০১:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

অবশেষে তালিকাভুক্ত ৪ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের অনুমোদন

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ১০:২২:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
  • / ১০৩৮৮ বার দেখা হয়েছে

তালিকাভুক্ত ৪ টিসহ পাঁচ নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধ বা অবসায়নের প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। আগামী জুলাই থেকে এসব প্রতিষ্ঠানগুলোর অবসায়ন কার্যক্রম শুরু হতে পারে।

বন্ধের তালিকায় রয়েছে এফএএস ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং। অর্থাৎ কোম্পানিগুলোর মাঝে ৪ টিই দেশের পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার ৯৩ শতাংশ থেকে প্রায় ১০০ শতাংশে পৌঁছেছে। দীর্ঘদিন ধরে ঋণের অর্থ আদায় করতে না পারায় আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতেও ব্যর্থ হয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক রেজুলেশন আইনের আওতায় প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ বা অবসায়ন করা হবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন পরিচালককে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি আরও দুজন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর ঘোষণা করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, ব্যক্তি আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। এ অর্থ আগামী বাজেটে বরাদ্দ দেওয়ার আশ্বাস পাওয়ার পরই অবসায়ন প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গত বছর উচ্চ খেলাপি ঋণ ও আমানত ফেরতে ব্যর্থ হওয়ায় ২০টি এনবিএফআইকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পরে কয়েক ধাপে যাচাই-বাছাই শেষে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা ভেঙে পড়ে। বিশেষ করে পিকে হালদারের বিরুদ্ধে কয়েকটি এনবিএফআই থেকে হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে, যা এ সংকটকে আরও গভীর করেছে।

ঢাকা/এসএইচ

শেয়ার করুন

error: Content is protected ! Please Don't Try!

অবশেষে তালিকাভুক্ত ৪ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের অনুমোদন

আপডেট: ১০:২২:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

তালিকাভুক্ত ৪ টিসহ পাঁচ নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধ বা অবসায়নের প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। আগামী জুলাই থেকে এসব প্রতিষ্ঠানগুলোর অবসায়ন কার্যক্রম শুরু হতে পারে।

বন্ধের তালিকায় রয়েছে এফএএস ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং। অর্থাৎ কোম্পানিগুলোর মাঝে ৪ টিই দেশের পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার ৯৩ শতাংশ থেকে প্রায় ১০০ শতাংশে পৌঁছেছে। দীর্ঘদিন ধরে ঋণের অর্থ আদায় করতে না পারায় আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতেও ব্যর্থ হয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক রেজুলেশন আইনের আওতায় প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ বা অবসায়ন করা হবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন পরিচালককে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি আরও দুজন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর ঘোষণা করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, ব্যক্তি আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। এ অর্থ আগামী বাজেটে বরাদ্দ দেওয়ার আশ্বাস পাওয়ার পরই অবসায়ন প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গত বছর উচ্চ খেলাপি ঋণ ও আমানত ফেরতে ব্যর্থ হওয়ায় ২০টি এনবিএফআইকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পরে কয়েক ধাপে যাচাই-বাছাই শেষে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা ভেঙে পড়ে। বিশেষ করে পিকে হালদারের বিরুদ্ধে কয়েকটি এনবিএফআই থেকে হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে, যা এ সংকটকে আরও গভীর করেছে।

ঢাকা/এসএইচ