) করে।

ইন্ট্রাকো সোলার পাওয়ার কোম্পানি ৩০ মেগওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কোম্পানি। প্রতিষ্ঠানটির ৮০ শতাংশ শেয়ারের মালিক প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল লিমিটেড।

সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে প্লান্টির মিটারিং এর কাজ শেষ। জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামুলকভাবে প্রায় ৩৫ মেগওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত করা হয়েছে। খুব শিগগির সিওডি করা হবে। এর পরই বাণিজিক কার্যক্রম চালু করতে পারবে প্রতিষ্ঠানটি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিপিডিবির উর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, ইন্ট্রাকো সোলার পাওয়ার গত জুলাই মাসের ১৭ তারিখে বিপিডিবিতে আবেদন করেছে। তার প্রেক্ষিতে আমরা কোম্পানিটির ব্যাকপিড বা মিটারিং এর কাজ শেষ করেছি। তবে কতদিনের মধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হবে তা বলতে পারবে আইপি সেলের কর্মকর্তারা।

অপরদিকে, ইন্ট্রাকো সোলারের কোম্পানি সচিব রবিউল ইসলাম বলেন, আমাদের জায়গা থেকে মিটারিংসহ আনুষঙ্গিক সকল কাজ সম্পূর্ণ করা হয়েছে। বিপিডিবির অনুমতি সাপেক্ষে আমরা এ বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দিতে প্রস্তুত আছি। কোম্পানির যা আপডেট ছিলো, তা নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, ইন্ট্রাকো গ্রুপের একটি কোম্পানি ইন্ট্রাকো রিফোয়েলিংক স্টেশন পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রয়েছে। ইন্ট্রাকো সিএনজির সাথে ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশনের মালিকানার কোন সম্পর্ক নেই।

আরও দুই প্লান্ট আছে পিটিএলের: প্যারামাউন্ট বস্ত্র খাতের হলেও তাদের মালিকানায় আরও দুটি প্লান্ট রয়েছে। এগুলো হলো- এইচএফও এবং সৌর পাওয়ার প্লান্ট।

প্যারামাউন্ট বিটেক এনার্জি: সিরজাঞ্জের বাগাবাড়িতে এইচএফও ২০০ মেগওয়াটের একটি পাওয়ার প্লান্ট রয়েছে। এই কোম্পানির ৪৯ শতাংশ শেয়ারের মালিক প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল লিমিটেডে।

প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলের পরিচালনা পর্ষদ ডায়নামিক সান এনার্জি পাওয়ার লিমিটেডের ৪৯ শতাংশ শেয়ার কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ১১ এপ্রিল কোম্পানির পর্ষদ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কোম্পানি সূত্র জানায়, পাবনা সদরের ভবানীপুর ও রতনপুর মৌজায় ডায়নামিক সান এনার্জি পাওয়ার ১০০ মেগওয়াট সৌর পাওয়ার প্লান্ট করছে। এই কোম্পানিরর ৪৯ শতাংশ অধিগ্রহণ করবে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল। প্লান্টি করার জন্য খরচ হবে এক হাজার তিনশত কোটি টাকা। এই প্লান্টের মেয়াদ হবে ২০ বছর।

আর্থিক অবস্থা: ২০১৩ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল লিমিটেড। কোম্পানিটির ৬০ দশমিক ৯৬ শতাংশ শেয়ার রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। বাকী শেয়ারের মধ্যে প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে ৪ দশমিক ১৬ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ২৬ দশমিক ৪০ শতাংশ শেয়ার।

৩০ জুন, ২০১৯ অর্থ বছেরর আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য২০ শতাংশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে।

এই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ৪ টাকা ৪৬ পয়সা। একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সম্পদ (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৪ টাকা ২৬ পয়সা।

ঢাকা/টিএ