অপরিবর্তিত থাকছে কর্পোরেট করহার
- আপডেট: ০৫:২০:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
- / ১০১৭৯ বার দেখা হয়েছে
শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে করপোরেট করের হার অপরিবর্তিত রাখার পরিকল্পনা করছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।প্রস্তাবিত বাজেটে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে আগের মতোই করপোরেট করহার বহাল রাখা হয়েছে। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার ২৫ শতাংশ এবং অতালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার ২৭ দশমিক ৫ শতাংশই থাকছে। তবে নতুন সংযোজন হিসেবে, আইপিওর পাশাপাশি সরাসরি তালিকাভুক্ত হয়ে পরিশোধিত মূলধনের ন্যূনতম ১০ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করলে করহার হবে ২২ দশমিক ৫ শতাংশ। এ ধরনের কোম্পানির সব আয় ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন হলে করহার কমে হবে ২০ শতাংশ।
অতালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রেও সব লেনদেন ব্যাংকের মাধ্যমে সম্পন্ন করলে করহার হবে ২৫ শতাংশ। ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হলে করহার ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং তালিকাভুক্ত না হলে আগের মতোই ৪০ শতাংশ বহাল থাকবে। এ ছাড়া সিগারেট, বিড়ি, জর্দা, গুলসহ সব ধরনের তামাকজাত পণ্য উৎপাদনকারী কোম্পানির জন্য সর্বোচ্চ ৪৫ শতাংশ করহার অপরিবর্তিত রাখা হচ্ছে। এর সঙ্গে অতিরিক্ত ২ দশমিক ৫ শতাংশ সারচার্জও যুক্ত থাকবে।
তবে মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলোকে অধিক পরিমাণ শেয়ার ছাড়তে উৎসাহিত করতে কর রেয়াত দেওয়ার প্রস্তাব করা হতে পারে। খসড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোনো মোবাইল কোম্পানি আইপিওর মাধ্যমে কমপক্ষে ২০ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করলে সংশ্লিষ্ট বছরে প্রযোজ্য আয়করের ওপর ১০ শতাংশ হারে রেয়াত দেওয়া হবে।
অর্থমন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, করপোরেট কর পরিপালন ব্যবস্থা সহজ ও ব্যবসাবান্ধব করা, অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল ও কর পরিশোধের ব্যবস্থা চালু করা, অতিরিক্ত নিয়মের বেড়াজাল থেকে করদাতাদের স্বস্তি দেওয়া এবং ব্যবসার অনুমোদনযোগ্য খরচ বাড়ানোর মাধ্যমে করদাতাদের করভার কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অডিটের জন্য কর মামলা নির্বাচন এবং উৎসে কর যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও স্বয়ংক্রিয় করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যমেয়াদে নির্দিষ্ট হারে কর দেওয়ার নিশ্চয়তা দিতে বিদ্যমান করপোরেট করহার আগামী কর বছরেও অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে করের আওতা বাড়িয়ে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায়ের মাধ্যমে ধীরে ধীরে করহার কমানোর চেষ্টা করা হবে।
‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভূক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’- প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। বাজেটের বিশাল এই ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক-দুই উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে।
প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার অর্থ সংগ্রহ করা হবে।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এই বাজেট প্রস্তাব পেশ করা হবে। এটি দেশের ৫৫তম বাজেট। এছাড়া বর্তমান সরকারের মেয়াদে অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি আমির খসরুর প্রথম বাজেট উপস্থাপন। নিয়ম অনুযায়ী, সংসদে উপস্থাপনের আগে বাজেটটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে এবং পরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এতে সম্মতি জানান। ১ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে নতুন এই অর্থবছর।
ঢাকা/আরএইচ



































